যুব রেডক্রিসেন্ট মহসিন কলেজের যুব প্রধান হিরোকে নিয়ে যুব রেড ক্রিসেন্ট সদস্যের প্রশংসা

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০ | আপডেট: ৪:৩২:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মো:সিরাজুল করিম হিরো।ছোটবেলা থেকেই যিনি তার জীবনের প্রায়ই সময় কাটিয়েছেন মানবতার কাজে।অনেক বছর বেঁচে থাকলেই কেবল বড় মানুষ হওয়া যায়না।একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে যদি একটি প্রাণ বাঁচে;একজন মানুষ স্বপ্ন দেখে বেঁচে থাকার।তাতেই হয়তো জীবনের স্বার্থকতা খুজে পাওয়া যায়।হিরো ভাইয়া তার স্বার্থকতা খুঁজেছেন মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে।আমি দেখেছি ভাইয়ার মধ্যে এক নরম প্রকৃতির হ্রদয়।মানুষকে ভালবাসার উদার মন-মানসিকতা।তিনি যুব রেডক্রিসেন্ট সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ইউনিট এ নেতৃত্বদানের মাধ্যমে রক্তদান কর্মসূচী পালন করেন,অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন করেন,মানুষকে বিভিন্ন ধরনের রোগ সম্পর্কে সচেতন করেন,এতিমখানা ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন,আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন।বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচী:শিশু শ্রম,পরিবেশ দূষণ,নারী নির্যাতন,ইভটিজিং,বাল্যবিবাহ,ট্রাফিক আইন ইত্যাদি বিষয়ে মানুষকে সচেতন করেন।রসূলভাগ আবাসিক এলাকায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ছুটে যান এবং আগুন নিয়ন্ত্রনে ফায়ার সার্ভিস এর কর্মীদের সাথে কাজ করেন।আহতদের ফাস্ট এইড সেবা প্রদান করেন।এরকম আরো শত শত ঘটনা রয়েছে যেখানে হিরো ভাইয়া বিরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।মানুষ মানুষের জন্য।মানুষের বিপদের সময় পাশে থেকে সহযোগিতা করাই মানুষের পরম ধর্ম।এই কথাটিই যেন প্রকৃত পক্ষে স্বার্থক করে তুলতে চেয়েছেন হিরো ভাইয়া।সবার বিপদে-আপদে,সমস্যা সংকটে ছুটে আসেন।সমাজের অসহায়-পীডিতদের জন্য কিছু করতে চেয়েছেন।মানবতার জন্যই মানুষ।অসহায় এবং বঞ্চিত মানুষের উপকারে নিজেকে আত্বনিবেদন করেছেন এবং অন্যকে মানবতার কাজে উৎসাহিত করেছেন।মানুষের জীবন পাল্টে দেওয়া থেকে শুরু করে জীবনের নতুন অর্থ নির্মাণের ক্ষেত্রে হিরো ভাইয়ার ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।

মো:সিরাজুল করিম হিরো।১৯৯৫ সালের পহেলা জানুয়ারী মন্দাকিনী গ্রামের হাটহাজারী উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তবে তার জীবনের প্রায়ই সময় কাটিয়েছেন চট্টগ্রাম শহরে মানুষের কল্যানে নিয়োজিত রেখে।চট্টগ্রামের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং একই কলেজ থেকে স্নাতক(সম্মান) পাশ করেন।একই কলেজেই বর্তমানে মাস্টার্স এ অধ্যায়নরত আছেন।

শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৪ সালে।আমাদের সবার প্রিয় ব্যক্তিত্ব,অধ্যক্ষ স্যার জনাব অঞ্জন কুমার নন্দী স্যারের সুনিবিড় তত্ত্বাবধানে এগিয়ে যাচ্ছে প্রাণের বিদ্যাপীঠ। নয়নাভিরাম ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা এই কলেজ বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্তর্ভুক্ত।হিরো ভাইয়া অনেকটা বছর কাটাচ্ছেন এই প্রাণপ্রিয় বিদ্যাপীঠ এ।৩১ একর জমির উপর কলেজটি প্রতিষ্ঠিত।কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে পর্তুগিজদের তৈরিকৃত ভবন এখনো প্রাচীন স্হাপত্যের সৌন্দর্য বহন করছে।সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় পাহাড়ে ঘেরা এই সবুজ ক্যাম্পাসে দিনের আলোতে নির্জনতার চিন্হ খুঁজে পাওয়া যায়না।আড্ডা,খুনসুটি,গল্প আর গানে যেন ডুবে থাকে সম্ভাবনাময় কিছু তরুণ-তরুণী।হিরো ভাইয়া প্রতিদিন ই তাদের উৎসাহিত করেন মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার জন্য।কলেজ ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটি বস্তুতেই যেন হিরো ভাইয়ার ভালবাসার ছোঁয়া লেগে আছে।

প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাসে যুব রেডক্রিসেন্ট এর কার্যক্রম শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে।তখন আমাদের প্রাণপ্রিয় বিদ্যাপীঠ সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন প্রয়াত জনাব আব্দুল গফরান স্যার।আমি স্যারের আত্বার মাগফেরাত ও দোয়া করছি।যুব রেডক্রিসেন্ট এর জন্য কলেজ থেকে রুমের বরাদ্দ দেওয়া থাকলেও তখনো যুব রেডক্রিসেন্ট এর কার্যক্রম কলেজে শুরু হয়নি।হিরো ভাইয়া সহ আরো ২/১ জন জনাব শাহ আলম স্যার,নাজনীন সুলতানা ম্যাম এর তত্বাবধানে সম্মানিত অধ্যক্ষ মহোদয় প্রয়াত জনাব আব্দুল গফরান স্যারের অনুমতিক্রমে সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে যুব রেডক্রিসেন্ট সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ এর কার্যক্রম শুরু করেন।সেই ২০১০ সাল থেকে শুরু করে হিরো ভাইয়া যুব রেডক্রিসেন্ট সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ইউনিট এর সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন।মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।এমন সন্তান যেন বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে জন্ম নেয়।

হাজারটা পুঁথি পড়ে ও অনেকে সামান্য মানবতার নৌকো তে ও উঠতে পারেনি আজ ও।আমাদের হিরো ভাইয়া সমাজকে শিখিয়েছে শুধুমাত্র শিক্ষা দিয়েই মানুষ হয়না,মানুষ হয় তার মানবতায়।প্রতিটি উৎসব ই হোক মানবতার কল্যানে।
হিরো ভাইয়া আসলেই হিরো।

হিরো ভাইয়াকে সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ আজীবন মনে রাখবে।স্মৃতির পাতায় লিখা থাকবে-সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে একজন হিরো ছিল।
সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের সকল ছাত্র এবং যুব সদস্যদের প্রাণের দাবী মো:সিরাজুল করিম হিরো ভাইয়াকে যুব রেডক্রিসেন্ট এর আজীবন সদস্য করা হোক।

সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের একজন সাধারণ ছাত্র এবং যুব রেডক্রিসেন্ট সরকারী হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ইউনিট এর একজন সদস্য হিসেবে আমি মো:ফরহাদ আমাদের সবার পরিচিত রিয়েল হিরো কে নিয়ে লিখার চেষ্টা করলাম।