আপডেট ১ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ আইন আদালত

Share Button

মা বাবার কলিজার টুকরা ছোট্র তাফিদার জন্য শেষ চেষ্টা

| ২৩:২৪, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯

লন্ডনে একটি হাসপাতালের বিছানায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছোট্ট তাফিদাকে বাঁচার সুযোগ দিতে আদালতের কাছে আকুতি জানিয়েছেন মা সেলিনা রাকিব। লাইফ সাপোর্ট খুলে নিয়ে তাফিদার জীবনের অবসান ঘটানো হবে কি হবে না; এ নিয়ে শুক্রবার যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে টানা পাঁচ দিনের শুনানি শেষ হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার মা সেলিনা রাকিব আদালতে শেষবারের মতো তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

বিচারক অ্যালিস্টেয়ার ম্যাকডোনাল্ড সেলিনার কাছে জানতে চান, তাঁর মেয়ে আদালতকে কী বলত? জবাবে সেলিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়ে বলত, “আমি এমন কী অন্যায় করেছি যে আমার সঙ্গে এসব হচ্ছে? কেন আমাকে বাঁচার সুযোগ দেওয়া হবে না? আমার মা–বাবাই আমার সব। তাঁরা আমার জন্য সবকিছু করবেন। এটা আমার জীবনের বিষয়। অন্য কেউ এর মানে বুঝবে না। আমি কেবল বেঁচে থাকার সুযোগ চাচ্ছি”।’

মাত্র পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু তাফিদা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে হাসপাতালের বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘কোমা’। তাফিদার আর জেগে ওঠার সম্ভাবনা নেই এমন যুক্তিতে পূর্ব লন্ডনের রয়্যাল লন্ডন হাসপাতাল লাইফ সাপোর্ট খুলে নিয়ে শিশুটির জীবনের অবসান ঘটাতে চায়। আর মা–বাবা নিজস্ব খরচে ইতালির জেনোয়ার গ্যাসলিনি চিলড্রেন হসপিটালে নিয়ে তাফিদাকে আরও চিকিৎসা দিতে চান। যে কারণে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

তাফিদা। ছবি: সংগৃহীত

(তাফিদা। ছবি: সংগৃহীত)তাফিদার বাবা মোহাম্মদ রাকিব (৪৫) ও মা সেলিনা রাকিব (৩৯) দুজনেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তাঁদের বাড়ি সিলেটে। যুক্তরাজ্যে এই পরিবারের বসবাস পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যাম এলাকায়। সন্তানকে নিজস্ব খরচে ইতালিতে নিয়ে চিকিৎসা করাতে তাঁরা তহবিলও সংগ্রহ করেছেন। ইতালির চিকিৎসকেরা তাফিদাকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করতে রাজি। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, লাইফ সাপোর্ট দিয়ে তাফিদাকে আরও ১০ থেকে ২০ বছর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। কিন্তু যুক্তরাজ্যের রয়্যাল লন্ডন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাফিদার জেগে ওঠার সম্ভাবনা নেই। অঙ্গহানি ও যন্ত্রণা এড়াতে জীবনের অবসান ঘটানো তাফিদার জন্য উত্তম।

পেশায় আইনজীবী সেলিনা রাকিব আদালতকে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, তাফিদা ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে। আমি বুঝি, আমার কণ্ঠ শুনে সে সাড়া দেয়। তাফিদা এভাবে বেঁচে থাকলেও আমি, তাঁর বাবা ও ভাই তাঁকে দেখতে পারব, আদর করতে পারব। মৃত্যু নিশ্চিত করা তাফিদার জন্য কোনো মঙ্গলজনক কাজ হতে পারে না।’

গত সাত মাসে তাফিদার তিনবার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে সেলিনা বলেন, ‘বেঁচে থাকার জন্য আমার মেয়ে আরও লড়াই করতে প্রস্তুত।’

সেলিনা জানান, মেয়েকে সার্বক্ষণিক সঙ্গ দিতে তিনি আইনপেশার কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। প্রতিদিন রাত দুইটা পর্যন্ত মেয়ের সঙ্গে থাকেন। পাঁচ ঘণ্টা পর আবার মেয়ের বিছানার পাশে হাজির হন। প্রতিদিন মেয়ের সামান্যতম নড়চড়গুলোও ধারাবাহিকভাবে লিখে রাখছেন, যা তিনি আদালতে উপস্থাপন করেন।

এ ছাড়া আদালতে কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়। একটি ভিডিওতে তাফিদার সার্বক্ষণিক নার্স তাকে বারবার ডেকে হাত বাড়াতে বলছেন। অন্য এক ভিডিওতে দেখা যায়, তাফিদা নার্সের আঙুল ধরেছে।

তাফিদাকে বাঁচানোর দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে আদালতে হাজির হন মোহাম্মদ রাকিব ও সেলিনা দম্পতি। একই দাবি জানিয়ে আদালতের সীমানাবেষ্টনীতে ঝোলানো হয় তাফিদার ছবিসহ ব্যানার। পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের প্রবেশপথসহ আরও বিভিন্ন স্থানে তাফিদাকে বাঁচানোর এমন বার্তা চোখে পড়ে। যুক্তিতর্ক শেষ। এখন বিচারকের রায়ের ওপর নির্ভর করছে তাফিদার জীবন।

গভীর ঘুমে ছোট্ট তাফিদা, আইনি লড়াই আদালতে

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০২
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৫

পাঁচ বছরের ফুটফুটে শিশু তাফিদা রাকিব। পূর্ব লন্ডনের রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটি গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘গভীর ঘুমে’ আচ্ছন্ন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই পরিস্থিতিকে ‘কোমা’ বলা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাফিদার এই ‘ঘুম’ ভাঙার তেমন আশা নেই। কাজেই তার জীবনাবসান ঘটানোই শ্রেয়। কিন্তু মা–বাবার ইচ্ছা তাফিদার চিকিৎসা চালানো। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে চলছে আইনি লড়াই। আজ শুক্রবার এ বিষয়ে শুনানি শেষ হবে। এরপর তাফিদার বিষয়ে আদালতের রায় জানা যাবে।

তাফিদার বাবা মোহাম্মদ রাকিব এবং মা সেলিনা রাকিব। দুজনেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। বাংলাদেশে তাঁদের বাড়ি সিলেটে। যুক্তরাজ্যে এই পরিবারের বসবাস পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যাম এলাকায়। সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশি এই দম্পতি মরিয়া হয়ে লড়ে যাচ্ছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে হঠাৎ তাফিদার কান্নায় ঘুম ভাঙে রাকিব–সেলিনা দম্পতির। মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছিল তার। কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়ে তাফিদা। দ্রুত নেওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু চেতনা আর ফেরেনি। চিকিৎসকেরা বলেছেন, মস্তিষ্কে একটি ধমনি ও সরু রক্তনালির অস্বাভাবিক সংযোগের কারণেই তাফিদার মস্তিষ্ক আর কাজ করছে না। কয়েকটি হাসপাতাল পরিবর্তনের পর তাকে ভর্তি করা হয় রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, তাফিদার জেগে ওঠার সম্ভাবনা নেই। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, কৃত্রিম উপায়ে আর বাঁচিয়ে না রেখে তাফিদার জীবনাবসান ঘটাবেন তাঁরা।

হাসপাতাল চায় জীবনাবসান ঘটাতে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মা–বাবা চান চিকিৎসার জন্য ইতালি নিতে

তবে চিকিৎসকদের এই সিদ্ধান্তে রাজি হননি তাফিদার বাবা-মা। রাকিব–সেলিনা দম্পতি সন্তানকে বাঁচাতে যথাযথ চিকিৎসার খোঁজ শুরু করেন। ইতালির জেনোয়ার গ্যাসলিনি চিলড্রেন হসপিটাল তাফিদাকে চিকিৎসা দিতে রাজি হয়। মেয়েকে সেখানে নিতে চান তাঁরা। কিন্তু রয়্যাল লন্ডন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এতে বাদ সাধে। তাফিদার জীবনাবসানের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর বিপরীতে তাফিদাকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন করেন তাফিদার বাবা-মা। গত সোমবার এ বিষয়ে লন্ডনের হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে। আজ শুনানি শেষ হবে। এরপর রায় দেবেন আদালত।

রয়্যাল লন্ডন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী কেটি গোলোপ শুনানিতে বলেন, ইতালির চিকিৎসকেরাও একমত যে তাফিদার জেগে ওঠার সম্ভাবনা নেই। আর কৃত্রিম উপায়ে তাকে বাঁচিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো অকেজো হয়ে পড়তে পারে। ইতালি নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হলে রোগীর মঙ্গলের বিষয়ে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার খর্ব হবে।

জবাবে তাফিদার মা–বাবার পক্ষের আইনজীবী ডেভিড লক বলেন, তাফিদাকে ইতালিতে নিতে না দেওয়া হবে ভয়ানক নজির। যেকোনো দেশে নেওয়ার এবং চিকিৎসা করানোর অধিকার তাফিদার পরিবারের রয়েছে। ইতালির চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এভাবে কৃত্রিম উপায়ে তাফিদাকে আরও ১০ থেকে ২০ বছর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।

Comments are closed.

পাঠক

Flag Counter

UserOnline

Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!