বাবা আছেন কোটি মানুষের হৃদয়ে

রেহানার কবিতা হাসিনার কণ্ঠে

প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২০ | আপডেট: ৭:১৮:অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২০

লন্ডন টাইমস, ঢাকা ।বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা বলেছেন, বাবা আমাদের মাঝে নেই। তিনি আছেন কোটি মানুষের হৃদয়জুড়ে। মঙ্গলবার মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ রেহানা বলেন, আমাদের প্রাণের প্রিয়, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী আজ। এ দিনে আমরা সকলে মিলে অঙ্গীকার করি আমাদের যা কিছু আছে, তাই দিয়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব। সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং দারিদ্র্য দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ব। সোনার বাংলাকে ভালোবাসব।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, পরশ্রীকাতরতা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখব। ঘরে ঘরে মুজিবের আদর্শের দুর্গ তৈরি করে তার আলো ছড়িয়ে দেব। কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। এ দিনে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি মুজিবের মা শেখ সায়রা খাতুন এবং বাবা শেখ লুৎফর রহমানকে। আরও স্মরণ করি চিরদিনের সুখে-দুঃখে মরণের সাথী তার প্রিয় ‘রেণু’-কে।

রেহানা বলেন, বাবা বলতেন ত্যাগ ছাড়া কোনো জাতি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। একটা মানুষ দেশের জন্য, মানুষের জন্য কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তা আমরা খুঁজে পাই তারই লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে।

তিনি বলেন, কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি তিনি। লোভ-লালসা ভোগ-বিলাস থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন, করেননি আপস। মানব কল্যাণই ছিল তার ধ্যান-ধারণা, বিশ্বাসে-নিঃশ্বাসে। এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আসেন। আসলেও তারা ক্ষণস্থায়ী হন। আমার বাবা আমাদের মাঝে নেই। তিনি আছেন কোটি মানুষের হৃদয়জুড়ে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা বলেন, আজকে এই দিনে আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমরা সবাই মিলে হাত তুলে দোয়া করি সর্বশক্তিমান আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।

’বাবা’ শিরোনামের ওই কবিতা শেখ রেহানা লিখেছিলেন ২০১০ সালে; বাবাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে না পারার আক্ষেপ ঝরে সেই কবিতায়।

জন্মদিনে প্রতিবার একটি ফুল দিয়ে

শুভেচ্ছা জানানো ছিল

আমার সবচেয়ে আনন্দ।

আর কখনো পাবো না এই সুখ

আর কখনো বলতে পারব না

শুভ জন্মদিন।

কেন এমন হল?

কে দেবে আমার প্রশ্নের উত্তর।

কোথায় পাব তোমায়…

যদি সন্ধ্যাতারাদের মাঝে থাক

আকাশের দিকে তাকিয়ে বলব

শুভ জন্মদিন

তুমি কি মিটি মিটি জ্বলবে?

যদি বিশাল সমুদ্রের সামনে

ঢেউদের খেলার মাঝে থাকো বলব

শুভ জন্মদিন

সমুদ্রের গর্জনে শুনব

কি তোমার বজ্রকণ্ঠ?

পাহাড়ের চূড়ায় যেখানে মেঘ

নীল আকাশে লুকোচুরি খেলে

তুমি কি ওখানে?

তাকিয়ে বলব

শুভ জন্মদিন

এক টুকরো সাদা মেঘ ভেসে যাবে

ওখানে কি তুমি?

আকাশে বাতাসে পাহাড়ে উপত্যকায়

তোমাকে খুঁজব, ডাকব

যে প্রতিধ্বনি হবে

ওখানে কি তুমি?

শুভ জন্মদিন।

শুভ জন্মদিন।

আবৃত্তির শেষাংশে দুই বোনই একইসঙ্গে কণ্ঠে তোলেন, ‘শুভ জন্মদিন, শুভ জন্মদিন।’