আপডেট ১৫ min আগে ঢাকা, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ গণমাধ্যম

Share Button

লন্ডন হাই কমিশনের ওয়েব সাইটে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা উপেক্ষিতঃহাইকমিশন সাইট ব্যক্তির প্রচারনা তুঙ্গে!

| ১৫:৩৩, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯

লন্ডন । ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯। বাংলাদেশ হাই কমিশন হলো বহিঃর্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিনিধিত্বকারী সংস্থা বা পজিটিভ বাংলাদেশ তুলে ধরার মাধ্যম। আর চিরাচরিত বাংলাদেশ সরকারের ট্র্যাডিশন হিসেবে সরকারের উন্নয়ন কর্মকৌশল, দর্শন, ফরেন পলিসি, বিনিয়োগ, সরকার প্রধানকে সামনে রেখেই কর্মযজ্ঞ ও কৌশল সাজাবে এটাই স্বাভাবিক।

সম্প্রতি বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের নতুন ওয়েব সাইট নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। নিঃসন্দেহে সেটা এক সুন্দর এবং ভালো উদ্যোগ। আজকাল প্রযুক্তি যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে সর্বত্র স্থান দখল করে আছে এবং প্রযুক্তির কল্যাণে যোগাযোগ অনেক সহজ ও স্বাভাবিক হয়েছে। সেক্ষেত্রে হাই কমিশনের উদ্যোগে নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন ওয়েব সাইট প্রবাসিদের ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ হাই কমিশনে সেবা পৌছে দেয়ার উদ্যোগে উজ্জীবীত করবে সন্দেহ নেই।

০২) বাংলাদেশ সরকার বিশেষ করে আওয়ামীলীগ এবং প্রধানমন্ত্রী সহ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সহ বাংলাদেশের সকল মন্ত্রণালয়ের কাছে বড় আকারের যে প্রোগ্রামটি টার্গেট হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার জন্য বিশেষ কৌশল সরকারের উদ্যোগে নেয়া হয়েছে, আর তা হলো বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিশাল এক কর্মযজ্ঞ  সরকার হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের বড় আকারের আরেকটি টার্গেট হলো, জন্মশতবার্ষিকী পালনের লক্ষ্যে লন্ডন থেকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সকলের অংশ গ্রহণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন দর্শন নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রেস কনফারেন্স আয়োজনের, যার লক্ষ্যে সরকারের নীতি নির্ধারকরা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন।

০৩) হাই কমিশনের নতুন ওয়েব সাইটে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিশাল আন্তর্জাতিক কর্মযজ্ঞ নিয়ে যেমন তেমন কোন কর্ম কৌশলের তথ্য নেই, তেমনি ওয়েব সাইট খোলার বা ক্লিক করার সাথে সাথেই পত্র পত্রিকায় যেভাবে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়, বিশেষ করে অনলাইন পত্রিকায় যেভাবে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়, এবং বিজ্ঞাপনের কোনায় ক্রস থাকে, পাঠক চাইলে সেটা ক্লিক ক্রস করে বিজ্ঞাপনটিকে একেবারে ওয়েব সাইট থেকে সরিয়ে দেয়া-যাতে পড়ার সময় বিরক্তির কারণ না হয়, ঠিক সেরকম বিজ্ঞাপন আকারে, বিজ্ঞাপনের সাইজ অনুসারে হাই কমিশনের নতুন ওয়েব সাইটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইংরেজিতে সীমিত আকারের তথ্য ওয়েব সাইটের শুরুতে আসলেও পরে আর ওয়েব সাইটের কোথাও সহজে কারও পক্ষে খুজে পাওয়া দুষ্কর, যদি না তিনি ওয়েব সম্পর্কে এক্সপার্ট না হন।

০৪) বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের বড় ধরনের এলার্জি রয়েছে-এটা সর্বজন স্বীকৃত। স্বাধীনতা বিরোধী, জামায়াত বিএনপিও এটা অবলীলায় স্বীকার করে থাকে। বর্তমান সরকারের বহির্বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ উইং হিসেবে লন্ডন হাই কমিশন কেমন করে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে সামনে রেখে জাতির জনককে এভাবে বিজ্ঞাপন আকারে নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করার দৃষ্টতা দেখায়?

(ওয়েবসাইট ওপেন করলেই এই বড় আকারের ছবির উপরে বিজ্ঞাপন আকারে ছোট সাইজের বঙ্গবন্ধুর ছবি ও সীমিত তথ্য যা একবার ক্রস করলে আর খুজে পাওয়া যায়না(৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই অবস্থা)

এখানেই হাই কমিশন থেমে থাকেনি। ওয়েবসাইটের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর ছবি ও সীমিত তথ্য বিজ্ঞাপন আকারের ক্রস আউট করার পরেই বিশাল কালারফুল যে ছবিটি ওয়েবসাইটে ভেসে উঠে সেটা হলো হাই কমিশনার সাইদা মুনার ছবি, সাথে অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামালের সাথে নাটকীয় ভঙ্গীতে মন্ত্রীর সাথে একজন মন্ত্রী কলিগ বসে আছেন-বিশ্বকে হাই কমিশনার কী সিগনাল দিতে চান এই ছবির মাধ্যমে- হাই কমিশন, ফরেন মিনিস্ট্রি, সরকারি কর্মকর্তার কোড অব কন্ডাক্ট এবং রুলস অব বিজনেস খুজেও এর কোন রহস্য বা কিনারা পাইনি। ব্যক্তিগতজীবনে অর্থমন্ত্রী হয়তো হাই কমিশনারের বন্ধু হতে পারেন, রুলস অব বিজনেস অনুসারে হাই কমিশনার কী অর্থমন্ত্রীর কলিগ? বোধগম্য নয় এমন ছবি হাই কমিশনারের ওয়েব সাইটের শুরুতে কেন প্রদর্শন করা হচ্ছে?

দ্বিতীয়তঃ সরকারি কর্তা হিসেবে হাই কমিশনারের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কিংবা রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ অথবা হাই কমিশনারের উর্ধতন হিসেবে ফরেন মিনিস্টার ডঃ আব্দুল মোমেনের ছবিই বরং যুক্তিসঙ্গত হতো যদি ওয়েব সাইটে প্রদর্শিত হতো-ঢাকা সহ বিশ্বের অন্যান্য হাই কমিশনের কর্তাদের এমনটাই অভিমত। তবে খুজেও হাই কমিশনারের সাথে প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির ছবি ওয়েবসাইটের শুরুতে প্রদর্শনের কোন চিহ্ন এই রিপোর্ট লেখার সময়( রোববার বেলা ৪টা) পর্যন্ত পাইনি।

কারও কারও প্রশ্ন, হাই কমিশনারের কাছে প্রধানমন্ত্রী কিংবা ফরেন মিনিস্ট্রির চাইতে অর্থমন্ত্রণালয় এবং অর্থমন্ত্রী অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং বহির্বিশ্বে তিনি সেই সিগন্যালই দিতে চান বলেই হয়তো এরকমভাবে ওয়েবসাইটে তিনি বুঝে শুনেই সেটা প্রদর্শন করছেন। বাংলাদেশের ফরেন পলিসি কী প্রধানমন্ত্রী এবং ফরেন মিনিস্ট্রিকে  ওভারটেক করে অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয় কী প্রভাব বিস্তার ও বাস্তবায়ন করে কিনা সেটাও একটা মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন? অনেকের মতে, বিশ্বে যা ঘটেনা, বাংলাদেশে সেটাও ঘটে হয়তো?

রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার। তিনি যদি লন্ডন হাই কমিশনের ওয়েব সাইটে থাকেন উপেক্ষিত, বঙ্গবন্ধুওকে না হয় আপাতঃ তর্কের খাতিরে বাদ দিলাম, যদিও বঙ্গবন্ধুর ফরেন পলিসিই এখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দর্শন এবং সরকারেরও; তাই বলে কী রাষ্ট্রের প্রধান প্রধানমন্ত্রী ও তার দর্শন লন্ডন হাই কমিশনে থাকবে উপেক্ষিত? তাহলে বিদেশীরা কার সাথে কাকে দেখে, কী দেখে কেমনভাবে যোগাযোগ করবে, আসবে বিনিয়োগ করতে? আর এভাবে একজন সরকারি কর্তা যদি পুরো হাই কমিশনকে নিজের ব্যক্তি ইমেজ ও প্রচারে নিয়োজিত করেন, তাহলে বিশ্বের অন্যান্য দেশে থাকা হাই কমিশন ও এম্বাসির কর্তা ব্যক্তিরা কী সিগন্যাল পাবেন? তারাও যদি তাই করা শুরু করেন? তাহলে সরকারের চেইন অব কমান্ডের কী হবে?

ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমনকি পাশের দেশ ভারত মালয়েশিয়া হাই কমিশনের ওয়েব সাইটে এরকম একজন ব্যক্তির প্রচার পুরো রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধায় করা হয় কিনা -আমি খুজে পাইনি, আপনারা কেউ পেলে আমাকে জানালে ভুল শুধরে নেবো। অথবা রাষ্ট্রের প্রধানকে এভাবে তুচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হয় কিনা, আমার জানা নেই? হাই কমিশনারের নিজস্ব(ব্যক্তিগত) ওয়েব সাইটে যেটা করা যায়, সেটা রাষ্ট্রের ওয়েব সাইটে কী করা যায়?

 

কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, ব্যক্তিগত কোন ক্রোধ আক্রোশ নয় বা অনুরাগের বশবর্তী হয়ে নয়, সরকারের রুলস অব বিজনেস, সরকারি কর্তাদের কোড অব কন্ডাক্টের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেই নতুন ওয়েব সাইট নিয়ে এই মূল্যায়ন।

 

 

পাঠক

Flag Counter

UserOnline

Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!