ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কৌশল জানেনা, এসব অকর্মন্যদের বাদ দিনঃসীপাকে মেয়র করুন

প্রকাশিত: 11:53 PM, September 3, 2019 | আপডেট: 5:06:PM, September 6, 2019

লন্ডন রিপোর্টার্স ইউনিটি। লন্ডন। বেশ কয়েকমাস থেকে ডেঙ্গুতে নাকাল ঢাকা সহ সারাদেশ। বিশেষ করে রাজধানীর বুকে ডেঙ্গুর প্রকোপে অসংখ্য নারী-পুরুষ, শিশুদের হাসপাতালে অসহায়ভাবে পরে থাকা, মৃত্যুর কোলে ঢলে পরা আর বিপরীতে আমাদের মহারথি নগর পিতাদের আহ্লাদে আটকানো বাহানা আর নাদুশ নুদুস বক্তব্য-নগরবাসীর ক্ষতের উপর বিষফোঁড়া হিসেবে কাজ করেছে।

 

আশ্চর্যের বিষয়, বার বার ডেঙ্গু হানা দেয়-আর নগর পিতারা নানা নসিহত বাহানা করেন, ডেঙ্গুর ঔষধ আনতে সময় লাগবে, ডেঙ্গুর প্রকোপ কেন হচ্ছে, কিভাবে এর নিয়ন্ত্রণ করা যায়, নগরবাসীর সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার মান কিভাবে স্বাভাবিক রাখা যায়-এতোদিনেও আমাদের দুই হেভিওয়েট মেয়র এবং দায়িত্বশীল সরকারি কর্তা ব্যক্তিরা করতে পারলেননা। ভাবতে অবাক লাগে।

 

আফ্রিকায় যখন ইবোলায় আক্রান্ত হয়, তখন আফ্রিকার স্বাস্থ্য কর্মী আর নগর পিতাদের দৌড়ঝাপ সারা বিশ্বের শিরোনাম হয়। আমাদের নগর পিতা আর স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বশীলদের হা হুতোশ আর হতাশা কেবল নাগরিকদের দীর্ঘশ্বাস হয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনাম ভারি করে তোলে।

 

যারা নগরীকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, সাধারণ নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করতে পারেনা, ডেঙ্গুর মতো রোগের নিয়ন্ত্রণের সাধারণ কৌশলও জানেনা-এসব ভারবাহী রেখে রাষ্ট্রের বোঝা আর গরীবের ট্যাক্সের টাকার অপচয় করে কী লাভ?

সরকার প্রধান আধুনিক এবং সচল তড়িৎ দ্রুততার সেবা প্রদান আর ফাইভ জি যুগে  প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। মাননীয় সরকার প্রধান, আপনার সেই সব আধুনিক কর্ম কৌশলের সাথে খোদ রাজধানীর বুকে অচল মান্দাতার আমলের চিন্তা চেতনার নগর পিতা আর পুরনো দায়িত্বশীলদের দিয়ে বড় বেমানান। এর বিপরীতে দরকার আধুনিক, যুগোপযোগী চিন্তা ও কর্ম কৌশল আর ভিশন ২০৪০ আলোকে আধুনিক উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে জনগনের কাছের এবং জনগনের সাথে মিশে কাজ ও সেবা প্রদানে সক্ষম নগর পিতা ও প্রতিষ্ঠান।

সীপা কেন হতে পারেন ঢাকার যোগ্য মেয়রঃ

বাংলাদেশের দুঃস্থ, অসহায়, নিপীড়িত মহিলাদের জন্য সামাজিক, পারিবারিক, আর্থিক ও আইনি কাঠামোর সহায়তা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে যে কটা সংস্থা অত্যন্ত নিবিড় ভাবে একেবারে মাঠ পর্যায়ে থেকে প্রান্তিক মহিলাদের সাথে মিলে-মিশে কাজ করে তাদের অধিকার, জীবন-মান উন্নয়নের জন্য কাজ করে থাকে, সেই সব প্রতিষ্ঠানের  সাথে জড়িত একজন বিদুষী মহিলা সীপা হাফিজা অন্যতম।সীপা হাফিজা একাধারে উঁচুমানের শিক্ষায় শিক্ষিত, ব্র্যাকের একজন সাবেক ডিরেক্টর(জেন্ডার, জাস্টিস, ডাউভার্সিটি এবং মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম) ছাড়াও বিগত ২০১০ সাল থেকে জাতি সংঘ মহাসচিব বান কি মুনের পিস বিল্ডিং ফান্ডের একজন এডভাইসার হিসেবেও কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক।

Image may contain: 4 people, including Sheepa Hafiza, people sitting

এর বাইরেও তিনি কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের হয়ে, ইউএস ভিত্তিক সিট(গ্রাজুয়েট ইন্সটিটিউট ভারমন্ট)এর একজন ফেলোশিপ হিসেবেও কাজের বিস্তর অভিজ্ঞতা রয়েছে।বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস ট্রেনিং একাডেমীর গভর্নিং বডির একজন মেম্বারও তিনি।

বাংলাদেশের বহুমুখী প্রতিভা আর নারী ও শিশুদের জনকল্যাণে সর্বদা নিবেদিত এই অসীম ধৈর্য্য আর সাহসী বিদুষী এই মহীয়সী সীপা বিগত কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সেমিনার ও ওয়ার্কশপে বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা গবেষক, নারীদের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ কর্মী ও ব্যক্তিত্বদের সমাবেশের দ্বিতীয় দিনে ১৬ অক্টোবর লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারের এক হোটেলের কনফারেন্স রুমে সীপা হাফিজা কমনওয়েলথ পারস্পেক্টিভঃআইডিয়স ফর এ নিউ ডেভেলপম্যান্ট এজেন্ডা সার গর্ভ ও তথ্য নির্ভর উপস্থাপনা করেন, যা উপস্থিত ৪০টিরও অধিক দেশের প্রতিনিধিদের ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে।

Image may contain: 7 people, including Sheepa Hafiza

অত্যন্ত ব্যস্ত এবং প্রচার বিমুখ বাংলাদেশের মহিলা ও শিশুদের কল্যাণে কাজে নিবেদিত সীপা হাফিজা একমুহুর্তের জন্য হোটেল লবিতে সাক্ষাতে অনর্গল বলতে থাকেন, কেমন করে ব্র্যাক প্রথম বারের মতো ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ফান্ড লাভ করলো, গ্রামীণ ও বস্তির মহিলা ও শিশুদের এওয়ারনেস, ফোর্স ম্যারিজ, ডোমেস্টিক ভায়োল্যান্স, কমিউনিটি পুলিশ এবং ঢাকা শহরে স্কুল ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার পথে পুলিশের ভূমিকা ও ফ্রেন্ডলি পরিবেশ কি করে জাগ্রত করা সম্ভব ও সাফল্য-স্ট্যাটিস্টিক ও ডাটা তথ্যের ভিত্তিতে এমন করে তুলে ধরলেন, যেন মনে হলো এই মুহূর্তে আমরা ঢাকা শহরের কোন ব্যস্ততম রাস্তা অতিক্রম করছি দুঃস্থ মহিলা ও পথচারী শিশুদের নিয়ে।

সীপার বর্তমান টার্গেট কি করে ঢাকা শহরের বস্তির শিশুদের যথাযথ প্রক্রিয়া ও নীতি মালার আওতায় নিয়ে এসে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে স্কুলের গন্ডির মধ্যে নিয়ে এসে লেখা পড়ার আওতায় নিয়ে আসা যায় ও কন্টিনিউ এক সার্ভিস প্রদান করা যায়। সাথে সাথে মাও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা, স্বাস্থ্য সম্মত জীবন যাপন, শিশুদের মানবিক ও পরিপুষ্ট সম্মত চর্চা করার ব্যবস্থা করে দেয়া যায়। সে লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ঢাকা শহরের ১৫টির অধিক স্পট বেছে নিয়ে সীপা কাজ শুরু করতে চান, যার আওতায় পুরো ঢাকা শহরের বস্তির মা ও শিশুদের অন্তত স্বাভাবিক জীবন মানের নিশ্চয়তা সমূহ উপলব্ধিতে এনে তাদের উন্নয়নে কাজ চালু রাখা।

Image may contain: Sheepa Hafiza, smiling, sitting

সীপা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টম্যান্ট থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে কাজের ফাকে ফাকে ইউএস থেকে ইন্টার কালচারাল এন্ড ইন্টারন্যাশনাল ম্যানেজম্যান্টের উপর পোষ্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রী ধারী সীপা হাফিজা এক সময় নিউক্যাসল আপন টাইনে ওয়েষ্টহিল গেইট হাই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।২০১২ সালে আমেরিকা থেকে পাবলিক পলিসি-অন বিল্ডিং এডভোকেসী ক্যাপাসিটর উপর কুমারিয়ান প্রেস থেকে প্রফেসর জেফ আনসিকার এর তত্বাবধানে প্রকাশনী বের হয়েছে। এছাড়াও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে এডভোকেসী ক্যাপাসিটি ও পাবলিক পলিসি, বিল্ডিং রিলেশনশিপ ইত্যাদির উপর তার একাধিক লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

সীপা হাফিজা পারিবারিকভাবে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ আব্দুল মোমেন, জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর শাহলা খাতুন, সাবেক সচিব ডঃ এ কে আব্দুল মুবিনের ছোট বোন। সীপার প্রয়াত আব্বা এডভোকেট এ এ হাফিজ ছিলেন একজন বিদ্যুতসাহী ব্যক্তিত্ব, যার তত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো আজকের সিলেটের মহিলা কলেজ, বখতিয়ার বিবি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ইত্যাদি। সীপা হাফিজার মাতা ছিলেন প্রয়াত সৈয়দ শাহার বানু চৌধুরী- সিলেটের আওয়ামী মুসলিম মহিলা লীগের নেত্রী, সৈয়দপুরের প্রয়াত জমিদার চৌধুরী আবুল বশরের প্রথম কন্যা।

Image may contain: 11 people, including Sheepa Hafiza and Abul Mumith, people smiling

আমার বিশ্বাস, দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪০ কর্ম কৌশল বাস্তবানে এবং বিশেষ করে ঢাকার সার্বিক জীবন মান ও নাগরিক সেবা প্রদানে সুচারুভাবে সম্পন্নের ক্ষেত্রে সীপার মতো আধুনিক ও চৌকস কর্মঠ নারী নগর পিতা দরকার-যার লক্ষ্য দিন রাত সাধারণ জনগনের সাথে মিলে মিশে তাদের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিরামহীনগতিতে কাজ করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কী একটু ভেবে দেখবেন?

 

৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০১৯ । লন্ডন ।