হোম কোয়ারান্টাইনে রুনা লায়লা ও সাকিবঃ এভারেস্টজয়ী আসফিয়া করোনায় আক্রান্ত

প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২০ | আপডেট: ১০:৪৬:অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২০

লন্ডন টাইমস, ঢাকা ।বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ‘সেলফ আইসোলেশনে’ রয়েছেন। সম্প্রতি বিমান ভ্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছার পর সাকিব নিজ উদ্যোগেই সেলফ আইসোলেশন গ্রহণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখে মেয়ে আলাইনা হাসান অব্রির সাথে দেখা না করেই তাই হোটেলরুমে বন্দী করেছেন নিজেকে।

শনিবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় সাকিব বলেন, ‘আমি মাত্রই যুক্তরাষ্ট্রে এসে পৌঁছলাম। যদিও বিমানে সবসময় একটু হলেও ভয় কাজ করেছে। তাও চেষ্টা করেছি কীভাবে নিজেকে হাইজিন, পরিস্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা যায়।’

সাকিব আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণ করে সোজা একটি হোটেলে উঠেছি। তাদেরকে অবগত করেছি- আমি এখানে থাকব কিছুদিন। যেহেতু বিমানে এসেছি, একটু হলেও ঝুঁকি আছে আমার। এজন্য নিজেকে আইসোলেটেড করে রেখেছি।’

মেয়ের সঙ্গে দেখা করেননি উল্লেখ করে সাকিব বলেন, ‘এ কারণে আমার বাচ্চার সাথেও দেখা করিনি। এখানে এসেও বাচ্চার সাথে দেখা করছি না- এটা আমার জন্য কষ্টকর ব্যাপার। তারপরও আমার মনে হয় এই সামান্য ত্যাগ করতে পারলে আমরা অনেক দূর এগোতে পারব।’

রুনা লায়লাঃ

ঢাকার আসাদ অ্যাভিনিউতে নিজ বাড়িতে স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। যুক্তরাজ্যে দেড় মাস বেড়ানোর পর ১৬ মার্চ দুপুরে তিনি দেশে ফিরেন।

জানা যায়, এ মাসের ২৭ তারিখ এবং এপ্রিলে দুটি স্টেজ শো করার কথা ছিল রুনা লায়লার। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এসব শো বাতিল করেছেন তিনি।

করোনাভাইরাস সম্পর্কে শুক্রবার রাতে ফেসবুকে একটি লেখা পোস্ট করেছেন রুনা লায়লা। বলেছেন, যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে আমার নিজের শরীরে কোনো ধরনের উপসর্গ না থাকার পরও স্বেচ্ছায় পরিবার আর গৃহকর্মীদের নিয়ে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ মেনে চলছি। আমার পরিবারের অন্য সদস্য এবং স্টাফরা এই নিয়ম মেনে চলছে। সবাই একবার ভাবুন। সতর্ক থাকুন এবং সবকিছু থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখুন, অন্যদেরও নিরাপদে রাখুন।

ওয়াসফিয়া করোনায় আক্রান্ত:

এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশি পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। ফেসবুক স্ট্যাটাসে ওয়াসফিয়া লিখেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি কভিড-১৯-এর সঙ্গে লড়াই করছি। তবে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমি যেটা নিয়ে যুদ্ধ করছি তার কিছুটা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য বন্ধুর সহায়তায় এ পোস্ট করছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশ নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, দেশের জনগণকে আঘাত করছে এ করোনা। মহামারী আকারে রোগটি দীর্ঘ হতে চলেছে। আমাদের সচেতনতা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি দরকার।’ ওয়াসফিয়া লিখেছেন, ‘প্রথম নিজেকে শান্ত রেখে যা কিছু করার করুন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আতঙ্ক সৃষ্টিকারী সব ধরনের ভুল এবং উদ্বেগের সংবাদ মনের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। দয়া করে এগুলো পরিহার করুন।’ বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে চিকিৎসাধীন ও কোয়ারেন্টানে আছেন বলে জানিয়েছেন ফেসবুক পোস্টে।

২০১২ সালের ২৬ মে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন ওয়াসফিয়া।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এরই মধ্যে বাংলাদেশে ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন দুজন।