আপডেট ২ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২৬শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ১১ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ ফিচার

Share Button

ছিলটি বয়ান

| ০৮:৫৪, আগস্ট ৬, ২০১৯

ছিলটি বয়ান
নাজমুল ইসলাম মকবুল

(তিন)

আমরার ছিলটর আঞ্চলিক ভাষায় ডাখর একটা কথা আছে ‘আল্লায় কেউরে উপরেদি তুলিলিতে ছাইলে দুশমনি করিয়া হক্কলে মিলিয়া ঠেংগো ধরি তলেদি টানলেও লামাইতা পারতানায়’। কথাখান মনো অইগেলোগি বর্তমান জবানার হালত ছমছার দেখিয়া। ইতা ছমছারর মাঝে যেখটা বেশি ছকুত বাজে ইকটারে এককথায় খওয়া যায় ‘কইন মারা’। যে যতো বেশি কইন মারতা পারইন তাইনবুলে অতো বেশি উপরেদি উঠতা পারইন। আবার মালপানিওবুলে বেশি কামাইতা পারইন। এরলাগি হখল জাগাতউ দেখা যায় খালি কইন মারার ঘটনা। কইন মারা কেউ কেউর অভ্যাস। কেউ কেউর পেশা। কেউ কেউর নিশা। আরবার কেউ কেউর দিশা। গাউয়ালী বিছারো দেখবা কে দুইগাল বেশি মাতিয়া বড়ো মাতেব্বর হাজতা ইতারলাগি শুরু করইন কইন মারা। অন্যরে মাততে না দিয়া তাইনউ একলা ভরভর করইন। দেখাইতা ছাইন তাইন কতো বড়ো ডেম মুরব্বী। আরবার কেউ কেউ ঘুষ খাইয়া লাটির আর গতরর জোরে ন্যায়রে অন্যায় আর অন্যায়রে ন্যায় বানাইয়া বিছার করিয়া পকেট গরম করইন। কেউ কেউ আনামতি টেখা মারিদেইন। আর কেউ কেউ আনামতি টেখা আর নায় রায় দেওয়াইয়া টেখা আদায় করাইয়া ওউ টেখা আরবার করজ টরজ নিবার কতা কইয়া নিয়া মারিদেইন। ইতা বেমার আমরার সমাজো মহামারি আকারে দেখা যার। এরারে ডরাইয়া কেউ কুনতা মাতবার সাওস পাইন না। কারন কিতা জানইননি। এরার লাটির গেছে আম পাবলিকহখল থাখইন জিম্মি। বর্তমানে বউত গাউ গেরামো ন্যায় বিছার পাওয়া স্বপ্নরলাখান অইগেছেগি। বাড়ছে কইনমারা ঠগাঠগি আর তেলমারা। লগর এরারে কইন মারইন আর উফরর তারারে তেল মারইন। কইন আর তেল যে যতো বেশি মারতা পারইন তাইনর আদর কদর অতউ বেশি। আমরার সমাজো যেরা কইন আর তেল মারইন তারারে হক্কলেউ ছিনইন। তারার আফরখে হখলেউ তারার কতা মাতইন। কিন্তু ছামনে কেউ মাততা সাওস পাইননা। যেরা কইন আর তেল মারইন এরার মরার ডর ভয় আছেনিনা নাই আমার সন্দয় লাগে।
আমার ওউ সামান্য জিন্দেগীতউ বউত কইনমারা খাইছি। যেরা কইন মারছইন এরাউ আরবার ঠেখলে তেলও মারার ভংগি করছইন। আমি তারার ভং ছং বুঝতাম পারছি। তেল মারিয়া ইতায় আরবার লাভ করতা পারছইননা। কারন তেলযে মারইন ইতা লগেলগে বুঝা যায়। আর যেরা কইন মারইন তারার কইনমারাও লগেলগে বুঝা যায়। যতো বেশি কইনমারার চেষ্টা করছইন ততো বেশি লাভ অইছে। তারা মারইন কইন, আর আমরা যারা কইনমারা খাই তারার অয় লাভ। বর্তমান জবানাত খালি আমরার দেশো কইন মারার রীতিনীতি রইছেনা। হারা দুনিয়াতউ কইনমারা ছলে। জাতিসংঘত দেখবা কইন মারামারি। রাষ্ট্রয় রাষ্ট্রয় দেখবা কইন মারামারি। কে কারথাকি বড়ো মাতেব্বর অইতা। বিশ্বমোড়ল অইতা। ইতা একটা কইন মারামারি আছে। কোন রাষ্ট্রয় অন্য রাষ্ট্ররে গাইলা করিয়া বেশি মাল কিলা কামাইতা ইতারও একটা কইন মারামারি আছে। মসলমান রাষ্ট্রপ্রধান প্রায়জনরে ফাম পট্টি দিয়া যুদ্ধত লাগাইয়া মসলমানদি মসলমানরে মারাইয়া তারা তামশা দেখইন আর অস্ত্র গুলা বারুত বেছিয়া কাছা পয়সা কামাইন কিলা ইতা মোড়ল রাষ্ট্রপ্রধান হখলর ভালাকরি জানা আছে। এরলাগিউ তারা মসলমানহখলর মাঝে খালি লাগাইয়া দিয়া তারা আগুইন থাবাইন।
এবলা বখরা ঈদর কথা থুড়া কইতাম ছাইরাম। ফুরু থাকতে গফ হুনতাম দাদাইনতরগেছথাকি। তারা গফ করতা আটানা, একটেখা, পাশশিকা দিয়া তারা বড় বিছাল, বলদ, দুধাল গাই ইতা বাজারথাকি কিনিয়া আনতা। আমরা ইতা গফ হুনিয়া তারার মুখেদি ভেখ ভেখাইয়া ছাইতাকতাম। তারার গফ বিশ্বাষ করতে কষ্ট অইতো। কইতা ইতা কিতা কইন।
হি সময় আমরা এক আজার, দেড় আজার আর নায় দুই আজার টেখাদি কুরবানীর গরু কিনিয়া আনবার কথা এবো মনো আছে। ইতা মনো এক্কেবারে গাথিথাকছে। অনকু আমরার পুয়া পুড়ি, নাতি-নশা, ভাতিজা ভাতিজিনতরে ইতা গফ হুনাইলে তারাও আমরার হউ আগরলাখান মুখেদি ভেখ ভেখাইয়া ছাওয়া ছাড়া উপায় থাকতোনায়। হি সময় গাউর হক্কলর অছিয়ত আছিলনা কুরবানী দেওয়ার। যারার অছিওত আছিল তারা একলা দিতা। বেশিরভাগ গিরছহখলে ঘরর নিজর পালা গরু কুরবানী দিতা। আরনায় ককজনে শরিক অইয়া মিলিয়া একটা দিতা। বউতজনে খসি মেড়াও দিতা। অনকুর আখেরি জবানাত আধালাখ টেখা ছাড়া বারিকমুরিক গরু একটা পাওয়া যায় না। আর থুড়া ছউকাল অইলে লাখ টেখার দরকার। আগে পরায় হক্কলর ঘরোউ গরু ককটা থাকতো। কেউ বিয়ার মাত দিলে আগে তুকাইতা এনর আল গিরস্থি আছেনি। তানর জাগা জমিন কতখান আছে। বাড়িত গিয়া দেখতা এনর গোয়ালা কতো বড়ো। গোয়ালা দেখিয়া বড় গিরছ, ফুরু গিরছ অনুমান করা যাইতো।
অনকুর জবানাত আস্তা গাউ আটিয়া দুই ছাইর ঘর বাদে আর গরু পাওয়া যায়না। গরুঘর গোয়ালা খেরোঘরও পাওয়া মশকিল। পাইবা কলর লাঙ্গল। এরলাগি গরুর দাম দিন দিন খালি বাড়তে আছে। ইতা দাম দেখিয়া বউতজনে গরুর খামার করিয়া তিজারতি করা শুরু করিদিছইন। বউত বেমুনাছিব খামারর মালিকে গরুরে ফিড ভিড আরো কিতাকিতি খাবাইয়া আর জাতে বেজাতে গাতনি দিয়া থুড়া দিনে খামারর মুরুগ আর মাছরলাখান গরুরেও ভিটভিটা তাজা আর বড় করিলাইন।
কুনাকুনি পথে তারা বড় করিয়া বেশ দামে বাজারো নিয়া বেছইন। এরলাগিউ বউত জাগাত দেখা যায়, গরু জবো করলে ভিতরে খালি ফেনা আর ধলা ছিকনায় ভরতি। ইতা জাল ভেজাল খাইয়া আমরার ছাইরোবায়দি খালি বেমার আর বেমার। নয়া নয়া বেমারে জুয়ান জুয়ান মানুষ ধড়ধড়াইয়া মরিয়া যাইরাগি। ফুরুতাইনতরও বেমার ছাড়েনা। ইতা দেখার কেউ নাই। বাজারথাকি গরু লইতে অনকু ডর করে। আর গিরছমানি গরু পাওয়াও জবর মশকিল। জিতা গরুর ভিত্তর পরীক্ষা করি দেখারও ভালা যন্ত্রপাতি এবো আমরার ইতাত আইছেনা। কউকা ছাই এবলা কই যাইতাম। ছিন্তায় রাইত ঘুম অয়না। মুরব্বীহখলে কইন, অনকুর জবানাত বুলে মাইনষরলাগি মানুষ আজরাইল অইগেছইন।

নাজমুল ইসলাম মকবুল
সভাপতি, সিলেট লেখক ফোরাম
মোবা: ০১৭১৮৫০৮১২২

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!