ভারতের অর্থমন্ত্রীর মুখে তসলিমার নাম, নানা আলোচনা

কী দরকার নাগরিক হওয়ার

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০ | আপডেট: ২:৪১:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের উদাহরণ টেনেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামান। আর তা থেকেই আলোচনার শুরু। গুঞ্জন উঠেছে, ভারতের নাগরিকত্ব পেতে চলেছেন তসলিমা। রোববার পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত সঙ্গীতশিল্পী আদনান সামীর সাথে তসলিমার কথা টানেন সীতারামান। সামিকে ২০১৬ সালে নাগরিকত্ব প্রদান করে ভারত সরকার। তসলিমা বহু বছর ধরে ভারতে রেসিডেন্স পারমিটে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি সিএএর সমর্থনে কথাও বলেছেন তিনি। তাই অনেকেই সীতারামানের কথায় তসলিমার নাগরিকত্ব পাওয়ার ইঙ্গিত দেখছেন।

ভারতজুড়ে সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান থেকে ছয় সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে এই আইনের অধীনে। তবে সে তালিকায় নেই মুসলিমরা। এতে আইনটি ধর্মীয় বিভাজনমূলক বলে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। রোববার এক অনুষ্ঠানে আইনটির স্বপক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে আদনান সামি ও তসলিমা নাসরিনের উদাহরণ টেনে আনেন ভারতীয় অর্থমন্ত্রী।

সীতারামান বলেন, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৩৯১ আফগান মুসলিম, ১৫৯৫ পাকিস্তানি অভিবাসীকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যেই আদনান সামিকেও নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে। এটা একটা দৃষ্টান্ত। তসলিমা নাসরিন আরো একটা উদাহরণ। এতে প্রমাণ হয় যে, আমাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভুল।

নিজের কথায় সীতারামান ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। তসলিমা নাসরিন ১৯৯৪ সালে প্রাণনাশের হুমকির মুখে ভারতে স্বেচ্ছা-নির্বাসনে যান। ২০০৪ সাল থেকে সেখানে রেসিডেন্স ভিসায় বাস করছেন তিনি। এর আগে একাধিকবার নাগরিকত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু সরকার সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি। সম্প্রতি কেরালায় এক অনুষ্ঠানে সিএএ-র পক্ষে কথা বলতে দেখা গেছে তাকে। তিনি আইনটিকে মহৎ ও অত্যন্ত ভালো বলে আখ্যায়িত করেছেন। সব মিলিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এবার কী তবে তসলিমাকে নাগরিকত্ব দিতে যাচ্ছে ভারত?

কী দরকার নাগরিক হওয়ার

বহুল আলোচিত-সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বাজারে বলাবলি হইতাছে আমি নাকি ভারতের নাগরিকত্ব পাইয়াই যাইতাছি। অর্থমন্ত্রী বলছেন আমি পাইয়া গেছি নাগরিকত্ব। যদিও ভুল কইরা বলছেন। স্লিপ অফ টাং।
বাট কথা হইলো কেমনে আমি পাবো নাগরিকত্ব। পাওয়ার রাস্তা তো দেখতাছি না। দেখতাছি না, কারণ আমি তো এপ্লাইই করি নাই নাগরিকত্বের জন্য। তাইলে কেম্নে কী! বছর বছর আমার রেসিডেন্স পারমিট বাড়াইলেই আমি খুশি। দুই দিনের দুনিয়ায় আমাদের দুই দিনের বসবাস।কী দরকার নাগরিক হওয়ার।
নাগরিক হইলে সুবিধা কী শুনি! আমি তো বাংলাদেশের নাগরিক, আমারে দেশ থেইক্যা বাইর কইরা দেয় নাই? আমি তো সুইডেনের নাগরিক, ওই দেশে থাকতেই তো আমি পছন্দ করি না। তাইলে?
রেসিডেন্স পারমিট থাকলেও তো ইচ্ছা না হইলে রিসাইড করতে দেয় না সরকার বাহাদুর। আমার তো ছিল রেসিডেন্স পারমিট। ভারতের যে কোনও স্থানে বাস করার অনুমতি ত ছিল। আমারে লাত্থাইয়া ভাগায় নাই কলিকাত্তা থেইকা? ভাগাইছে। ‘ইন্ডিয়া’ থেইকাও ভাগাইছে। শুধু ‘ভারত’ থেইকা ভাগাইতে পারে নাই। কারণ ওইখানে আমার মন পইড়া ছেল।
কী হইব নাগরকত্ব দিয়া? কিছুই না। আইজ আছি, কাইল নাই। আমার হইল যেইখানে রাইত, সেইখানে কাইত। দুনিয়াডায় এক যাযাবর মুসাফির আমি। মানুষের ভালোবাসাই আমার ঘর বাড়ি। আর কী লাগে এক জীবনে?