ফাইন্যাল হাস্টিংসঃ বরিস জনসন- ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট ডেলিভারি; হান্ট নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ব্রেক্সিট

প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৯ | আপডেট: ২:২৩:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০১৯

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ। লন্ডন টাইমস। ১৭ জুলাই, ২০১৯। অ্যাক্সেল ওয়েস্ট । ১৭ জুলাই ২০১৯ ছিলো ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের লিডারশিপ ডিবেটের ফাইনাল হাস্টিংস। লন্ডনের অ্যাক্সেল ওয়েস্ট সেন্টারে লন্ডন ও গ্রেটার লন্ডনের কনজারভেটিভদলের মেম্বার, এমপি, মন্ত্রী, নেতা কর্মীদের উপচে পড়া ভিড়। অনুষ্ঠান ৭.৩০ মিনিট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অ্যাক্সেল বিকেল থেকেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ব্রিটিশ স্কাই নিউজ এবং বিবিসি নিউজ অ্যাক্সেল থেকে সরাসরি হাস্টিংস টেলিকাস্ট করে। এছাড়াও আইটিভি, চ্যানেল ফোর সহ সব মিডিয়াও ছিলো সমানভাবে। গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফ, ইন্ডিপেন্ডেন্টও লাইভ ব্রডকাস্টিং করে।

বিশাল হল রুমে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত কনজারভেটিভ দলের নেতা কর্মী। দুইভাগে বিভক্ত হলেও একে অন্যের সাথে দারুন মিল। নেই কোন হানাহানি, অতিরঞ্জিত কিংবা রেষারেষি। দল ঐক্যবদ্ধ এক শক্তি-নতুন নেতা নির্বাচনে। পুরোহলের প্রায় সবাই বরিস জনসনের পক্ষে, জেরেমি হান্টও পিছিয়ে নেই। ব্যাক বরিস যেমন, তেমনি হাজ টু বি হান্টও।

এটাই ছিলো দীর্ঘ সময়ব্যাপী চলা টেরেজা মে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য লন্ডনে দলের শেষ হাস্টিংস। কনজারভেটিভ দলের চেয়ারম্যান ব্রান্ডন লুইস এমপি ছাড়াও দুই নেতার একজন করে এমপি বক্তব্য রাখেন এবং কেন তিনি সমর্থন করেন তার ব্যাখ্যাও দেন।

 

বরিস জনসনঃ

শুরুতেই বরিস জনসন মঞ্চে আসেন। জনসনকে দারুন উতফুল্ল এবং স্মার্ট দেখাচ্ছিলো। যেন এক তারুণ্যে ভরপুর ব্রিটেনের আগামীর নেতা সত্যিকারভাবেই মঞ্চে আসলেন। মুহুর্মুহু করতালি আর হর্ষধনির মাধ্যমে বরিস জনসন নিজের দুই হাত উচু করে আরো করতালি চালিয়ে দেয়ার জন্য নেতা কর্মীদের উতফুল্ল করে তোলেন। ফলে পুরোহল তখন বরিস জনসনের পক্ষে উল্লাসে ফেটে পড়েন।

জনসন তখন বলেন, ৩১শে অক্টোবর ব্রেক্সিট ডেলিভারি হবে-এটাই আমাদের এজেন্ডা। হল ভর্তি কনজারভেটিভ নেতা কর্মীরা তখন একবাক্যে সমর্থনে উল্লাসে ফেটে পরেন। জনসন বাধ্য হন বক্তব্য থামিয়ে দিতে। উল্লাস থামলে জনসন বলেন, কনজারভেটিভ দল ঐক্যবদ্ধ- আমাদের স্কুলের প্রত্যেক শিশুদের সমান অধিকার রয়েছে সমান সুযোগ সুবিধার। আমি প্রধানমন্ত্রী হলে সকলের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা, শিক্ষার আরো উন্নয়ন, প্রাইমারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার দরজা আধুনিক বিশ্বের শ্রেষ্টত্বে লন্ডন আবারো হবে।

 

বরিস জনসন বলেন, আমার গ্র্যান্ডফাদার নিজেও মুসলিম। আমি প্রধানমন্ত্রী হলে মুসলমান সহ প্রত্যেক কমিউনিটির সাথে কনজারভেটিভ দলের ব্যবধান কমিয়ে এনে সকল কমিউনিটির হারমোনি-আমাদের ব্রিটিশ ঐতিহ্যের সেতুবন্ধন আরো সুদৃঢ় করা হবে।

জনসন বলেন, আমরা কোনভাবেই জেরেমি করবিনকে ডাউনিং ষ্ট্রীটে ঢুকতে দিতে পারিনা। জেরেমি করবিন মানেই অপরিকল্পিত ট্যাক্স প্ল্যাংক। একইভাবে ব্রেক্সিট পার্টি, লিবডেম-কাউকেই ছাড় দিতে চাইনা।

 

ব্রেক্সিট মানেই ব্রিটেনের অর্থনীতি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।

 

এসময় বরিস জনসন বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্র্যাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য কোনভাবেই সমর্থন করা যায়না। কাউকেই এভাবে দেশ থেকে বের হয়ে যাও বলতে পারিনা। জনসন যতক্ষন মঞ্চে ছিলেন নেতা কর্মীদের মাতিয়ে রাখেন দারুনভাবে।

 

ইরানে আটক নাজানিনের মুক্তির ব্যাপারে ফরেন অফিসের পদক্ষেপের ভুয়সী প্রশংসা করেন জনসন।

 

জেরেমি হান্টঃ

এরপর মঞ্চে আসেন জেরেমি হান্ট। তিনি বলেন, আমরা ব্রেক্সিট ডেলিভারি দেবো- আমাদের উচিত ব্রাসেলসে ব্রিটেনের প্রাইম মিনিস্টারকে পাঠানো যাতে নেগোসিয়েশন করা যায়। তবে আমরা ব্রেক্সিট করবোই নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে।

জেরেমি হান্ট বলেন, ছাত্র ছাত্রীদের স্টুডেন্ট লোন ৬ পার্সেন্ট কমানো, ব্যবসায়ের জন্য নতুন নতুন উদ্যোগ আর বিজনেস ট্র্যাক্স কমাবেন।

 

হান্ট বলেন, ব্রেক্সিটের মাধ্যমে বিশ্বে ব্রিটেনকে এমন অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই, সারা বিশ্ব ব্রিটেনের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য উদগ্রীব থাকবে।

 

হান্ট বলেন, এনএইচএস, শিক্ষা, বিজ্ঞান, টেকনোলজি, তার প্রায়োরিটি। একইসাথে জেরেমি হান্টও বলেন, আমার স্ত্রী চায়নিজ, আমার সন্তানেরাও ব্রিটিশ এবং চায়নিজ-তাই বলে আগামীকাল আমি চায়নিজ বলে তাদের ব্রিটেন থেকে বের করে দিতে পারিনা-এমন নীতি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দুই নেতাই নারীদের জন্য সমান প্রতিযোগিতা ও সমান সুযোগ সুবিধার কথা বলেন।

 

জেরেমি হান্টও একইভাবে জেরেমি করবিন ও লেবার দলের প্রচন্ড সমালোচনা করেন এবং করবিনকে কোনভাবেই ক্ষমতায় আসতে দেয়া ঠিক হবেনা বলে মন্তব্য করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে জেরেমি হান্ট বলেন, বরিস জনসন এবং আমি বেশ কিছু পলিসির ক্ষেত্রে অনেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছি, বৈঠকে অংশ নিয়েছি। দুজনের মধ্যে বৈঠক আলোচনা শেষে ঠোটে হাসিই রয়েছে। তবে বরিস নেতা নির্বাচিত হলে কেবিনেটে তিনি থাকবেন কিনা এমন প্রশ্ন  কৌশলে এড়িয়ে গেলেও বলেন, হাস্টিংস এবং নেতা নির্বাচনের ফলাফলের পরের দিনই আমরা আবার ঐক্যবদ্ধ এবং এক টিম- এটাই গ্রেট ব্রিটেন, এটাই কনজারভেটিভ দলের আদর্শ। আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই।

 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে হান্ট বলেন, বিশ্বে ব্রিটেনের পরিচয় আমরা গণতান্ত্রিক। যেখানেই অনাচার, সেখানেই আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার। গালফে অনাচারের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান, সেটাই ব্রিটেন জানিয়ে দিতে চায়।

 

Leadership debate Final Hustings London 2019

১৭ জুলাই ২০১৯ ছিলো ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের লিডারশিপ ডিবেটের ফাইনাল হাস্টিংস। লন্ডনের অ্যাক্সেল ওয়েস্ট সেন্টারে লন্ডন ও গ্রেটার লন্ডনের কনজারভেটিভদলের মেম্বার, এমপি, মন্ত্রী, নেতা কর্মীদের উপচে পড়া ভিড়। অনুষ্ঠান ৭.৩০ মিনিট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অ্যাক্সেল বিকেল থেকেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ব্রিটিশ স্কাই নিউজ এবং বিবিসি নিউজ অ্যাক্সেল থেকে সরাসরি হাস্টিংস টেলিকাস্ট করে। এছাড়াও আইটিভি, চ্যানেল ফোর সহ সব মিডিয়াও ছিলো সমানভাবে। গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফ, ইন্ডিপেন্ডেন্টও লাইভ ব্রডকাস্টিং করে।

Posted by London Times-Salim Ahmed on Thursday, 18 July 2019