বেলগ্রেডে বাংলাদেশ ও সার্বিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি শীর্ষক সেমিনার

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | আপডেট: ৭:২৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক। ইতালি। ইতালির বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বেলগ্রেডে বাংলাদেশ ও সার্বিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি বিষয়ক সেমিনারে যোগদান করেন। রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সার্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে “চেম্বার ভবনে” এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র, বিদ্যমান বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ, বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমুহ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং বাংলাদেশ ও সার্বিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে সেমিনারে আলোচনা করা হয়। এক্ষেত্রে ‍দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, দ্বৈতকর অব্যাহতি চুক্তি এবং দু’দেশের বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক চুক্তি করা যায় মর্মে সেমিনারে মত প্রকাশ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবহান সিকদার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারে সার্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া অনুবিভাগের কর্মকর্তা এবং চেম্বার অব কমার্স এর নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ৩০ জন সার্বিয়ান ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চেম্বার অব কমার্স-এর আন্তর্জাতিক বিভাগের পরিচালক মিজ জেলেনা জোভানোভিস।

রাষ্ট্রদূত প্রথমেই বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২০২১ এবং ভিশন-২০৪১ সম্পর্কে এবং বিগত দশ বছরে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র ব্যবসায়ীদের কাছে তুলে ধরেন। তিঁনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণে অর্থনৈতিক সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এ সম্পর্ক উন্নয়নে সরকারের ভূমিকার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য।

সেমিনারে ইকনমিক কাউন্সেলর মানস মিত্র একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন। প্রেজেন্টেশনের শুরুতে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বাংলাদেশের ইতিহাস এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। এরপর বাংলাদেশের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের বর্তমান অবস্থান এবং সার্বিয়ার সাথে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করেন। সবশেষে তিনি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) এবং হাই-টেক পার্ক-এ বিনিয়োগ করার সুযোগসহ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র তুলে ধরেন। বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে তিনি পোশাক শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল, তথ্য প্রযুক্তি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, সিরামিকস, নবায়নযোগ্য শক্তি, ব্লু-ইকোনমি এবং ট্যুরিজম বিষয়ে প্রেজেন্টেশনে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

উপস্থাপনার পর দু’জন সার্বিয়ান ব্যবসায়ী বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং উপস্থিত অন্যদেরকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসায় উৎসাহিত করেন। এরপর প্রশ্ন-উত্তর ও মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ব্যবসায়ীরা বিপুল আগ্রহ ও স্বতস্ফূর্তভাবে প্রশ্ন-উত্তর ও মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন । ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ সরকারের যুগোপযোগী ট্যাক্স, উদার বাণিজ্যনীতি ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক ও অগ্রগতির বিষয়ে বিভিন্ন বিষয় অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার ও ইকনমিক কাউন্সেলর