” পাপ সন্রাজ্যের মুখোশ খুলুন “

প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ | আপডেট: ১:৪০:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

মাকসুদা সুলতানা ঐক্য। যে কোন রাজনৈতিক পদধারী, মাদক ব্যবসায়ী, খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ এবং দূর্নীতিবাজ পিশাচদের ধর পাকরের ঘটনা দেখার পর সাধারণ জনগণ যতোটা তৃপ্তি পায়, বোধ করি আর কোন কিছুতেই ততোটা পায়না। কিন্তু এই ধর পাকরের পর প্রতিটি মানুষের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন উদিত হয়, কেন এই শ্রেণীর পিশাচদের এতোটা বাড়তে দেয়া হয়েছে?

অথবা কেন শুধুমাত্র শেখ হাসিনার নির্দেশ দিতে হয় বারবার এদের বিরুদ্ধে ! তবে কি বাংলাদেশের প্রশাসনিক পর্যায় এক শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কোন খাটি বা সৎ সাহসী মানুষ নেই যে বা যারা নিজ দায়িত্বে এদের আইনের আওতায় নিতে পারে?

যখন বড় মাপের কোন পিশাচকে আইনের আওতায় নেয়া হয় তারপরেই সরকার পক্ষের কেউ না কেউ বিবৃতি দিয়ে বলেন”শেখ হাসিনার নির্দেশেই একে তাকে ধরা হয়েছে “! তারমানে কি আপনারা যারা সরকারী এবং প্রশাসনিক বড় পদে বসে দেশ চালনায় কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, তারা আসলেই কি মন থেকে দেশের জন্য ভালো কাজ কিছু করেন? নাকি দায়সারা গোছের দায়িত্ব টুকু শুধু সারার ভান করেন!

জনগণের টাকায় বেতন নিচ্ছেন, গাড়ি বাড়ি সব নিয়ে রাজকীয় হালে জীবন কাটাচ্ছেন অথচ দেশের জঞ্জাল দূর করার বেলায় সেই একা শেখ হাসিনা কেই কেন আসতে হয়? আপনারা তো জনগণের নেতা বা জনগণের চাকর, তবে কেন সামান্য চাকরীটুকু ঠিক ভাবে পালন করছেন না? রাজনৈতিক নেতাদের পাঁচ বছর পর পর জনগণই তো নির্বাচন করে নেতা বানায় অথচ সেই জনগণের জন্য কাজ করতেই আপনাদের এতো গাফেলতি !

আপনারা যারা সাধারণ জনগণের জন্য কাজ করার সময় পান না, কিন্তু যে গুলো দেশের সকল অপকর্মের হোতা তাদের সাথে তো ঠিকই অনেক নেতাদের দহরমমহরম এর প্রমাণ বের হয়ে আসে প্রতিটি ধর পাকরের পরক্ষণেই। আপনাদের মধ্যে অনেকের আশ্রয় প্রশ্রয় ছাড়া কি করে একেকজন এতো বড় বড় পিশাচ হতে পারে এটা তো বিশ্বাস করাও অসম্ভব!

বাংলাদেশে ২০০৯ থেকে আজ অবধি আওয়ামীলীগ সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে যতো উন্নয়ন হয়েছে এবং যতো অপকর্মের বিচার হয়েছে তার সবই বঙ্গবন্ধু কন্যার একার সৎ সাহসের কারণে হয়েছে এটা শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয় সারা বিশ্ব স্বীকৃত সত্য।

অন্যদিকে সেই আওয়ামীলীগ দলের এই সাফল্যকে পুঁজি করে দলের অধিকাংশ নেতারা গোপনে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। আবার অনেকে পদ বাণিজ্যে এতোটাই বিভোর যে, অকাতরে দেশ শত্রুদের সাথে আতাত করে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আওয়ামীলীগকেই ধ্বংসের প্রতিযোগীতায় নেমেছে। পদ বাণিজ্য করতে করতে দলের এমন হাল করেছে যে, এখন মূল দল থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সত্যিকারের মননে আওয়ামীলীগের আদর্শ ধারণ করা নেতা খুঁজতে গেলে ছাকনী দিয়ে ছেঁকেও ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে শ’পাঁচেক পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ!

প্রতিটি পর্যায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের প্রজন্ম ও প্রকৃত আওয়ামীলীগাররা এখন অবহেলিত। আজ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ঢোকে রাজাকারেরা আর আওয়ামীলীগে ঢোকে স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক দলের কিট’রা। সারা জীবন যারা দেশের জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করে চলছে, তাদের কারোই টানা ৩ মেয়াদে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরেও উল্লেখযোগ্য কোন উন্নতি হয়নি বরং দিনে দিনে আরো অবনতি হয়েছে।

কারণ টাকার বিনিময়ে দলের সব অসৎ নেতা এবং বড় বড় সরকারী অসৎ কর্মকর্তাদের কিনে ফেলে সর্বস্তরে নির্বিঘ্নে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেই স্বাধীনতা বিরোধী দল থেকে আসা কিটেরা। এদিকে বঙ্গবন্ধু কন্যা বারবার বলে যাচ্ছেন যে, তিনি ত্যাগীদের খুঁজছেন। সত্যিকারের ত্যাগী আওয়ামীলীগারের সংখ্যা তো প্রচুর রয়েছে কিন্তু সেই ত্যাগীদের নাম পরিচয় কে কি ভাবে পৌছে দেবে তার কাছে? সেই সৎ যোগ্য দু’চার জন লোক কি সত্যিই আছে দলীয় সভানেত্রীর আশেপাশে !

ক’দিন আগে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দুঃখ করে বলেছিলেন ” আমার মা যাদের নিজহাতে রান্না করে খাওয়াতেন তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছেন।” কথাটা শুনে আমি অন্তত নিশ্চিত যে, তিনি ঠিক বুঝে গেছেন তার আশেপাশে যারা এখন দলে ভারি তাদের মধ্যে মোস্তাকদের অভাব নেই এবং সে কারণেই তিনি ইংগিতে বুঝিয়েছেন। এবং সেই মোস্তাকদের সংখ্যা এতোই বেশী যে, তিনি নিরুপায় হয়ে বারবার ত্যাগীদের খুঁজছেন অথচ কোন ভাবেই ত্যাগীদের তার আশেপাশে ঢুকতে দেয়া হচ্ছেনা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে সব জঘন্য অপরাধীদের একের পর এক ধরা হচ্ছে তাদের মদতদাতা,গডফাদার বা সুবিধাভোগীদের নামের তালিকায় বারবার বড় বড় নেতা, সরকারী কর্মকর্তা এবং কিছু মিডিয়া মাফিয়াদের আসার পরে সেই মদতদাতাদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা দু’এক জনের পদ স্খলন ছাড়া অন্যান্য বড় বড় পদের সরকারী কর্মকর্তা বা মিডিয়া মাফিয়াদের বিরুদ্ধে তেমন কোন বিচারের নজির আর পাওয়া যায়না।

গত বছরের ক্যাসিনো সম্রাটের দেড় শতাধিক সুবিধাভোগীর নামের তালিকায় যারা ছিলো তারাই সবাই আজ বুক টান করে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এবার আবার যুবমহিলা লীগের যে পিশাচকে ধরা হয়েছে ওর তালিকায় দু’চার জন দলীয় গডমাদার ছাড়া বাকী সবই পুরুষ খদ্দের। যাদের মধ্যে বড় বড় নেতা, আমলা, মাদক ব্যবসায়ী, জুয়াড়ি, শিল্পপতি অনেকেই আছে এবার ও যথারীতি বড়জোর দলের একজনের পদ স্খলন ছাড়া আর কারোই কোন বিচারের মুখ দেখা যাবেনা।

এবং ঐ পিশাচদের মদতদাতা, গড ফাদার, ভোক্তাদের যতোদিন পর্যন্ত কোন শক্ত বিচারের ব্যবস্থা না হবে ততোদিন দু’চার জন পিশাচ আটকে কিছুই লাভ হবেনা। যেহেতু সহযোগী বা মদতদাতাদের কিছু হয়না তাই আবারো তারা একই কাজ করাবে অন্য লোক বা নারী দিয়ে।

শুধু একবারের জন্য হলেও ওসব অপরাধীদের সঙ্গে জরিত গডফাদার, গডমাদার, আমলা, শিল্পপতিদের ভিডিও ফুটেজ গুলো মিডিয়ায় প্রকাশ করে অন্তত ধিক্কার টুকু জানানো হয় তাহলে সাধারণ জনগণ কিছুটা স্বস্তি পেতো। সেই সাথে পারিবারিক ভাবে যখন অপরাধীরা লাঞ্ছিত হতো তাহলেও পরবর্তিতে অন্যরা তা থেকে মিনিমাম শিক্ষা টুকু পেতো।

খুব জানতে ইচ্ছে হয় কবে আমরা সেই মানুষদের পাবো, যারা নিজ দায়িত্বে দেশে জন্ম নেয়া এসব পিশাচদের বিরুদ্ধে সত্যিকারের অবস্থান নিয়ে এদের নির্মূল করবে! বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা জনগণ আর দেখতে চায়না। এখনই সময় নেতাগণ একটু গা ঝাড়া দিন পাপ গুলো ঝেড়ে নিজের নির্মল চরিত্রের প্রমাণটুকু অন্তত করুন। আপনাদের চরিত্র নিয়ে জনগণের গাঢ় সন্দেহ গুলো কাটানোর জন্য এটাই সঠিক সময়।

সেই সাথে দলের সর্বস্তরে থাকা পতিতা নারী এবং পুরুষ বেশ্যাদের গণহারে বহিষ্কার করে নিজেদের পাপ মোচন করুন। কারণ দলের মধ্যে থাকা ওসব পতিতা এবং বেশ্যাদের যে আপনারা খুব ভালো করেই চেনেন এটা অন্তত জনগণ নিশ্চিত। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একা সব করবেন আর আপনারা বসে আঙুল চোষা থামান! মনে রাখবেন দল বাঁচলেই আপনারা বাঁচবেন, অন্যথায় শুধু জনগণ নয় নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মই একদিন আপনাদের কাঠ গড়ায় দাড় করাবে নিশ্চিত থাকুন।এবং সব কিছুর পরেও আল্লাহ্‌র বিচার কিন্তু পৃথিবীতেই কিছুটা ভোগ করে যেতে হবে।

 

(লেখক: সাংবাদিক ও কবি)