যেভাবে ১/১১ পূণরাবৃত্তি রুখে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা(অডিও)

প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯ | আপডেট: ৮:২৫:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৯

চ্যানেল এইট। ঢাকা ও লন্ডন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯। বেশ কিছুদিন থেকে রাজনৈতিক পাড়া ও একজন প্রবাসি বিরোধী নেতার ইন্ধনে ও অঢেল টাকার জোগানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফের ১/১১র দিকে নিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন চলছিলো। সর্বত্র কানাঘুষা ছিলো, কিন্তু কেউ মুখ খুলছিলনা। প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সব দিকে নজর ও তথ্যের চুলচেড়া বিশ্লেষণ চলছিলো। ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন-অতি জরুরী(লাল চিহ্ন দিয়ে) ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গোচরীভুত করা হয়।

৩০ জানিয়ারির নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী ও তার কেবিনেট এবং দলবল গোছাচ্ছিলেন। প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী সব ক্ষেত্রেই এখন বিভাজন। কেউ কাউকে বিশ্বাস ও আস্থায় নিতে পারছিলনা। সন্দেহের তীর একে অন্যের প্রতি। মুহুর্তেই গোপণীয় সরকারি খবর কী করে বাইরে দ্রুত চলে যায়- উতকন্ঠা ছিল সবার মধ্যেই।

প্রতিবেশী দেশের প্রভাবশালী সংস্থায়ও ফাটল ধরে। চিড় ধরে তাদের ঐক্যমত্যে। বিগত হাই কমিশনার বিদায়ের পর সেই চিড় স্পষ্ঠ হয়ে উঠে। ধীরে ধীরে মুখোশ উম্মোচিত হতে থাকে নাটকের সিনারিও পর্দার অন্তরালের বিভাজন। প্রধানমন্ত্রী সব খেলা বেশ ভালোভাবেই নিজস্ব মাধ্যমে যাচাই বাছাই করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী জানেন, কখন গুটির চাল দিতে হবে। তার আগে সবাইকে খেলার সুযোগ দেন। প্রতিবেশী প্রভাবশালী দেশের সর্বোচ্চ মহল আর পশ্চিমা দেশের হাই কমান্ড থেকে দুটো বার্তা দ্রুততম সময়ের ভিতরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছে যায় নির্বিঘ্নে।

প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব একান্ত বলয়ের তথ্য, প্রতিবেশী দেশ ও পশ্চিমা দেশের হাই কমান্ডের তথ্য-একই সূত্রে গাঁথা। ইতোমধ্যে পূর্বমুখী দেশের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। সকলেরই অভিজ্ঞতা প্রায় একই ও কাছাকাছি। বিশ্ব রাজনীতির খেলার ছক পরিষ্কার। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব সিনারিও স্বচ্ছ হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বুঝে যান, ফের ১/১১ সিনারিও তৈরি করার ক্ষেত্র প্রস্তুতি চলছে। এখনি সময় ১/১১র সব প্লট তছনছ করে দেয়া। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন। এমন সিদ্ধান্ত-যা জাতির জন্য কল্যাণ, গণতন্ত্রের জন্য কল্যাণ, সন্ত্রাস, কালো টাকা ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। শুরু হয় ধরপাকড়। শুদ্ধি অভিযান ঘর থেকে শুরু-নাটের গুরু যারা ১/১১র ক্ষেত্র তৈরি করে ফের অসাংবিধানিক, অরাজনৈতিক অবস্থার পরিস্থিতির স্বপ্ন দেখছিল তারা রণে ভঙ্গ দিয়ে পালাতে শুরু করে।

(যুক্তরাষ্ট্রে প্রেস কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন উত্তরের জবাবে নিজেই বলছেন, চলমান অভিযান পূণরায় ১/১১র ক্ষেত্র তৈরির আগেই সরকার অ্যাকশনে নেমেছে। পূণরায় ১/১১ আসার সুযোগ বাংলাদেশে আর হবেনা। এতোদিন যা কানাঘুষা ছিল-খোদ প্রধানমন্ত্রীর জবানীতেই তার সত্যতা মিলল। বঙ্গবন্ধুর কন্যা অত্যন্ত শক্ত হাতে দুষ্টের দমনে নেমেছেন। ১৯৫২,১৯৬৯,১৯৭০,১৯৭১,১৯৯০,১৯৯৮ সালে বাঙালি জাতি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সকল যুদ্ধে জয়লাভ করেছে। ২০১৯ সালেও সন্ত্রাস, কালোটাকা ও অশ্লীলতা এবং অন্ধকারের সংঘবদ্ধ শক্তির বিরুদ্ধে কঠিণ লড়াইয়ে জয় লাভ করবেই।

বাংলাদেশের দরকার একজন অমিত অসীম সাহসী শেখ হাসিনাকে। শেখ হাসিনা বাচলে বাংলাদেশ বাচবে-অন্ধকারের শক্তি পরাভূত হবে। আলোর দিশারী শেখ হাসিনা-এগিয়ে চল, বাঙালি জাতি তোমার পেছনে। জয়তু শেখ হাসিনা।

 

অভিযান অব্যাহত থাকবে, কেউ অখুশি হলেও কিছু যায় আসে না : প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারি

Posted by AMAN ULLAH KHAN JAVED on Monday, September 30, 2019