বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ,দিল্লি হাইকোর্ট থেকে বদলি বিচারপতি মুরলীধরকে

প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৭:৪৬:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

লন্ডন টাইমস ব্যুরো: বুধবার দুপুরে তিন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধর। বিচারপতি নিয়োগের কলেজিয়ামের প্রাক সিদ্ধান্তমতো তাঁকে এদিন রাতেই দিল্লি হাইকোর্ট থেকে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। গেজেট নোটিফিকেশন দিয়ে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র, প্রকাশ ভর্মা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের বিরুদ্ধে এফআইআর করার ব্যাপারে বুধবার নির্দেশ দেন বিচারপতি এস মুরলীধর ও বিচারপতি তালওয়ান্ত সিংকে নিয়ে গঠিত দিল্লি হাইকোর্টের বেঞ্চ। তাঁরা এও জানিয়ে দেন, বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটের মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে।

পরে সন্ধ্যায় বদলির নোটিফিকেশন জারি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই এদিনের ঘটানার সঙ্গে তা জুড়ে দেখা শুরু হয়েছে। তবে ঘটনা হল, মুরলীধরকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করার ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে কলেজিয়াম। গত ২০ ফেব্রুয়ারি কলেজিয়ামের সেই সিদ্ধান্তের পর দিল্লি হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা তীব্র আপত্তি করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, মুরলীধর একজন নিষ্ঠাবান বিচারপতি। তাঁকে কোনও কারণ ছাড়া যেভাবে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করার চেষ্টা হচ্ছে তাতে বিচারব্যবস্থার মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যাবে। এমনকী বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতি পালনের হুমকিও দিয়েছিলেন বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। কিন্তু তার পরেও কলেজিয়ামের সেই সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতি শিলমোহর দেন ও বুধবার সন্ধ্যায় সরকার নোটিফিকেশন জারি করে দেয়।

র্থাৎ বুধবারের শুনানির জন্য়ই যে বিচারপতি মুরলীধরকে রাতারাতি বদলি করা হল এমন নয়। তাঁকে বদলির সিদ্ধান্ত আগেই গৃহীত হয়েছিল। তবে হ্যাঁ, বিরোধী শিবিরের অনেকের মতে হাইকোর্টের এই বিচারপতির অনেক পর্যবেক্ষণ ও রায়ে খুশি নন শাসক শিবির। সে কারণেই তাঁকে বদলি করা হয়েছে।

দিল্লির হিংসা নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন প্রাক্তন আমলা হর্ষ মান্দার। বুধবার সেই মামলার শুনানির সময় বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের বক্তব্যের রেকর্ড বাজিয়ে শোনাতে বলেছিলেন বিচারপতি মুরলীধর। রবিবার অশান্তি শুরু হওয়ার ঠিক আগে কপিল মিশ্র উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে যে বক্তৃতা করেছিলেন, আদালতে তা বুধবার শোনানো হয়।