আপডেট ১১ min আগে ঢাকা, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ অর্থ-বণিজ্য

Share Button

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, অর্থব্যবস্থাকে সুবিন্যস্ত রাখতে ডঃ এ কে এ মুবিনের মতো দক্ষ অর্থনীতিবিদের দরকার

| ০১:০৩, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

লন্ডন রিপোর্টার্স ইউনিটি। লন্ডন। ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯। যতো সমালোচনা এবং বিরোধীতা হউক না কেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিশ্ব আর্থিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থ ব্যবস্থাকে এক মজবুত ও স্থিতাবস্থার মধ্যে রেখে গেছেন, যদিও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বোদ্ধাদের কাছে বেশ কিছু সমালোচনাও রয়েছে, যুক্তিও রয়েছে। কিন্তু  মুহিত যখন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন, তখন বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক এক মন্দা অবস্থা বিরাজমান ছিলো। শক্তিশালী মুদ্রা ডলার, পাউন্ড বাজারে নিম্নগামী অবস্থানে ছিলো। স্টিল, স্বর্ণ, রৌপ্য, তেল, মিনারেলস সহ সকল ক্ষেত্রেই বিশ্ববাজারে ছিলো মন্দার পর মন্দা। এমনি অবস্থায় ছোট্র ও গরীব দেশের অর্থুমন্ত্রী হিসেবে দলীয় আধিপত্যের বিপরীতে বেশ কৌশলীভাবে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থাকে বেশ মজবুত ও স্থিতাবস্থার মধ্যে নিয়ে যান। এসময়ে বেশ কিছু বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিও সেই মজবুত ও স্থিতিবস্থায় ধবস নামাতে পারেনি। এখানেই মুহিতের সব চাইতে বড় কৃতিত্ব।

মুহিত পরবর্তী অর্থিক ব্যবস্থায় শুরুতে না হলেও সেই আর্থিকখাতে ধীরে ধীরে পোকা, ছারপোকা ও উইপোকায় আক্রান্ত হতে চলেছে। ইতোমধ্যেই বিগত মাসে প্রায় আড়াইশকোটি  হাজারের উপরে মূলধন শেয়ার বাজার থেকে দেশের বাইরে চলে গেছে। স্থানীয় প্রধান প্রধান সংবাদ মাধ্যমের এমনই খবর, যার কোন প্রতিবাদ আর্থমন্ত্রণালয় থেকে এখনো দৃশ্যমান হয়নি। আর টিআইবি সম্প্রতি জানিয়েছে, বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী ছাড়া আর কোন মন্ত্রী এর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মুখ খোলেননি। অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল গতকাল বলেছেন টাকার কোন অভাব নেই। অথচ দেশের ভিতর ও বাইরের সকল উৎসের খবর হলো সরকার এখন হন্যে হয়ে টাকার খুজে। নানা উৎস থেকে টোল আদায়ের পর এখন নতুন নতুন ক্ষেত্র টোল আদায়ের ক্ষেত্র খোজা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সহ বিশ্বব্যাংক, এডিবি, ইউএনডিপি, বিশ্ব আর্থিক পর্যবেক্ষণ সবাই বিগত অর্থমন্ত্রীর(মুহিত) আমলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণ, প্রবৃদ্ধির হার ৬ এর ঘর অতিক্রম করা সহ আর্থিক খাত সুরক্ষার নানা রিপোর্ট দেশে বিদেশে প্রকাশিত হয়েছিলো। মাত্র দুবছরের কম সময়ের মধ্যে সেই স্থিতাবস্থায় এমন কী আলাদীনের ম্যাজিক ঘটলো, যা সুরক্ষিত আর্থিক খাতকে তছনছ করে দিচ্ছে।

দক্ষ প্রশাসক এবং প্রশাসনের সাথে সুরক্ষিত ও সুবিন্যস্ত শক্তিশালী আর্থিক স্থিতাবস্থা একটা দেশের প্রাণ। সন্দেহ নাই সরকার প্রধান হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা অপ্রতিদ্বন্ধি এবং নানা প্রতিকুল অবস্থা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অত্যন্ত দক্ষতার মধ্য দিয়ে প্রশাসনের ও মন্ত্রণালয়গুলোর জরুরী সকল দিকই দেখভাল ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। মাঝে মাঝে জরুরী প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে প্রশাসনে গতি আনার চেষ্টা করেন ও সমস্যা দুরীকরনে সহায়তা করেন।

আওয়ামীলীগের সামনে এখন ভিশন ২০৪০। প্রধানমন্ত্রী তার উন্নয়ন দর্শন ও ২০৪০ এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণের লক্ষে নানামুখী চৌকস ও ব্যতিক্রমধর্মী কর্মকৌশল নিচ্ছেন। প্রশাসনের সর্বত্র গতি এবং মন্ত্রী পরিষদের কাজের পারফর্ম্যান্স আরো বৃদ্ধি তথা যুগোপযোগী করার লক্ষে শীগ্রই প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীসভায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। সে লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দফতর কাজও শুরু করেছে। মন্ত্রীপরিষদে আরো কিছু নতুন মুখ আনার কথাও শোনা যাচ্ছে এবং যারা ইতোমধ্যে নিজেদের কাজের গতি আনতে ব্যর্থ হচ্ছেন, তাদের পরিবর্তন বা বদলী এবং দক্ষতার উতকর্ষতা যারা দেখাচ্ছেন তাদের পদায়ন উন্নতির কৌশল সাজাচ্ছেন।

মুহিত পরবর্তী আর্থিক খাতের মজবুত স্থিতাবস্থা ও প্রবৃদ্ধির লক্ষমাত্রা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর দরকার একজন দক্ষ ও পেশাদার অর্থনীতিবিদের, যিনি ইতোমধ্যেই বিগত ৬৫ বছরের চাকুরী জীবনে নানা ঘাত প্রতিঘাতে সততা, আন্তরিকতা, প্রফেশনালিজম ও আর্থিকখাতে শৃঙ্খলা ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সুবিন্যস্ততার ট্র্যাক রেকর্ডের অধিকারি। বলছিলাম সাবেক অর্থ সচিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম দিককার শাসনামলের যমুনা সেতু বিভাগের প্রথম দক্ষ সচিব, অর্থনীতিবিদ ডঃ এ কে আব্দুল মুবিনের কথা। 

ডঃ আব্দুল মুবিন তার চাকরী জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে নিজের দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন। বাংলাদেশ সরকারের বৃহৎ সেতু প্রকল্প যমুনা সেতু বিভাগে সচিব থাকা অবস্থায় আব্দুল মুবিন এই বিভাগকে একটি শৃংখলা ও আর্থিক সুবিন্যস্ততার মধ্যে নিয়ে এসে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।টোল আদায়ের বিশ্ব বাজারের ও বৈদেশিক ব্যবস্থাপনার আঙ্গিকে দেশীয় বাজারে সাজুয্য রেখে সুন্দর এক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে সঠিক পদ্ধতিতে জমাদানের ব্যবস্থা করেছিলেন।

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারি ডঃ মুবিন অর্থমন্ত্রণালয়ের সচিব থাকা অবস্থায় ব্রিটিশ সরকারের চ্যান্সেলর ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্ণর স্যার মারভির সাথে সফল বৈঠকের মাধ্যমে তখনকার সময়ে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও বৈদেশিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক গতিশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনার সূচনার স্বাক্ষর রেখেছিলেন, যার প্রশংসা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্ণরও প্রশংসা করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রায় সকল অর্থমন্ত্রীদের সময়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ডঃ আব্দুল মুবিন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করার দুর্লভ এক গৌরবের অধিকারি। তাদের মধ্যে যেমন রয়েছেন প্রয়াত সাইফুর রহমান, প্রয়াত এ এস এম কিবরিয়া, সাইদুজ্জামান, এ এম এ মুহিত সহ আরো অনেকেই। সরকারের পক্ষ থেকে অবসর জীবনেও ডঃ মুবিন ন্যশনাল টি কোম্পানিতেও সরকারকে এখনো কিছু কিছু সীমিত এডভাইজরি সেবা প্রদান করে থাকেন। বিগত আওয়ামীলীগের সরকারের সূচনাতে বেসরকারি খাতের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাবস্থায়ও নানামুখী প্রাক্কলন ও উন্নয়নমূলক সারণী ও পরিকল্পণা প্রদানে ভুমিকা রাখেন।

ব্যক্তিগত জীবনে প্রচার বিমুখ এবং লোভ লালসার উর্ধে ডঃ আব্দুল মুবিন নানান আর্থিক খাত সংস্কার, ব্যাংকিং ও অর্থব্যবস্থাপনার উপর দেশ বিদেশে সেমিনারে অংশ গ্রহণ ছাড়াও  বিশ্বখ্যাত আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রকাশনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন।

আমাদের শেয়ার বাজারের টালমাটাল ও নানামুখী আর্থিক স্ক্যান্ডাল নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতাবস্থায় নিয়ে আসার, ব্যাংকিং খাতে ক্রমাবনতি দূরীকরণের মাধ্যমে সুশৃংখল  ও সুবিন্যস্ত এক মজবুত আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসা, বৈদেশিক বিনিয়োগ, আমদানি রফতানি বাণিজ্যের আর্থিক বাধা সমূহ ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য সহজীকরণ ও উদার অর্থনীতি ও বিশ্ববাজারের নানামুখী সুবিধার মাধ্যমে অর্থব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বিশ্ববাজারের উপযোগী শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সহ যমুনা সেতুবিভাগের সফলতার ট্র্যাক রেকর্ডের অধিকারি নির্লোভ ও নিরঅহংকারি অর্থনীতিবিদ ডঃ এ কে আবদুল মুবিনকে অর্থমন্ত্রী করে সরকারের ভিশন ২০৪০ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের পথ অবারিত করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আগামী মন্ত্রী পরিষদ পুনর্বিন্যাসে এদিকে দৃষ্ঠি দিবেন এমনটাই আশা করি।

 

লন্ডন, ১৪ সেপ্টেম্বর,২০১৯ ।

 

 

 

Comments are closed.

পাঠক

Flag Counter

UserOnline

Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!