বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সভা: বাংলাদেশ চাইবে ৬শ’ কোটি ডলারের সহজ ঋণ

প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৩:৫১:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৯

হামিদ-উজ-জামান-দেশে অবকাঠামো উন্নয়নে আরও অনেক বেশি বৈদেশিক সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের কাছে অনেক বেশি ঋণ চাইবে বাংলাদেশ।

এ ক্ষেত্রে স্বল্প সুদের পাশাপাশি স্কেলআপ ফ্যাসিলিটিজের আওতায় হলেও আপত্তি থাকবে না। আসন্ন বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।

সেই সঙ্গে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা, দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরিতে আইএমএফ ও আইএফসি’র যৌথ প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করা হবে। তবে সব কিছুই থাকবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বক্তব্যে। এমন নানা বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ১৪ থেকে ২০ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে উচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেবেন অর্থমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বব্যাংক ইউংয়ের প্রধান মো. জাহিদুল হক বুধবার যুগান্তরকে জানান, আসন্ন বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সাধারণ সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে চলমান বিশ্বব্যাংকের স্বল্প সুদের ঋণ প্যাকেজ আইডা-১৮ এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২০ সালে। তিন বছরে এ প্যাকেজের আওতায় সংস্থাটির প্রতিশ্রুতি ছিল ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার। নিদিষ্ট সময়ের আগেই বাংলাদেশ নির্ধারিত বরাদ্দের অর্থ ঋণ নিয়ে ফেলেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ঋণ ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। আর প্রথম অবস্থানে ইথিওপিয়া। এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী আইডা-১৯ ঋণ প্যাকেজের আওতায় আগামী ৩ বছরের জন্য ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৬০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করতে পারেন। এছাড়া স্কেলআপ ফ্যাসিলিটিজের আওতায়ও বেশি ঋণ দেয়ার প্রস্তাবও থাকতে পারে। তবে ইতিমধ্যেই কিছু প্রকল্পে এ উইন্ডো থেকে ঋণ নেয়া হলেও এখনও তার পরিমাণ কম।

এছাড়া জাতিসংঘের আয়োজনে রোহিঙ্গা নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এ ইভেন্টে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের কারণে ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক ক্ষতি এবং পরিবেশের ওপর প্রভাবসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন।বার্ষিক সভা চলাকালে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট, আইএমএফ’র ডিএমডি এবং আইএফসি’র ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা সাক্ষাৎ করতে আসার কথা রয়েছে তার সঙ্গে। প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন, ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মজিয়াউদ্দীন, বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর, ইআরডির সচিব মনোয়ার আহমেদ, অর্থ বিভাগের সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, ইআরডির অতিরিক্ত সচিব মো. জাহিদুল হক প্রমুখ।