‘ধনাঢ্য ব্যক্তি সৃষ্টিতে বাংলাদেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’

প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৪৩:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০১৯

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেছেন, ধনাঢ্য ব্যক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ আজ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এই চ্যাম্পিয়ন হতে দেওয়াটা মানায় না।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ শনিবার বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-বিআরআই ও নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক গতিধারা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় মইনুল ইসলাম এ কথা বলেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সঞ্চালনায় এতে প্রধান বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। আরও বক্তব্য দেন সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, সাবেক রাষ্ট্রদূত ইনাম আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

যেনতেনভাবে ধনাঢ্য ব্যক্তি হওয়ার সুযোগ না দিয়ে বঙ্গবন্ধুর রক্তের প্রতি এবং ৩০ লাখ শহীদের রক্তের প্রতি সুবিচার করার আহ্বান জানান মইনুল ইসলাম।

ভালোভাবে সমীক্ষা করে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মইনুল বলেন, সরবরাহ ঋণ (সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট) দুর্নীতির ক্ষেত্র। রূপপুরের মতো বাজে প্রকল্প থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আসবে, সে জন্য ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার লাগে না, অর্ধেক অর্থেই হয়ে যাওয়ার কথা।

মইনুল ইসলাম আরও বলেন, আমাদের একটা গভীর সমুদ্র বন্দর দরকার। কারণ, চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে। অনেক দূর এগিয়েও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দরটি হলো না। চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখনই সোনাদিয়ায় বিনিয়োগের ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তাব দেশটি গ্রহণ করে। পরে ২০১৪ সালের দিকে বাংলাদেশ এ থেকে ফিরে আসে। আর চীন ওই বিনিয়োগ নিয়ে চলে যায় মিয়ানমারে। এখন বলা হচ্ছে সোনাদিয়ায় নাকি একটি ইকো-পার্ক হবে।

‘রোহিঙ্গা সংকটে ভারত, চীন ও রাশিয়াকে যখন আমরা পাশে পাই না, বুঝতে হবে যে মিয়ানমারকে কেউ চটাতে চান না’-এ মন্তব্যও করেন মইনুল ইসলাম।
মইনুল ইসলাম বলেন, চীন এখন বড় অর্থনীতির দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ যখন প্রথম অবস্থানটি হারিয়ে ফেলে, তখন কিন্তু এক ধরনের আক্রোশ কাজ করে। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধও ওই কারণেই। আবার এদিকে বিশ্বায়নকে পরিত্যাগ করে সংরক্ষণবাদিতার দিকে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুঃখজনকভাবে ভারত ও জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আছে।

মইনুল ইসলাম আরও বলেন, কুনমিং ইনিশিয়েটিভ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর (বিসিআইএম-ইসি) বিসিআইএম আজ জীবন্মৃত। বিসিআইএমের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল (বিবিআইএন) করা হয়েছে। কিন্তু বিসিআইএমের বিকল্প বিবিআইএন হতে পারে না।