নাগরপুর সরকারি কলেজের প্রভাষিকাকে হেনস্থাঃ অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার উপর

প্রকাশিত: ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০২০ | আপডেট: ১০:৫৫:অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০২০

টাঙ্গাইল।টাঙ্গাইলের নাগরপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপিসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ওই কলেজের এক নারী প্রভাষককে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় উপজেলা শহরের বাজারে কেনাকাটা করাকালে ওই প্রভাষক এ ঘটনার শিকার হন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ শুক্রবার সকালে থানায় ওই প্রভাষকের করা মামলায় বাবু নামে এক ছাত্রলীগকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন, নাগরপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদিকুর রহমান বিপ্লব।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘটনাটি বর্ণনা তুলে ধরেন। এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আমরা কি ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি। নিজে আজ শত শত মানুষের সামনে নাগরপুরের বাজারে মাত্র ৩-৪ জন ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের কাছে চরমভাবে নিগৃহীত ও শ্লীলতাহানীর শিকার হলাম, তখন একটি মানুষও আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলো না। নাগরপুর সরকারি কলেজ, টাঙ্গাইলের একজন শিক্ষক হিসেবে নিজের কলেজের সাবেক ভিপি ও ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসী মামুন ও তার সহযোগী ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসী বিপ্লব ও বাবু কর্তৃক শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হলাম তা কতটা অভাবনীয় তা বলে বুঝাতে পারব না।

তারা শত শত মানুষের মাঝখানে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং কাপড় ধরে টানাটানি করে, একপর্যায়ে টান দিয়ে আমার মাথার কাপড় খুলে ফেলে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে আমি প্রশাসনের কাছে থানায় অভিযোগ দেব এই কথা বলে আমার নিজের পরিচয় দেওয়ার পর তার আরও আস্ফালন করে বলে যে ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি তাদের পকেটে থাকে। তাদের কেউ কিছু করতে পারবে না। আমি সরকারি কলেজে প্রভাষক এটা শুনে যেন তাদের উৎসাহ আরও বেড়ে যায়।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমার যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে নাগরপুরের অন্যান্য মেয়েদের কি অবস্থা আমি চিন্তা করতে পারছি না।

ঘটনার প্রেক্ষিতে আমি নাগরপুরের ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে থানায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ দিয়েছি আজ মামলা করব বলে স্থির করেছি। আমি নাগরপুর টাংগাইলের এই ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের বিচার চাই। এবং আমি তাদের বিচার নিশ্চিত করা না পর্যন্ত শান্ত হবো না বলে প্রতিজ্ঞা করেছি।

এ ছাড়া নাগরপুরের রাস্তাঘাটে তারা যেন নারীদের আর কোনোভাবে হেনস্তা করতে না পারে তার জন্য যা যা করা দরকার আমি করব।

ঘটনার পূর্ণ বিবরণী মানসিক অবস্থায় দেওয়া সম্ভব নয়। একটু সুস্থির হলে আমি ঘটনার বিবরণ সবার সামনে তুলে ধরব। ঘটনাটি রাত্রিবেলায় হওয়ায় উপযুক্ত সকল কর্তৃপক্ষকে জানানো সম্ভব হয়নি।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আমাদের কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় কে জানানো হয়েছে।

আমি যেন মানসিকভাবে শক্ত থাকতে পারি তার দোয়া সকলের কাছে চাচ্ছি এবং সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাকে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করছি।

ঘটনার আপডেট

দণ্ডবিধির ৩৫৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের। নাগরপুর থানার তৎপরতায় একজন আসামি গ্রেপ্তার।

স্থানীয় এমপি মহোদয়, জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল মহোদয়, পুলিশ সুপার টাঙ্গাইল মহোদয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাগরপুর মহোদয়, শ্রদ্ধেয় এসি ল্যান্ড নাগরপুর ভূমি অফিস ও শ্রদ্ধেয় ওসি, নাগরপুর থানা প্রশাসনিক ভাবে সকল ধরনের সহযোগিতা করেছেন। আমাকে অভয় দিয়েছে নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবে। সকলেই আমাকে অভয় দিয়েছে।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা হয়েছে তারা সাংগঠনিকভাবে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে যাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এক ঘটনা শেষ পর্যন্ত তারা আমার সাথে থাকবে বলে জানিয়েছেন।’

নাগরপুর থানার ওসি তদন্ত গোলাম মোস্তফা মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই শিক্ষিকা নাগরপুর সরকারি কলেজের কর্মরত রয়েছেন। শ্লীলতাহানির অভিযোগে তিনি তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ওসি জানান, মামলার আসামিরা হলেন, মামুন, বিপ্লব ও বাবু। এদের মধ্যে ইতিমধ্যেই বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, আসামিরা ওই শিক্ষিকার কথ্য ভাষায় গালিগালাজ, কাপড় ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানি করেছে। একই সাথে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষিকা।