`বাঘে ধরলে ছাড়ে,শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়েনাঃ`হাসিনার কঠোরতায় যেভাবে পালটে গেলো সব

প্রকাশিত: ১১:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৩৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

চ্যানেল এইট। ঢাকা। ২১ সেপ্টেম্বর। ২০১৯। প্রয়াত রাজনীতিবিদ বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত একটি প্রবাদ বাক্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন আলোড়ন তুলেছিল। সুরঞ্জিত বলেছিলেন, বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু শেখ হাসিনা ধরলে আর ছাড়েনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই তার দীর্ঘ শাসনামলে সেটাই প্রমাণ করেছেন। শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের ছাড়েননি, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ছাড়েননি, দলীয় মাস্তান, ক্যাডার, লুটেরাদেরও ছাড়েননি। জুয়া হাউজি ক্যাসিনোর লম্পটদেরও ছাড়ছেননা।

দৃশ্যপট-০১ঃ

বেশ কিছুদিন থেকে অন্দর মহল ও বাইরে সর্বত্র কানা ঘুষা ছিল কিছু একটা হতে যাচ্ছে। বিরোধীরা এবং একটি কুচক্রী গোষ্টী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর ওয়াটস অ্যাপে কানাঘুষায় অপব্যাখ্যা চালিয়ে শেখ হাসিনা বিরোধী প্রশাসনের শক্তিশালী ও শৃংখলাবদ্ধ অগ্রসর বাহিনীকে নিয়ে গল্পের পর গল্প সাজাছিলো আর বাহবা নিচ্ছিলো। এরা সকলেই পরিবর্তীত বিশ্ব রাজনীতির অবস্থা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছিলো নিজেদের দলীয় স্বার্থে আর অন্ধ দলবাজীতে।

দৃশ্যপট-০২ঃ

৩ সপ্তাহ আগে শক্তিশালী শৃংখলাবদ্ধবাহিনীর কজন ছদ্দমবেশে বিদেশী সেজে খদ্দেরের বেশে ক্যাসিনোতে যান। সেখানে অপমানজনক অবস্থায় পড়েন। দলীয় অন্ধ অহমিকায় নিমজ্জিত সেই সব লুটেরারা বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দিয়েছিলো।

দৃশ্যপট-০৩ঃ

গণভবনে বিশেষ জরুরী বৈঠক বসে সীমিত এবং একান্ত বৈঠক। সিদ্ধান্ত হয়, সব সন্ত্রাসি, লুটেরা, সুযোগ সন্ধানী আওয়ামীলীগ, খুনীদের ব্যাপারে একশনে যাওয়ার। গঠণ করা হয় চৌকস সেনাদের সমন্বয়ে বিশেষ সেল। সরকারের সকল মন্ত্রী, দলীয় নেতা, সকল আইন শৃংখলা বাহিনী সহ যাদের সাথে দলীয় নেতা কর্মীদের দহরম মহরম  অন্ধকারে রাখা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, এখনি একশন নয়, উচুপর্যায়ের এই বৈঠকের ও সেলের খবর কোথাও ঠাহর হয় কিনা, সেটা যাচাইয়ের। ইতোমধ্যেই বৈঠক শেষের আগেই লুটেরাদের বিরুদ্ধে অভিযানের কঠোর বার্তা ও দিনক্ষণ জানিয়ে দেয়া হয়। উচু অভিযানের এই সেলের কর্তাদের সর্বময় এবং সকল লোভ লালসার উর্ধে ও ভয় ভীতির বাইরে থেকে জাতীয় স্বার্থে অভিযানের নিরংকুশ কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়।

ঢাকার আকাশে ভোরের পাখী ঢাকার আগেই উচু এই সেলের বাহিনীর সদস্যরা পুরো ঢাকার সাথে সারা দেশকে নিজেদের নেটওয়ার্কের আওতায় রেকি করে নিয়ে আসে। সিগন্যাল দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চলে গেলে গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হয়-যেকোনভাবেই হউক লুটেরা ও জুয়া ক্যাসিনো সহ সন্ত্রাসি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানের। ফলাফল তাই হতে চলে, তারপরেও দলীয় আধিপত্য আর অহমিকায় দলীয় পরিচয় দিয়ে বাধার প্রাচীর গড়তে চাইলে র‍্যাব সহ এই উচু সেলের সদস্যরা স্বরূপে আবির্ভাব হলে উপায়ন্তর দেখে দলীয় ও অন্যান্য সহযোগী সবাই পিছু হটে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০শে জানুয়ারির নির্বাচনের আগে একান্তে আলোচনায় বুঝিয়েছিলেন, ফের ক্ষমতায় এলে তিনি দল, সরকার ও প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান ও কঠোরভাবে দুর্নীতি, অপশাসন, লুটেরাদের বিরুদ্ধে একশনে যাবেন। সেদিনের একান্ত আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো বঙ্গবন্ধুর কন্যা অবশ্যই একজন দক্ষ এবং জনপ্রিয় শাসক হয়ে উঠবেন-সময় ও দিনক্ষনের প্রকাশ মাত্র। শেখ হাসিনা নিজেকে, দলকে, সরকার, প্রশাসনকে গুছিয়ে আনার জন্য সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন।

শেখ হাসিনা আমাকে বলেছিলেন, বাবা ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র অল্প সময়ের জন্য। দুর্নীতি ও লুটেরাদের চিহ্নিত করেছিলেন অল্প সময়ের ভিতরেই কিন্তু একশনে যাওয়ার আর সুযোগ পাননি। শেখ হাসিনার সেই আক্ষেপের সুর সেদিন হ্নদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম। মাঝে মধ্যে মনে হয় শেখ হাসিনা আলাপ করেন, কথা শুনতে চান, আবার মনে হয়, তিনি সবার কাছ থেকে যাচাই করে নেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেন। এখানেই শেখ হাসিনার সব চাইতে বড় পরিচয়-যা অনেকের কাছেই বোধগম্য হয়না। যেকারণে অনেক কাছের জনও শেখ হাসিনাকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন অথবা ভুলের চোরাবালিতে পা রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে একজন শাসক হয়ে উঠছেন। শাসক-সেই শাসক, যিনি জনগনের পালসকে হ্নদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে পারেন এবং সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেন। শেখ হাসিনা লুটেরাদের ব্যাপারে এতো কঠোর হয়েছেন, তাদের গণভবন সহ সর্বত্র অ্যাক্সেস বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ যাতে ছাড়া না পায়, সেজন্য জাতিসংঘে অবস্থানকালীন সময়েও অভিযান পরিচালনা রেখেছেন। কোন তদবিরেই যাতে ভাটা পড়ার সুযোগ না থাকে।

শেখ হাসিনা জানেন, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এরা সিঙ্গাপুরে বস্তা বস্তা টাকা নিয়ে গেছে, সিঙ্গাপুরে বিরোধী দলীয় ইউরোপের প্রবাসি নেতারও যাতায়াত। ক্যাসিনোর মাধ্যমে শুধু লুটপাটই নয়, দলের নামের আড়ালে বিরোধীদলের অবস্থান ধীরে ধীরে পাকাপোক্ত ও সরকার বিরোধী ছক কষা হচ্ছিলো, সরকারের মন্ত্রী ছিলেন প্রভাবশালী বাম নেতার প্রচ্ছন্ন সমর্থনে ক্যাসিনো ব্যবসার সাথে ছাত্রলীগ যুবলীগ আর কতিপয় এমপিদের সম্পৃক্ততা- সব তথ্য দ্রুত চলে আসে সরকারের হাতে অতি সঙ্গোপনে।শেখ হাসিনাও তার পরিকল্পনা সাজান-কঠোরভাবে অন্যায় দমনের সিগন্যাল দিয়ে দেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনড় অবস্থান নিয়েছেন। যেকোনো মূল্যে তিনি বিতর্কিত নেতাকর্মীদের লাগাম টেনে ধরতে চান। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন গডফাদার চলমান এ অভিযান নিয়ে ক্ষুব্ধ। তাঁরা এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তৎপর রয়েছেন। গডফাদাররা গত বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁদের সাক্ষাতের অনুমতি দেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগের আগে ওই গডফাদাররা তাঁর সঙ্গে আবারও সাক্ষাৎ করে কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ত্যাগের আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিযান অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। গণভবনসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার রাতে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো নালিশ শুনতে চাই না। ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি। নিজেদের ইমেজ বাড়াতে হবে। নীতি ও আদর্শ নিয়ে চলতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সমাজের অসংগতি দূর করতে হবে। একে একে এসব ধরতে হবে, আমি করব। জানি কঠিন কাজ; কিন্তু করব। জানি বাধা আসবে; কিন্তু আমি করবই।’ তিনি ছাত্রলীগ নেতাদের শো-অফের রাজনীতি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘কোনো শো-অফ চলবে না। সংগঠনকে ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ এ সময় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের অজো পাড়াগায়ের হাজার হাজার জনতা এখন নিশি রাতে কায়মনোবাক্যে একজন শেখ হাসিনার জন্য মোনাজাত করেন-যেন লুটেরা সন্ত্রাসিদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে তিনি সফল হন। তারা শেখ হাসিনার জন্য হ্নদয়ের অতলান্ত প্রদেশ উজাড় করে রাব্বুল আলামীনের দরবারে তার সফলতা ও দীর্ঘায়ূ কামনা করে দোয়া করেন। ক্যাসিনা ও লুটেরাবিরোধী ঝটিকা অভিযানের এখানে শেখ হাসিনার বড় সাফল্য।জয়তু শেখ হাসিনা-এগিয়ে চলুন, নিরন্ন জনগনের আশীর্বাদ আপনার সাথে চির অমলীন।

বলছিলাম সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের আপ্তবাক্য। অনেক দিন পরে হলেও জাতি প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের খনার বচনের ন্যায় সেই বহুল জনপ্রিয় আপ্তবাক্য জাতি এখন প্রত্যক্ষ করছে। সেনবাবু যদি জীবিত থাকতেন, তাহলে কেমন হতো…

(চলবে…)

 

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ।