আপডেট ৩ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

ব্রেক্সিট ভুমিকম্পে পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসিতে এখনও জনসনের হাতে ৪ তুরুপের তাস

| ০১:০০, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ। চ্যানেল এইট । লন্ডন। একের পর এক নাটকীয় পরাজয় আর পার্লামেন্টের বিরোধীদের কাছে কাবু হয়ে বরিস জনসনের সুরে কিছুটা হতাশা হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। বিরোধীরা বলছে আগে ব্রেক্সিট এক্সটেনশন এর ব্রাসেলসে নেগোসিয়েশনের কথা- তারপর  নির্বাচন। আর বরিস জনসন বলছেন, সরকারের হাতে আর কোন বিকল্প নেই, আগাম নির্বাচন ছাড়া। পার্লামেন্ট পারেনি-জনগনের হাতে দিন ব্রেক্সিট সিদ্ধান্ত নিতে। জনসন এটাও বলছেন, দুই বছর ধরে করবিন নির্বাচন নির্বাচনের জন্য তৈরি, এসএনপি সহ অন্যরাও নির্বাচনের জন্য তৈরি-অথচ সরকার এখন নির্বাচন দিতেছে, গণতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী নেতা নির্বাচন নিচ্ছেননা।

 

জনসন এখানেই থেমে থাকেননি, ইয়র্কশায়ারে পুলিশ একাডেমিতে বক্তব্য দেয়ার সময় বলেছেন, ব্রাসেলসে নেগোসিয়েশ আর এক্সটেনশনের জন্য যাওয়া পয়েন্টলেস, তিনি মরে গেলেও যাবেননা। জনসন ক্ষমতাগ্রহণের শুরু থেকেই ব্রেক্সিট নিয়ে ডু অর ডাই নীতিতে অটল। এরই মাঝে অনেক নাটকীয় এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি দলের মধ্যে কঠিণ সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

Boris Johnson today said he would rather be 'dead in a ditch' than delay Brexit - amid mounting speculation he could quit if MPs again block him from holding a snap election (speaking in Yorkshire today)

পার্লামেন্টে যে ২১ কনজারভেটিভ এমপি বিরোধীদের সাথে মিলে ব্রেক্সিট ডিলে বিলে ভোট দিয়েছেন, সেই ২১ এমপিকে তিনি বরখাস্ত করেছেন। এ নিয়ে ওয়েস্টমিনিস্টারের রাজনীতিতে বইছে ঝড়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর সেজন্য তীব্র সমালোচনা করেছেন।

 

কনজারভেটিভ দলের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র মতে, মিশেল বার্নিয়ার, ঝংকারের সাথে রিমেইনর এমপিদের সরাসরি টেলিফোনে যোগাযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং রিমেইনর মূলতঃ ব্রেক্সিট বিরোধী প্লটের মাস্টারমাইন্ড। এর সাথে জড়িত মিশেল বার্নিয়ার, ঝংকার ও টাস্ক। আর রিমেইনর এমপি সহ অনেকের ব্যবসায়িক সহ নানাবিধ স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা জড়িয়ে আছে। যা বুধবারের রাতের বিতর্কে কনজারভেটিভ ফ্রন্ট বেঞ্চ এমপি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পয়েন্ট তুলেছেন খোলাখুলিভাবে। তার উপর আছে লিবডেম লিডারের নিজের আসন খোয়ানোর ঝুঁকি, আইল অব উইটে এবং অন্যান্য স্থানে বিরোধীদের আসন খোয়ানোর ঝুকিও সমধিক।

Boris Johnson was speaking in Yorkshire this afternoon when a female police cadet collapsed behind him as he delivered a lengthy Brexit speech

এহেন অবস্থায় বরিস জনসনের  বার বার পরাজয়ে হাতে্র মধ্যে রাজনৈতিক চাল দেয়ার মতো খুব একটা বিকল্প নেই। যেগুলো আছে খুবই ঝুকিপূর্ণ এবং জোয়ার বাজি খেলার মতো তুরুপের তাস।

 

ফিক্সড টার্ম পার্লামেন্ট অ্যাক্টঃ  

সবচাইতে সহজ বিকল্প হলো ফিক্সড টার্ম পার্লামেন্ট এক্টের অধীনে নির্বাচন আহবান করা। কিন্তু এক্ষেত্রে আছে ঝুঁকি। জনসনকে এ ক্ষেত্রে দুই তৃতীয়াংশ বা ৪৩৪ ভোটের প্রয়োজন হবে। যা এই মুহুর্তে বরিস জনসনের জন্য নিশ্চিত করে বলাটা মুস্কিল।বুধবার রাতে জনসন দুই তৃতীয়াংশ পেতে ব্যর্থ হন-মাত্র ২৯৮ ভোট পান, বিপক্ষে ৫৬ ভোট। বাকী সবাই ভোটদানে বিরত থাকেন।

 

শর্ট কাট বিলঃ

বুধবার রাতেই ডাউনিং ষ্ট্রীট “Notwithstanding the Fixed-Term Parliaments Act, we will have a general election on 15 October.”- দুই লাইনের এই বিল নিয়ে আলোচনা করেছে। এতে মাত্র সাধারণ মেজরিটির দরকার পরে। কিন্তু প্রশ্ন রয়েছে, এতে বিরোধীরা একাট্রা হয়ে ১৫ অক্টোবরের নির্বাচন আটকাতে না পেরে বিলের মধ্যে শর্ত জুড়ে দিতে পারে। ইতোমধ্যেই বিরোধীরা আগে ব্রেক্সিট এক্সটেনশন শর্ত জুড়ে দিয়েছে এক হয়ে। দ্বিতীয় যে সমস্যা রয়েছে, এরকম বিল হলে হাউজ অব লর্ডসে পাস হতে হবে। লর্ড সভা নিশ্চিত নয় এরকম বিল পাশ করে দিবে কি না দিবে, এমনও হতে পারে লর্ড সভা আটকে দিতে পারে।

 

জনসনের পদত্যাগঃ

সব বিকল্প এক্সারসাইজ করার কোন সুযোগ না পেলে পুরো কেবিনেট সহকারে বরিস জনসন পদত্যাগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে জেরেমি করবিন এবং রিমেইনর মিলে করবিনকে সরকার গঠণ এবং ১৪ দিনের ভিতরে সক্ষম না হলে অটোম্যাটিক নির্বাচন ছাড়া আর কোন পথই খোলা থাকবেনা। ডাউনিং ষ্ট্রীট সূত্র এই অপশন কেবল উল্লেখ করলেও ডাউনিং ষ্ট্রীট এবং দল এখনো এ বিষয়ে বা এই অপশন নিয়ে কোন আলোচনা করছেনা বলে জানিয়েছে। বরং ডাউনিং ষ্ট্রীট বলছে, জনসন ৩১ অক্টোবর ব্রিটেন ইইউ থেকে বের হচ্ছে এই পলিসি নিয়েই কাজ করছেন-অন্য কিছু নয়।

Jeremy Corbyn

নো-কনফিডেন্স মোশনঃ

সরকারিদল নিজেই নো কনফিডেন্স মোশন আনতে পারে কিংবা বিরোধী দল, যেভাবেই নো কনফিডেন্স মোশন আসুক, ১৪ দিনের ভিতরে আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে অটোম্যাটিক নির্বাচন ছাড়া বিকল্প নেই। কিন্তু এটা হবে এক ধরনের পাগলামি পলিসি(সরকারি দল করলে)-গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

 

এক লাইনের বিলঃ

জনসনকে দুই তৃতীয়াংশ  লাভের ক্ষেত্রে এক লাইনের বিল নিয়ে কাজ করতে হবে, যা সোমবার পার্লামেন্টে নতুন করে আসবে বলে পার্লামেন্ট লিডার জ্যাকব রিস মগ সংসদকে জানিয়েছেন।

 

বরিস জনসন চান ১৫ অক্টোবর নির্বাচন। বিরোধীরা চান আগে ব্রেক্সিট এক্সটেনশন জানুয়ারি ২০২০ সাল পর্যন্ত করে তারপর নির্বাচন। হতে পারে নভেম্বর ডিসেম্বরে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ৩১ অক্টোবর ডেড লাইন পেরিয়ে যাবে। জনসন চান এই ডেড লাইনকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করে মেজরিটি বা সংখ্যাগরিষ্টতা ঘরে তুলতে। বিরোধীরা জনসনের এই পলিসি সফল হতে দিতে চায়না। বিরোধীরা জানে এই পলিসিতে জনসন বাজিমাত করবে। জেরেমি করবিন চান কনজারভেটিভদের হটিয়ে ডাউনিং ষ্ট্রীটে ঢুকতে। আগাম ১৫ অক্টোবরের নির্বাচন জেরেমি করবিনের জন্য কোনভাবেই তুরুপের তাস নয়-টনি ব্লেয়ার তাই বার বার কঠোরভাবে সরকারের ট্রাপে পা দিতে করবিনকে নিষেধ করেছেন।

 

এখন দেখা যাক, মধ্যবয়সে থাকা ওয়েস্টমিনিস্টারের ঐতিহ্যবাহী  এই গণতন্ত্রের জয়ঢংকা কনজারভেটিভ না লেবার দল সামনে নিয়ে চলে-আর কিছুদিনের মধ্যেই সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

 

৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, লন্ডন-গ্রিন উইচ ইউনিভার্সিটি ।

 

 

One response to “ব্রেক্সিট ভুমিকম্পে পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসিতে এখনও জনসনের হাতে ৪ তুরুপের তাস”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.







পাঠক

Flag Counter

UserOnline



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!