আপডেট ১ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১২ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ মুক্তমত

Share Button

ছিলটি বয়ান-১

| ০৬:৫১, জুলাই ৯, ২০১৯

আমরার ছিলটর আঞ্চলিক ভাষায় ডাখর একটা কথা আছে ‘ঠেখলে তিন মাথাউলির গেছে যাইও’। আর আগর আমলর সমাজর হাল হকিকত, চাল চলন, কায় কারবার, ইতা তিন মাথাউলির গেছে গিয়া নিরাই কানদাত বইয়া জিকা করলে আর নায় মনো করাইয়া দিলে হুনা যায় কতো জাতর টেংগা মিঠা রস কষর কথা। তারা কফাল ছিরইয়া কথা কইন। হুনতানি ইতা গফ।

তে হুনউকা। ‘আফথে পথ অইবো, আঘাটে ঘাট অইবো, আমানুষ মানুষ অইবো।’ ইতা বুলে ডাখর কথা। কেউ কেউ কইন কিয়ামতর আলামত। তুকাইয়া দেখি তারার কথা বাক্কাজাগাত মিলিযায়। আপথে কতো পথ অইছে আর আঘাটে কতো ঘাট অইছে ইতাতো হকলরঅউ জানা। আমানুষ মানুষ অইছইন কি না ইতা সমঝদার পাঠক হকলে কইতা পারবা। আমি কইবার কাম নাই। তবে তিন মাথাউলির কানদাত গেলে তারা ছকুত আঙ্গুইল দিয়া দেখাইয়া দেইন ইতা। তারা কইন দেখছোনি নাতী আগে অমুকর পুয়া কিতা আছিল আর অনকু কিতা অইছে। তার বাপ-দাদা, পই-দাদা, লাক্ষড়-দাদা কিতা আছিল কিতা করইয়া গেলো ইতার আত ভড় হকলতা আমরার জানা। পয়সা দুইটা অইগেছেকরি অখন দেখরায়নি কিতা করের। খালি হইরোলুটি লাখান নাছে। ভুবনও পাও ধরায়না। মাইনষরে মানুষ করি কয়না। তার হাবি গুষ্টিয়ে হারা জীবন কিতা করইয়া গেলা ইতা যুদি ভাঙ্গিয়া কই তে মুখ দেখাইতো পারবনি। কও ছাইন নাতী। টেখাতো ছামাররওউ অয়। টেখা তিনটা অইলোকরি ছউক উল্টাইলিতোনি। মানুষ উনুস যেমন তার ছকুত লাগেনা। ইতা ভালা নায়। বিয়ানে বাশশা বিয়ালে হকির। আল্লায় কারে কুন সময় কিতা করবা কইতায় পারবায়নি। আল্লায় তান বন্দারে ধন ছামান ক্ষমতা আর প্রভাব প্রতিপত্তি দিয়া পরীক্ষা করইন। আগর আমলোর কিছু কথা এবলা হুনো। হি সময় আছার বিছারো যাইতা দাঁড়িপাকনা মুরব্বীহখল। আর অখন বুড়াইনতর দাম নাই। হকল ছাবাল আর ডেম মুরববী অইগেছইনগি দানা। এর লাগি আমরা শরমাইয়া আর বিছার আছারও যাইনা। টাল্টি বাল্টি মাথ, অনর কথা হনো লাগানি, টেখারগেছে বিকি খাওয়া ইতা হুনতামও পারিনা দেখতামও পারিনা। আটুর রুমা কালা অইবার আগে বিছারো গিয়া আগর কাতারো বইযায়। ময় মুরব্বী হকলর সামনে বিড়ি সিগরেটও টানে, ধুমাও ছাড়ে। ইতার ঢাফর মাথ হুনলে খালি খাউছ উঠে। বাপ ছাছারে বুলে কয় ‘তুমরা ইতা বুঝতায় নায়’। আমি কই এ মাখালর মাখাল। তুই তোর বাপ ছাছারে যেতা কইরে তোর পুয়ায় তোরে কাইল বাদ ফরুদিননু ইতা কইদিবো। দুনিয়ার ধার দুনিয়াত ফুজে। ইতা জানছনি। কথা গেছেগি ফাতারেদি। আল্লায় বাছাইলে ইতা আরকদিন কইমুনে।

মৌসুমী কথা থুড়া কইদেনো। পয়লা বৈশাগ পানিভাত আর ইলিশা মাছ মাটির হাংকী আর কলাপাতাত খাইবার লাগি কতজনে ঠেলাঠেলি লাগাইন। কতোজাতর হাজা হাজইন। আমরার জাতীয় মাছ ইলিশা। এর লাগি ইলিশার আদিঅন্ত সম্পর্কে কিছু কওয়া দরকার।

আগর আমলো ইলিশা মাছ আছিল গরিবহকলর মাছ। যারার টেখা পয়সা কম দিনমজুর তারা বাজারো গেলে কম পয়সার মাছ ইলিশা তুকাইতা। আর ধনিহকলে রউ বাউস মিরকা গোয়াল ছিতল আইড় গুজা পাঙ্গাস হউল গজার বড়োবাইং ঘনইয়া কালিয়ারা কাংলা এলং পুটা লাছো মাগুর হিংগি পাবইয়া ইতা নিতা। যেরা খেত খামার করইয়া হারা বছর ঘরর খাইয়া বাড়তি ধান চাউল বেছতা পারতা এরাউ আছলা বড়ো ধনি। যেরা বালু পাত্থরর নাও বাইতা তারা হিলা ধনী আছলানা। তারা বাজার থাকি ইলিশা মাছ লইয়া নাওয়ো রানতা। নাও বাইয়া যাইবার সময় যে ঘরান বারইতো ইলিশার বাঘারর ঘরান। নদীর পারতনে নাকো গিয়া যে মজার ঘরান লাগতো। ইলিশা মাছ রানবার আগে বিরান করতা। ইলিশার তেল দিয়াউ ইলিশা বিরান করা যাইতো। চানপুরী ছন্দনা ইলিশার মাঝে যে তেল আছিল। বিরানর বাদে ছালম রানতা। নিল্লা আর নায় মুকি দিয়া ইলিশার ছালম রানলে সিরা দিয়া পেট ভরইয়া ভাত খাওয়া যাইতো। আর বড় বড় পেটি যে মজা লাগত ইতা মনো অইলে অখন জিফরার পানি টফ টফাইয়া পড়ে। বেশির ভাগ মানুষ ইলিশা লইবার সময় ছন্দনা ইলিশা তুকাইয়া কিনতা। ছন্দনা ইলিশাত তেল অইতো বেশি। আর কেউ কেউ এন্ডাউলি ইলিশা পছন করতা ইলিশার ডিম খাইবার লাগি। ইলিশার এন্ডা ছাক্কি ছাক্কি করি রান্ধা অইতো। জবর মজা লাগতো। আর ঘরানর কথা কইয়া লাভ নাই। কেউ কেউ ইলিশার তেল লইয়া ওউ তেল দিয়া ইতা হিতা কততা রানতা। বিরানও করতা। বাড়ির কানদাবায় গেলে ই বাড়িত ইলিশা মাছ রানলে বউত দুর থাকি ঘরান পাওয়া যাইতো। বাজারো গেলে মুটা মুটা ইলিশা মাছ পাওয়া যাইতো দশ পনর টেখায়। ইতা সংগ্রামর বাদর আমরা ফুরু তাখতর হিদিনকুর কথা। এর আগর জবানার কথা হুনলে বিশ্বাস করতে কষ্ট অয়। ময় মুরব্বী হকলে গফ করইন দুই আনা ছাইর আনা দিয়া বড় বড় ইলিশা আনতা। ইতা গফ হুনলে আমরা ভেখভেখাইয়া তারার মুখেদি ছাইতাকি। বাজারো পাচ টেখা দশ টেখা দি ফুরু মাছর ভাগা গরিব হকলে কিনতা। যেমন পুটি টেংরা মখা লাইয়া গুত্তুম খইয়া ছাটা ভেড়া দাড়কিনা তিতকিনা ইছা ছেলাফাতা ফুগা কাশ খাউরি ছান্দু ঘিলাছাকি রাইত আগরি খাফউয়া ছেংগি ভুলা ছেংগি কাকইয়া কইপুতরা ছিকরাবাইং পাঠাবাইং বালিগড়া কেছরি ঘুংগি টেংরা ইতা মাছ খুব হস্তা আছিল। বারিষাত টানাজাল (মণিপুরী জাল) লইয়া বন্দো গিয়া থুড়া পানির মাঝে উল্টাফাল্টা ছাইর টান দিলে ইতা মাছ ডেগ ভরইয়া আনা যাইতো। এরলাগি মাছ তেমন একটা বাজারথাকি কিনইয়া আনা লাগতনা। যখনথাকি মুকিলর ছাওহকলে কারেন্টর জাল বার করলো ওউ সময় থাকিউ আমরার দেশো মাছর আখাল আর শনির দশা আইয়া নাযিল অইলো। কারেন্টর জাল বেছা সরকারে নিষেধ করলেও দেশর হকল থানা উপজেলা বা জেলা সদরও এক্কেবারে খোলামেলা বেছা বিকি অয়। যেরা ইতা বেছইন তারার পুলিশর লগে বুলে ইয়ারানা আছে। এরলাগি হেরা ইতা দেখইয়াও দেখইননা। মামলতও বুলে মিলে।

যাই অউক। কিতা থইয়া কিতা কইতাম কউকাছাই ছাবহখল। ইলিশা মাছ বাজারো অখন পাওয়া সোনার অরিনর লাখান। পাইলেও এক্কেবারে বারিক বারিক। একআলি আনলেও এক ছালম অয়না। আগর ঘরান ঘারানও নাই। বিরান করলে তেলও বারয়না। শিরাও মজা অয়না। মাছ মুখো লইলে কিলালাখান লাগে। কি জবানা আইলো! অনকুর জবানাত নকল ইলিশাও বুলে বাজারো পাওয়া যায়। বাজারো গরিব হকলেতো ইলিশা কিনা দুরর কথা ডরাইয়া তারা কানদাউ ভিড়া বাদ দিলাইছইন। আগর আমলো পাঙ্গাস মাছোর খুম নাম দাম আছিল। অউ পাঙ্গাস মাছ অখন খামারো হামাইয়া প্রমোশন থাকি ডিমোশন অইয়া গরিবর মাছ অইগেছে। আর ইলিশার প্রমোশন অইয়া ধনীর মাছ অইগেছে। এরলাগি পত্রিকাত দেখা যায় কিছুটা বড়ো অইলে এক জোড়া ইলিশা বুলে বারো চৌদ্দশ থাকি দুই ছাইর আজার টেখাও বিকে। যেরা ইলিশা খাইয়া পয়লা বৈশাগ পালন করইন তারা কইন ভাইছাব বাজারো ইলিশা পাইরামনা। এরলাগি খামারর আরনায় বার্মার রউরে বারিক বারিক করইয়া বিরান করাইলিমু। পানিভাত আর ইলিশা খাবাইবার সময় লাগাইমু উড়াউড়ি। আর খামারর রউ মাছ ইলিশা কইয়া খাবাইলিমু তারারে। কেউ জিকা করলে কইমু অতাউ ইলিশা। বড়তা পাইছিনা। বারিক বারিক অতা আনিলাইছি। অনকুর ইলিশাতনু ঘরান উরান নাই। আমরার জাতীয় মাছতো। এরলাগি ছউক মুজইয়া হকলে খাইলাউকা। অতাউ হকলে পাইতানায়। লাগিযার ঝাপটাঝাপটি। বুইচ্ছইননি।

ইতা হুনইয়া আর দেখইয়া হবাড়ির দাদায় কইলা ইলিশা না অইয়া হউল মাছ অইতো আছিল আমরার জাতীয় মাছ। বাঙ্গালী হকলর যে বুদ্ধি, হউল মাছর অলা বুদ্ধি। বুদ্ধিয়ে বুদ্ধিয়ে মিল রাখইয়া নাম দিলে ঘাটে কালারুকায় মিলি যাইতো। আর হউল মাছে বছরো যতো পনা করে হউলরে জাতীয় মাছ ঘোষনা করিয়া হউলরপনাগুইন মারা বন্ধ করাইতে পারলে হউলে দেশ ভরিযাইতোগি। তবে হউলর পনার বুদ্ধি অইবার আগে তারা দলা অইয়া বিরুত বিরুত করতে থাকে। দুর থাকি দেখা যায় লাল পনার পাল। খালি ভখভখাইয়া উতরাইরা। দেখইয়া হবাড়ির কালার বাপে মশরির জালদি ঠেলা মারি হকলটি মারইয়া বাড়িত গিয়া বউরে কইন কাঠল বিছিরে বারিক বারিক করইয়া পনাত ছাড়ইয়া ফুকনা ফুকনা করি জলদি রান। পেটো জবর ভুক লাগছে। বউয়ে কইন অউযেনে আবরি পনাগুইন মারলায় ইগুইন বড়ো অইলেনু আস্তা গাউয়ে খাইয়াও ফুড়াইতা পারলাঅনেনা। বিশছাংগা মাছ অইলঅনে। এক অক্ত খাইয়া তুমার কিতা লাভ অইবো, তুমার পেটো কিতা নাগারছি হামাইছেনি। এর লাগিউতো আমরার দেশ খালি তলেদি যার। তুমার লাখান ছোট কালার বাপ আর বড়ো কালার বাপ হকল যদি ঠিক অইযিতা, নিজর স্বার্থ না দেখইয়া যদি দেশর স্বার্থরে বড়ো করি দেখতা তাইলে আমরার নাও ফুকনাবায়দি যাইতো। সিংগাপুর আর মালয়েশিয়া লাখান অইতে আমরার বেশি সময় লাগতোনা। উছিত কইলে গুছিত ধরে। হাছা কথা কইলে হক্কলউ বেজার। ডাখর কথা, গরম ভাতো বিলাই বেজার। দেশরমাজে কালারবাপহকলে খালি বিরুত বিরুত কররা। এরারে সাবুদ না করতে পারলে এরা আমরারে খালি তলেদিউ টানবো। উপরেদি উজাইবার দিতোনায়।

(চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!