বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ডাঃ সেজান মাহমুদের কথা ও সুরে দেবজিৎ এর কন্ঠে ” আমার সাধ না মিটিল ” গান রিলিজ

প্রকাশিত: ১০:১২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২০ | আপডেট: ৪:০১:অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২০

জুয়েল সাদত

 

‏বিশিষ্ট লেখক, গীতিকার ও চিকিৎসা বিজ্ঞানী সেজান মাহমুদ বহু গুনে গুনান্বিত একজন । সেজান মাহমুদ এর লেখা গল্প বাংলাদেশের পাঠ্য বইয়ে পড়ানো হয়, তার অসাধারণ সৃষ্টি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ডকু-উপন্যাস “অপারেশন জ্যাকপট”, আলোচিত উপন্যাস “অগ্নিবালক ” তথ্যচিত্র “লাশকাটা ঘর” আজও পাঠক নন্দিত। ২০২০ বই মেলায় বেরিয়েছে তার প্রেমানুকাব্য, সায়েন্স ফিকশন সমগ্র-১, ও মুক্তিযুদ্ধের সেরা লড়াই। সেজান মাহমুদ নিজে গান করেন, সুর করেন।

‘নেলসন মেন্ডেলা” গানের স্রষ্টা সেজান মাহমুদ এবার সৃষ্টি করলেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর গান।গানটির মুল কথা ও সুর সেজান মাহমুদ। কন্ঠে দেবজিৎ সাহা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রিয় একটি গান “আমার সাধ না মিটিলো আশা না পুরিলো সকলি ফুরায়ে যায় মা” কে কেন্দ্র করে গীত রচনা ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করলেন লেখক, চিকিৎসা বিজ্ঞানী, গীতিকার সেজান মাহমুদ। ইন্ডিয়ার সা রে গা মা পা খ্যাত উপমহাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দেবজিৎ সাহা গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে সেজান মাহমুদ বলেন,

নেলসন মেন্ডেলাকে নিয়ে গান লিখেছি, সুর করেছি; আর তা বিখ্যাত ক’রে দিয়েছেন শিল্পী ফকির আলমগীর সেইসঙ্গে আমাদের সঙ্গীত প্রিয় মানুষেরা। কালো কালো মানুষের দেশে গানটি লিখেছিলাম আর সুর করেছিলাম নেলসন মেন্ডেলার মুক্তির দাবিতে।  আমার দেশের অবিসংবাদিত নেতা, বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে গান লিখবো না? এ যেন জীবনের একটি দায়ও। তিনি বলেন  ১৯৭৫ সালে যখন তাঁকে কাপুরুষেরা হত্যা করে, তখন আমি ছিলাম নিতান্তই ক্ষুদে বালক। বাড়ির উঠোনে ফুটবল নিয়ে খেলছিলাম, আর রেডিও তে শুনে আমার বাবা কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে এলেন। সেইদিন বুঝিনি কী হারালাম আমরা, কিন্তু এই শোক বুকের মধ্যে বহন করেছি এতো বছর। আমার দেশের পতাকা আর বাঙালির পরিচয় যার জন্যে তাঁর প্রতি ঋন স্বীকার  না করে  মরতেও চাই না।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮৮ সালে সারা পৃথিবীব্যাপী নেলসন ম্যান্ডেলার সত্তরতম জন্মবার্ষিকী পালনের উদ্যোগ চলছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। আমি তখন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সারাদেশ থেকে নেলসন ম্যান্ডেলার নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে এক লক্ষ স্বাক্ষর সংগ্রহের এক আন্দোলনের সংগে আমিও জড়িয়ে গেলাম। এই উপলক্ষে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। আমার ইচ্ছা নেলসন ম্যান্ডেলাকে নিয়ে লেখা কোন গান শিল্পীদের দিয়ে গাওয়ানো। কিন্তু কোথাও কোন গান খুঁজে না পেয়ে নিজেই দুটো গান লিখে ফেললাম। তখন আমি সবে মাত্র বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান লেখা শুরু করেছি। সেই সূত্র ধরে বেশ কয়েকজন কণ্ঠশিল্পীর সংগে আমার পরিচয় হয়েছে। নেলসন মেন্ডেলা গানটি নিজে সুর দিয়ে পৌছে দিলাম ফকির আলমগিরের কাছে কাছে। সেদিন মিটফোর্ডের হল ভর্তি মানুষকে মুগ্ধ করলেন এই শিল্পী, নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তির দাবীতে সংগৃহীত হলো অসংখ্য স্বাক্ষর। ফকির আলমগীর মিটফোর্ডের গন্ডি পেরিয়ে বাংলা একাডেমী বই মেলা, জনতার মঞ্চ ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে পৌছে দিলেন গান টিকে। এমন কি গানটির একটি ক্যাসেট খোদ নেলসন ম্যান্ডেলাকেও পৌছে দেয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে গানটি লিখে এবং সুর করে উপমহাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী দেবজিৎ সাহা কে দিয়ে গাওয়াতে পেরে  সেই সময়ের আনন্দ পেলাম। আমি কোন রাজনীতি বা কিছু পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু লিখি না। এ গান আমার প্রাণের উৎসারিত ক্রন্দন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা আর ভক্তি।

উল্লেখ্য গানটি রেকর্ড করা হয়েছে মুম্বাইতে; মিউটিক রেকর্ড করেছেন সোমেন কুট্টি যিনি এ আর রাহমানের দীক্ষায় দিক্ষিত। গানটি বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, এবং অহমীয়া ভাষায় দেবার ইচ্ছা থেকেই বাংলাদেশের বাইরে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গানের স্রষ্টা  সেজান মাহমুদ। গাঁতি ইতিমধ্যেই ইউটিউবে প্রিমিয়ার হয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। গান শুনে কবি শামীম আজাদ মন্তব্য করেছেন,

“চোখের জলে একাকার হয়ে গেলাম। কিছুতেই কান্না থামাতে পারছি না।
এমন শ্রদ্ধা, মায়া, ভক্তি ও ভালবাসার গান আমাদের জাতির পিতার চরনে এত সফল ভাবে দেয়ার ঘটনা একদম বিরল। যা হয়েছিল তা ঐ একাত্তরের কালেই।
তোমাকে আলিঙ্গন ও দোয়া আর দেবজিৎ সাহাকে ভালবাসা। দুজনকে অভিনন্দন।“

বিশিষ্ট লেখক ও অর্থনীতিবিদ ডক্টর সেলিম জাহান লিখেছেন,

“ এ গান নয়, একটি প্রার্থনা; এ কথা নয়, একটি শ্লোক; এ সুর নয়, একটি কান্না। ধারন করবো প্রতিনিয়ত হ্দয়ের মাঝে।“

লেখক, গল্পকার পুরবী বসু লিখেছেন,

“ এক কথায় দারুণ সেজান। এই গান সেজান মাহমুদকে বাঙালির কাছে Household Name -এ পরিণত করবে।“

গানটির পূর্ণ বানী এখানে সন্নিবেশিত করা হলো পাঠকের জন্যে।

“আমার সাধ না মিটিলো আশা না পুরিলো

সকলে ফুরায়ে যায় মা”

সেই মায়ের কোলেই জন্ম নিলো এমন একটি ছেলে

একটি জাতির বুকে দিলো স্বাধীনতার স্বপ্ন আগুণ জ্বেলে

সেই আগুণের ছোঁয়ায় পেলাম অমর স্বাধীনতা

হাজার বছর পার হয়ে আসে বাঙালির অমরতা

বিশ্ব বাঙালি পেলো পরিচয়, এই স্বাধীনতা হারাবার নয়

তোমার রক্তে কাঁদে নদী, জল,  তুমি যে চিরঞ্জীব
বুক ছিঁড়ে বলি বেঁচে আছো তুমি, শেখ মুজিব শেখ মুজিব!

বাংলার মাটি বাংলার জলে এভাবে মিশেছে ক’জন?

বঙ্গবন্ধু থেকে হয়ে যান বিশ্ববন্ধু স্বজন

বিশ্বময়ে জেগে আছো তুমি, আকাশ ছুঁয়েছে বাংলার ভূমি

তোমার রক্তে কাঁদে নদী, জল, কাঁদে প্রতিটি জীব

বুক ছিঁড়ে বলি বেঁচে আছো তুমি,  শেখ মুজিব, শেখ মুজিব!

একদিন এক ঘাতকের গুলি ঝাঁঝরা করেছে বুকে

তোমার রক্ত মিশে আছে তাই আমাদের সুখে দুখে

তোমার আশা, সাধ না পুরিলো, (তবু) আমাদের দিলো আশা

বাংলাদেশের কোটি মানুষের পরিচয়, ভালবাসা

মাথা উঁচু করে চিৎকারে বলি দাবায়ে রাখবে কাকে?

বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন হয়েই মানুষের বুকে থাকে

সেই স্বপ্নের মোহন বাঁশীতে আমরা যে চিরঞ্জীব

বুক ছিঁড়ে বলি বেঁচে আছো পিতা,  শেখ মুজিব, শেখ মুজিব!

“আমার সাধ না মিটিলো আশা না পুরিলো

সকলই ফুরায়ে যায় মা”

একটি গান যে অসাধারন হতে পারে কেউ না শুনলে বিশ্বাস করবে না। পরিচিত সুর মনে হলেও এটা অনন্য একটা নতুন সুর, অসাধারণ কম্পোজিশন, অসাধারন এডিটিং। গানের কথা ও সুরের সাথে ছবির মাধ্যমে একটি পুরো ইতিহাস দৃশ্যমান। যে কেউ গান টি শুনতে পারবেন ইউ টিউবে  “Sezan Mahmud” এ  গিয়ে। গানটি বাংলাদেশে বৃহদ পরিসরে ব্যবহারের সুযোগ আপাতত হচ্ছে না  কারন করোনা র কারনে বড় সব জাতীয় ইভেন্ট ক্যানসেল। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার ওরলান্ডোতে বসবাসরত নিঁভৃতচারী  ডাঃ সেজান মাহমুদ বলেন, গানটির কথা ও সুর এবং গায়কীয় স্বকিয়তায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করা হয়েছে। সঠিক প্রচারে গানটি কালজয়ী হবে। এটা আমার জাতির জনকের প্রতি  একটি দায়বদ্ধতার ঋন স্বীকার।

সবাইকে ইউ টিউবে গিয়ে “Sezan  Mahmud”  ক্লিক করলে শুনতে পারবেন।

জুয়েল সাদত / সাংবাদিক – কলামিস্ট ( ফ্লোরিডা)