ছাতা থেকে ছাতক বাজার

প্রকাশিত: ২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০১৯ | আপডেট: ২:৪৬:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০১৯

ছাতা থেকে ছাতক বাজার
-হাসনাত মুহ. আনোয়ার

আগেকার দিনে আজকের মতো কাপড়ের ছাতা ছিলনা। এক জাতীয় গাছের পাতা এবং বাঁশ ও বেত দিয়ে ছাতা তৈরী হতো। এই বাঁশের ছাতা আবার দু’ধরনের ছিলো। একটি হলো কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য যা ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন। এটির কোন হাতল থাকতোনা। কানের দুই পাশ থেকে রশি নামিয়ে গলার সামনে থুতনীর নীচে বেঁধে রাখা হতো । অন্য যেটি ছিলো তা একটু বড় আকারের হতো( ছবি সংগ্রহ করতে পারিনি, দু:খিত।) বড় ছাতাটিও বাঁশ ও পাতা দিয়ে তৈরী হলেও এর সাথে একটা হাতল থাকতো। এ ধরনের ছাতার নীচে কমপক্ষে তিন চারজনের স্থান সঙ্কুলান হতো। প্রাচীন যুগে গ্রামের মোড়ল বা জমিদাররা এই বড় ছাতারই একটু সৌখীন সংস্করণ ব্যবহার করতন। এটি আরেকটু কারুকার্য্যময় হতো। সেই ছাতা বহন করার জন্য কিংবা জমিদার সাহেবের মাথার উপর ছাতা ধরে রেখে পিছু পিছু হাঁটার জন্য বিশেষ কর্মচারী নিযুক্ত থাকতো। পুরানো পুঁথিপত্রে এদরকেই ‘ছত্রধারী’ বলে উল্লেখ করতে দেখা যায়।
আবার কোথাও কোথাও এই বড় আকারের ছাতা আরেকটু বড় করে বানিয়ে গ্রামের হাটে দোকান বসতো। দোকানের উপরের ছাউনী হিসাবে ব্যবহৃত হতো এই বিশাল ছাতা। বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার এমনি ছাতার ছাউনীযুক্ত একটি বাজার ছিলো। সম্ভবত ঐ বাজারে স্থায়ী দোকান কোঠার তুলনায় ছাতার ছাউনী দেয়া দোকানের সংখ্যা অধিক ছিলো। এজন্য বাজারটিকে ‘ছাতার বাজার’ বলে ডাকা হতো। কালক্রমে ঐ বাজারই আজকের ছাতক বাজার নামে সর্বত্র পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলার একটি অন্যতম উপজেলা শহর এই ছাতক বাজার। আর উপজেলার নাম- ছাতক।
নবাব সিরাজ উদ্দৌলার সময় থেকেই চুন ব্যবসার জন্য ছাতকের সুনাম রয়েছে। গ্রীক, পর্তুগীজ, ইংরেজ ব্যবসায়ীরা শতবছর আগেও ছুটে গেছেন ছাতকে ব্যবসার প্রয়োজনে। ১৯৩৭ ইংরেজি সালে ছাতকে প্রতিষ্টিত হয় দেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানা। ছাতকের সুনাম সারাদেশে এবং দেশের বাইরেও রয়েছে।
এক সময় যা পরিচিত ছিলো ‘ছাতার বাজার’ নামে, সেই বাজারই আজ গ্লোবল ভিলেজের সবার পরিচিত-ছাতক বাজার ।..