রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার সব বাস বন্ধ:ওয়াজ-মাহফিল, তীর্থযাত্রাসহ সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

করোনাভাইরাস

প্রকাশিত: ২:২৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২০ | আপডেট: ২:২৭:অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২০

রাজশাহী ব্যুরো, ঢাকা অফিস, লন্ডন টাইমস-করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাস মালিক সমিতি ও জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত আজ বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই কার্যকর হয়। তবে রাজশাহী বিভাগের অভ্যন্তরীণ রুটে সীমিত আকারে বাস চলছে।

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, রাজশাহীকে করোনাভাইরাস মুক্ত রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বাস বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার অনুরোধ করা হয়।

তাই রাজশাহী থেকে ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটের দূরপাল্লার বাসগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। তবে রাজশাহীর আশপাশের জেলাগুলোর সঙ্গে সীমিত সংখ্যায় বাস চলাচল করছে।

রাজশাহী বাস মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে ইতিমধ্যেই মানুষের চলাচল কমে গেছে। এতে বাসে যাত্রী কম হচ্ছে। তেলের টাকাও উঠছে না। ভাইরাসের আতঙ্কে বাসের লোকজনও কাজ করতে চাচ্ছে না। যাত্রীদের মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। এ দুটি বিষয় বিবেচনা করে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বিকালে নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনালেও কোনো বাস নেই। দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারগুলোর সাঁটার নামানো। হঠাৎ করে এভাবে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন যাত্রীরা।

মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার যে সব বাস এসেছিল সেগুলোও চলে গেছে। এগুলো যেন আর রাজশাহী না আসে সে জন্য বাসের লোকজনকে বলা হয়েছে। কতদিন এভাবে বাস বন্ধ থাকবে সেই সিদ্ধান্ত হবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে।

ওয়াজ-মাহফিল, তীর্থযাত্রাসহ সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

সারাদেশে ওয়াজ, মাহফিল, তীর্থযাত্রাসহ সব ধরনের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সমাবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৪টায় মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সরকারের কেন্দ্রীয় প্রশাসন এ নির্দেশনা দেয়।

করোনা ভাইরাস থেকে উদ্ভূত পরিস্থিত মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়।

কনফারেন্সে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। ধর্মীয় বা অন্য যে কোনো ধরনের জমায়েত বন্ধ। এটা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনোভাবে সব ধরনের সমাবেশ বা জমায়েত বন্ধ রাখতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে এই ভিডিও কনফারেন্স করা হয়।