সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী- বুয়েট চাইলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে

প্রকাশিত: ১:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৩৮:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার | ৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ৬:৩৮ | বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত  বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সার্বিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধের বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটিতো মিলিটারি ডিক্টেটরদের কথা।

 

বিকাল সাম্প্রতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে একজন সাংবাদিক জানতে চান বুয়েটে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে র পর সেখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কি? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বুয়েট তাদের ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে। আর একটা ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি উঠাবে যে ছাত্র রাজনীতি ব্যান। আমি নিজেই যেহেতু ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি। সেখানে আমি ছাত্র রাজনীতি ব্যান বলব কেন? তিনি বলেন, নষ্ট রাজনীতি যেটা, সেটা তো আইয়ুব খান শুরু করে দিয়েছিল, আবার জিয়াউর রহমান এসে শুরু করলো একইভাবে এবং দুইজনের ক্ষমতা দখলের চরিত্র একই রকম।

তিনি বলেন, এই যে একটা সন্ত্রাসী ঘটনা বা এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই তো সংগঠন করা নিষিদ্ধ আছে। বুয়েট যদি মনে করে তারা সেটা নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু একবারে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে হবে, এটা তো মিলিটারি ডিক্টেটরদের কথা। আসলে তারা এসে তো সবসময় পলিটিকস ব্যান, স্টুডেন্ট পলিটিক্স ব্যান তারাই করে গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবরার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এখানে কেউ কোন পরিচয়ে ছাড় পাবে না। একই সঙ্গে সারা দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেবেন বলেও জানান তিনি।

১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান ছাত্র সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক দলের আওতায় এনেছিলেন। এখন ছাত্ররাজনীতিকে আবারও আগের মতো স্বাধীন সংগঠন ঘোষণা করা হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের তালিকা আছে, যা অন্য দলগুলোর নেই। ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন নয়।

তিনি বলেন, মাথা থাকলে মাথাব্যথা তো হবেই। যারা উড়ে এসে বসে, তাদের দেশের চিন্তা থাকে না। ছাত্ররাজনীতি থেকেই ধীরে ধীরে চরিত্র গঠন হয়। আদর্শ গড়ে ওঠে। দক্ষ নেতৃত্ব উঠে এসেছে ছাত্ররাজনীতি থেকেই।

বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন চলছে- এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ আছে। বুয়েট চাইলে তারাও নিষিদ্ধ করতে পারে। আমরা এতে হস্তক্ষেপ করবো না।

এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বের করে দেন, কোথায় কোথায় অনিয়ম হচ্ছে। আমি কোনো দলটল বুঝি না।

আবরার হত্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবরার হত্যার ঘটনায় আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে ফুটেজ সংগ্রহ করতে। সেখানে আলামত সংগ্রহ করতে। পুলিশ আমাকে ফোন করে জানায় তাদেরকে ফুটেজ নিয়ে আসতে দেয়া হচ্ছে না। তাহলে তাদের মধ্যে কি হামলাকারী কেউ ছিল?

শেখ হাসিনা বলেন, আমি ছাত্রলীগকে ডেকেছি। তাদেরকে বলেছি অভিযুক্তদের বহিষ্কার করতে। আমি জানি স্বজন হারানোর বেদনা কী? আমি আমার স্বজন হারিয়েছি। কত বছর পর বিচার পেয়েছি তা দেশের জনগণের ভুলে যাওয়া উচিত না।

প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম সম্মেলনে যোগ দিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর আট দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র যান। সেখান থেকে দেশে ফিরে আবার চার দিনের সফরে ভারত যান। ৩ থেকে ৬ অক্টোবর তিনি ভারত সফর করেন।

আজ শুরুর প্রশ্নটাই ছিল ত্রিপুরায় এলপিজি ও ফেনী নদীর পানি ত্রিপুরাকে দেওয়ার বিষয়ে সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে।
এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এলপিজি প্রাকৃতিক গ্যাস নয়। আমাদের দেশে উৎপাদন হয় না। আমরা যে অপরিশোধিত তেল কিনে নিয়ে আসি, এর বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে একটা অংশ এলপিজি হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বেসরকারি পর্যায়ে ১৮ কোম্পানি উৎপাদন করছে এলপিজি। ত্রিপুরায় যাবে এলপিজি। ২০০১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্যাস বিক্রির অনুরোধ করেছিলেন। ভারত সেই গ্যাস কিনবে। কিন্তু রাজি হইনি বলে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ওই সময়ে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসেছিল। এখন যারা গ্যাস বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির অনুমতি দিয়েছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে তা হতে পারে না।
ফেনী নদীর পানি দেওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ত্রিপুরার সাবরুমে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হয়। এর প্রভাব আমাদের দেশেও পরে। চুক্তি অনুযায়ী মাত্র ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি নেবে।’
কেউ যদি পানি পান করতে চায়, তা যদি না দিই তা কেমন দেখায়?

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে বলেছিলেন, ফারাক্কা চুক্তির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। যারা গঙ্গার মতো পানির কথা ভুলে যায়, তারা আবার ফেনী নদীর পানি নিয়ে কথা বলে।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শেখ হাসিনা ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সফরের সময় ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

শেখ হাসিনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এর পাশাপাশি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রী আইসিসির কৌঁসুলি ফাতোউ বেনসোউদা, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার বিল গেটস, জাতিসংঘের মহাসচিবের উন্নয়নের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নবিষয়ক বিশেষ দূত রানি ম্যাক্সিমা ও গ্লোবার হোপ কোয়ালিশনের অনারারি প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকোভার সঙ্গেও বৈঠক করেন।

শেখ হাসিনা ভারত সফরের সময় ৫ অক্টোবর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে তিনটি দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁদের উপস্থিতিতে সাতটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়।

ভারতের কংগ্রেস দলের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ তাজমহল হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।