জালিয়াতি, প্রতারণা, ভুয়া কোম্পানি, ভুয়া পে স্লিপ, অবৈধ ব্যাংক লেনদেন দেখিয়ে ব্রিটেনের বৃহত ভিসা জালিয়াতি চক্র ফাঁস

প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | আপডেট: ৩:১১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

লন্ডন রিপোর্টার্স ইউনিটি। লন্ডন। ওয়ার্কিং ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটকে মূলতঃ তারা প্রতারণা, ভুয়া ডকুম্যান্টস, আর অবৈধ ব্যাংকিং লেন দেনের মাধ্যমে সেক্রেটারি অব ষ্ট্যাটকে ধোকা দিয়ে ৯০০ ইমিগ্র্যান্টকে অবৈধ সুবিধা প্রদান করে ভিত্ত বৈভব ও আখের গুছিয়ে নিলেও অবশেষে এইচএমআরসি, হোম অফিস, বর্ডার এজেন্সির যৌথ অভিযান আর ক্র্যাক ডাউনে শেষ মেশ তাদের কারসাজি ধরা পড়ে এবং আদালতে দোষী সাব্যস্থ হন। এই অবৈধ ও প্রতারণা ইমিগ্র্যাশন বাণিজ্য ও হোম অফিস ও এইচ এম আর সিকে ধোকা দেয়ার জালিয়াতি চক্রের কেউ কেউ আদালতে দোষী সাব্যস্থ হলেও তাদের কেউ কেউ আবার পালিয়ে বাংলাদেশে যেতে সক্ষম হয়। এরকম একজন ইমিগ্র্যাশন ভিসা প্রতারক আদালত যার নাম জানিয়েছেন, তিনি হলেন আবুল কালাম মোহাম্মদ রেজাউল করিম, যিনি বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে এমপি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে আদালত অবগত হয়েছেন।

 

অন্যান্য ভিসা জালিয়াতি চক্রদের মধ্যে  আদালত জানান, তারা হলেন ট্যাক্সি ড্রাইভার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান খান (৪৩), ৪৬ বছর বয়সী মাজহারুল হক ও তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম(৪৫), শাহেদা রোকসানা(৪৭) পরষ্পর যোগসাজসে ভুয়া কোম্পানী ও ভুয়া ডকুম্যান্টস প্রদানের মাধ্যমে ইমিগ্র্যান্টদের সুবিধা দিয়ে স্থায়ী ভিসা অথবা ব্রিটেনে থাকার বা পার্মানেন্ট স্টে পারমিশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, আদালতের মতে, এদের সংখ্যা প্রায় ৯০০ হবে।

এই জালিয়াতি চক্র তাদের ক্লায়েন্টদের সুবিধার্থে ৫৩টি ভুয়া কোম্পানি-ফাইন্যান্স এম্পায়ার, ইমিগ্র্যাশন ফর ইউ, মো স্পাইস নামের রেস্তোরা প্রতিষ্ঠা করে এসব অবৈধ সেবা দিয়েছে। তারা তাদের কোম্পানির ভুয়া কাগজ পত্র, এমনকি তাদের কোম্পানি থেকে ভুয়া বেতন ক্লায়েন্টদের একাউন্টে প্রদানের মাধ্যমে ইমিগ্র্যাশন, হোম অফিসকে ধোকা দিয়েছেন, যাতে মনে হয় তাদের ক্লায়েন্ট ইমিগ্র্যাশন আইনের যথাযথ বেতন পাচ্ছেন এবং ফাইন্যান্সিলি তারা ওয়েল ইস্টাবলিশ।

 

এসব করতে গিয়ে তারা এইচএমআরসিকে ধোকা দিয়েছেন, ট্যাক্স প্রদানের ভুয়া তথ্য ও আজগুবি ভুয়া ডকুম্যান্টসের মাধ্যমে।

 

আদালত জানতে পারে, এমনও একজন ইমিগ্র্যান্ট যিনি টেকওয়েতে কাজ করেন অথচ অফিসিয়ালি এবং ব্যাংক ষ্ট্যাটম্যান্টের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করে হোম অফিসকে যে তার বেতন ৫০,০০০ পাউন্ড বছরে পাচ্ছেন যথাযথ।

 

এরকম ভুয়া কাজের জন্য তারা কমপক্ষে প্রতিটি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে ৭০০ পাউন্ড করে ফি নিয়েছেন।

 

জাজ মার্টিন গ্রিফিথ তার রায়ে লিখেছেন, এটা ইমগ্র্যাশন এর ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কেলের ফ্রড। তিনি আরো লিখেছেন, অধিকাংশ লোক এদেশে আসেন অর্থনৈতিক কারণে কিন্তু তা করতে গিয়ে তারা অনৈতিক সার্ভিস প্রদানকারীদের কাছে যান। জাজ আরো লিখেছেন, আপনারা এই চক্র সম্মিলিতভাবে ইমিগ্র্যাশন এবং সেক্রেটারি অব ষ্ট্যাট এবং পাবলিক রেভিন্যুকে ধোকা দিয়েছেন।

 

বাকী চারজন সাবেক ইমিগ্র্যাশন এডভাইজর ডেগেনহ্যামের এনামুল করিম এবং  বকর উল্লাহ, সেন্ট আলবন্সের একাউন্ট্যান্ট জালফা ত্রিভেদি,ইস্ট লন্ডনের সাবেক ইমিগ্র্যাশন এডভাইজর তমিজ উদ্দিনের এই জালিয়াতির অভিযোগে জেল দন্ড দিয়েছিলেন আদালত।

Abul Kalam Muhammad Rezaul Karim, the member of the gang who went on the run, reportedly stood for election in Bangladesh last year

(এই  ছবি ডেইলি মেইল, ইভনিং ষ্ট্যান্ডার্ড থেকে নেয়া)

আজ জাজ  এই জালিয়াতি চক্রের সেন্টেন্স বাতিল করে লিখেন, এই সেন্টেন্সের সাথে জেল জড়িত কিন্তু আমি আপনাদের আজকে প্রিজনে পাঠাবোনা।  খান দুই বছর, রোক্সানা ১৯ মাস, বেগম ১০ মাস, হক ১৬ মাস-তাদের প্রত্যেকেই দুই বছরের সেন্টেন্স সাসপেন্ড করেন। তাদের সদস্য আইনের ছাত্র আবুল কালাম মোহাম্মদ রেজাউল করিম ব্রিটেনের আদালত এড়াতে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন বলে জাজ উল্লেখ করেন।