বন্ধুত্ব

প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০ | আপডেট: ৭:০৩:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

বন্ধুত্ব

তালুকদার তুহিন

এই পৃথিবীতে অনেক জিনিস যা স্বামী-স্ত্রী,বাবা-মার সাথে শেয়ার করা যায় না কিন্তু অনায়াসে বন্ধুর সাথে করা যায়,ভালবাসা হয়ে গেলে যে মানুষটা উৎসাহ দেয় সে বন্ধু আবার ভালবাসা থেকে বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও যে মানুষটা বেচে থাকার প্রেরণা দেয় সেও বন্ধু।বন্ধুত্বের আসলে কোন সংজ্ঞা হয়না, বয়স হয়না।ছোটবেলা পুকুর পাড়ে ঝাপ দিয়ে পড়া,একসাথে স্কুল পালানো,স্যারের কাছে এক বন্ধু মার খেলে অন্য বন্ধুর মন খারাপ হওয়া।কিছু বন্ধুত্ব আছে আবার একসাথে বিড়ি সিগারেট খাওয়া,সিনেমা দেখতে যাওয়া।ইদের দিন বন্ধুর বাড়িতে শেমাই মিস্টি খাওয়া।
প্রতিটি মায়ের কাছে তার মেয়ে বন্ধুর মতো,তারা সাধারণত সব কথা সহজেই মায়ের কাছে বলতে পারে,সেই হিসেবে ছেলেদের সাথে বাবাদের বন্ধুত্ব হওয়ার কথা কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই সম্পর্ক থাকে গম্ভীর তবে ভালবাসার।বন্ধুত্ব হতে পারে ভাইয়ের সাথে বোনের,যেখানে থাকে ভালবাসা খুনসুটি কিন্তু নিখাদ মায়া।
সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম,স্কুল ব্যাচের বন্ধুরা যার যার পেশায় ব্যস্ত বা দেশ বিদেশে চলে গেলেও কেউ বিপদে পড়লেই সাথে সাথে বাকি বন্ধুরা এখনো খবর নেই।শুধু স্কুল বলছি কেন?স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় অথবা পাড়ার বন্ধুরা সবাই যারা বন্ধু তাদের স্থান সবার আগে।
তবে সৌভাগ্যবান এই কারণে বলবো ছোটবেলা সরকারি স্কুলে পড়ায়,সেখানে যেটা দেখেছি ধনী দরিদ্র,উচু নিচু,ছোট জাত,বড় জাত সবাই এক কাতারে এবং এটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিলো।কারণ আসলে বন্ধুত্বের কোন জাত নেই,ধর্ম নেই,বয়স নেই,ধনী দরিদ্র নেই।
এই পৃথিবীতে সবাই ছেড়ে চলে গেলেও যারা ছেড়ে চলে যাবেনা,তারাই হচ্ছে বন্ধু।দুঃখ কষ্ট যার সাথে ভাগ করে নেয়া যায়,সেই তো বন্ধু।বাবা মা মারা গেলে যে কোন কারণ ছাড়াই জড়িয়ে ধরলো সেইতো বন্ধু।বন্ধুদের মধ্যে রাগ হতে পারে ঝগড়া হতে পারে কিন্তু একনিমিষে সেটা শেষও হয়ে যায়।দূর থেকে যেসব মানুষ শুভকামনা করে তার মধ্যে বন্ধুদের তালিকা অনেক লম্বা।বিদেশ থেকে যে বন্ধুটি খুব একাকিত্ব বোধ করে সেও প্রথম তার বন্ধুদের কথাই ভাবে।বড়বেলার বড় হয়ে যাওয়া ছবিগুলোর পাশে যে ছবিগুলো এলবামে জায়গা করে নেয় সেগুলো বন্ধুদেরই।বুড়ো বয়সে মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে মানুষ খবর নেয় বন্ধুদের মধ্যে কে কে এখনো জীবিত আছে মানে বুঝতে চায় আর কি বেচে থাকার তালিকায় সুযোগ কতটুকু বাকি।বুড়ো হয়ে যাওয়া বাবারা সবসময় চায় তার ছেলে সন্তানের সাথে বন্ধুত্বের মতো হোক কিন্তু অনেক বছরের গাম্ভীর্যের কারণে সেটা অনেকের ক্ষেত্রেই হয়ে উঠেনা।যে বাবারা আগে সন্তানের সাথে ভালো বন্ধুত্ব তৈরী করতে পারেননা তারা নাতি নাতনী দের সাথে বন্ধুত্ব তৈরী করে নেন।মেয়েরা বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে আবারও মায়েদের সাথে অনেক শক্তিশালী বন্ধুত্ব তৈরী হয়।আসলে বন্ধু ছাড়া জীবন অচল।সালাম জানাই পৃথিবীর সকল বন্ধুত্ব কে।

লেখক: সভাপতি, সাকসেস হিউম্যান রাইট সোসাইটি সিলেট জেলা।