বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় লুটেরাদের আষ্ফালন

প্রকাশিত: ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৫৭:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় লুটেরাদের আষ্ফালন


#সাইফুর রহমান কায়েস#
৩৭ লক্ষ টাকা একখানি পর্দার দাম। মনে হয় সেটি প্লাটিনামের তৈরী। চোখের পর্দা উঠে গেছে বলেই এমন দুর্নীতি করার সাহস ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের কর্তৃপক্ষ দেখিয়েছে। মোট ৪১ কোটি টাকার লুটযজ্ঞ সম্পাদিত হয়েছে। দুর্বৃত্তায়ন কতোটুকু প্রাতিষ্ঠানিকতা পেলে এরকম হয় সেটি এখন আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে। বালিশ কেলেঙ্কারি, বাশ কেলেঙ্কারির পর এটা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকিউরমেন্ট কেলেঙ্কারি। দালানে রডের বদলে বাশ দিয়ে জাতিকে বড় ধরনের বাশ দিয়েছে দুর্নীতির বরপুত্রেরা। ব্যাংক কেলেঙ্কারি, রিজার্ভের সোনা তামা হয়ে যাওয়া,রিজার্ভের টাকা জুয়ার বোর্ডে চলে যাওয়ার মতো বিরাট কৃষ্ণবিবরে পড়ে জাতির গূহ্যদ্বার রক্তাক্ত হয়ে গেছে। আর কতো সইবে এই জাতি।
আমরা দেখছি ৫ লক্ষ কোটি টাকার বিরাট বিলাসি বাজেট। আমার মনে হয় এর সিংহভাগ ব্যয়িত হবে দুর্নীতি লালন ও পরিপালন এবং পরিতোষণে। বছরান্তে দেখানো হবে মিসেলিনিয়াস এক্সপেন্স হিসাবে। রাষ্ট্র তার জায় কিভাবে মেলায়?
রাষ্ট্র কি তবে ধীরেধীরে অকার্যকর একটা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে? বিকল হয়ে যাচ্ছে? আমরা দেখছি একটি কর্তৃত্বপরায়ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা। যেখানে প্রধানমন্ত্রী আর উচ্চ আদালত ব্যতীত বাকী প্রতিষ্ঠানগুলি রাষ্ট্রের ভেতরে থেকেও নেই। থাকলেও এর অস্তিত্ব আমরা টের পাই না তাদের হাতপা গুটিয়ে বসে থাকার কারণে।
একজন যুগ্মসচিবকে প্রোটকল দিতে যান ও জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে, এমনকি তিতাসের মতো ছাত্রের মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটলেও ফেরি শ্রমিক ছাড়া বাকিরা রাষ্ট্রের তরফে নির্দায় সনদ লাভ করায় রাষ্টের প্রতি গণের আস্থার সংকটটি প্রতীয়মান হলো আরেকবার।

প্রান্তিক মানুষকে দায়ী করা খুবই সহজ।কারণ তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ অবরুদ্ধ। নিরবে চোখের জল ফেলা আর আল্লাহর কাছে বিচার দেয়া ছাড়া আর কিছুই থাকে না। আর ক্ষমতাবানরা নিজেই অধীশ্বর। এদের বলয়ে যুক্ত থাকে আরো বেশি ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা। ফলে এদের টিকিটি ধরা গণের বা গণের দ্বারা মনোনীত প্রতিষ্ঠানের জন্য জটিল হয়ে পড়ে।
নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিলাভ যেখানে মুখ্য হয়ে পড়ে সেখানে দুর্নীতি অপ্রশমিত, প্রাতিষ্ঠানিকতা পেয়ে যায় খুবই সহজে। এ প্লাস বি হোল স্কয়ারের মাজেজা তখন জাতিকে আরো বেশি ক্লিষ্ট, ক্ষীণ করে তোলে।
এ যাবৎ ঘটে যাওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয় নি। যার অর্থ দাঁড়ায় দুর্নীতির কাছে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আত্মসমাহিত হয়েছেন। আপোষ করেছেন। যেজন্য একটির পর আরেকটি কেলেঙ্কারি মাথাছাড়া দিয়ে উঠে।
শুদ্ধাচার বলে বলে অজ্ঞান হয়ে গেলেও জনপ্রশাসনের কোনো স্তর থেকেই জনগণ এর সুফল পাচ্ছেন না। দুর্নীতির লাঘামহীন আষ্ফালনের কারণে। আওয়াজে পাকিস্তানের খপ্পরে পড়েছে এই দেশ, এই জাতি।
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় এই লুটেরাদের জায়গা হয় কিভাবে? এই মাটি কি তাদের গ্রাস করবে না?