স্থানীয়ভাবে ৩০০ হাজারের উপরে মাস্ক তৈরি হচ্ছে, কোয়ারান্টাইন মানার কঠোর তাগিদ

চীনের উপহার চিকিৎসা সামগ্রী শীগ্রই আনা হবে

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২০ | আপডেট: ১১:৪৩:অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২০

ঢাকা অফিস, লন্ডন টাইমস। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় শনাক্তকরণ কিট ও যন্ত্রপাতি সংকটের দাবি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। করোনা পরীক্ষার কিট নেই, সুরক্ষার যন্ত্রপাতি নেই- বিভিন্ন মহল যে দাবি করছে তা সত্য নয়। আমরা এসব তৈরি রেখেছি। চীনকে এ বিষয়ে আমরা বলেছিলাম। তারা এরই মধ্যে ১০ হাজার টেস্টিং কিট ও ১০ হাজার প্রটেক্টিং ইকুইপমেন্ট তৈরি রেখেছে। যেকোনো সময়ে ভাড়া করা উড়োজাহাজে এসব চলে আসবে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও (কিট-যন্ত্রপাতি) আনার চেষ্টা করছে। প্রয়োজনে আমরা সেগুলোও ব্যবহার করবো। আর স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ফ্যাক্টরী দিনে ৩০০ হাজার মাস্ক তৈরি করছে, মেডিক্যাল ইকুইপম্যান্টও মজুদ আছে।

শনিবার ছুটির দিনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানান। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মূলত বিদেশফেরত লোকজনের মাধ্যমে ফের এমন দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার দেশবাসীর সুরক্ষায় ৩১ মার্চ পর্যন্ত আরও ১০টি দেশ থেকে যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি, করোনাভাইরাসটা মোটামুটি সংক্রমিত হয়েছে বিদেশফেরত লোকদের মাধ্যমে। যে ২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন তারা হয় বিদেশ ফেরৎ, না হয় বিদেশ থাকা আসা লোকজনের সান্নিধ্যে গেছেন বলেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। মন্ত্রী বলেন, দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে আমরা কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর ও ভারত এ ১০টি গন্তব্য থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ আসা রহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ওই সময়ে যুক্তরাজ্য, চীন, থাইল্যান্ড ও হংকং- ওই চারটি রুট চালু রাখা হচ্ছে, বিশেষ প্রয়োজনে লোকজনের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায়। যুক্তরাজ্য, চীনসহ চারটি আন্তর্জাতিক রুট খোলা রাখার যৌক্তিকতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা তো পুরোপুরি লকডাউন করতে পারি না। দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারি না। তাই কয়েকটি রুট খোলা রেখেছি।

‘কঠোর’ বার্তা: এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, সরকারের কঠোর সিদ্ধান্ত, বিদেশ ফেরত যেইই হোন না কেন, তাকে অবশ্যই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সেটা বাড়িতে হোক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক। কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কেউ এটি অমান্য করলে আপনারা স্থানীয় প্রশাসনকে জানাবেন। স্থানীয় প্রশাসন বিহিত ব্যবস্থা নেবে। যারা বিদেশ থেকে ফিরবে, বিমানবন্দরে তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি অমোচনীয় কালি দিয়ে দাগ দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি এ জন্য যাতে সহজে চিহ্নিত করা যায়।

মন্ত্রী মোমেন বলেন, যাঁরা বিদেশ থেকে ফিরেছেন, তাঁদের আত্মীয়স্বজনের কাছে আমাদের আবেদন, আপনারাও তাদের প্রতি সজাগ থাকুন। কারণ, এ ভাইরাসটা কার মধ্যে আছে, তা আমরা জানি না। ১৪ দিন পর্যন্ত ওই ভাইরাস সম্পর্কে আমরা বলতে পারি না। তাই এই সময়টা যাতে সবাই যথাযথভাবে মেনে চলেন সেটি নিশ্চিত করুন।

এখনও প্রবাসে থাকা লাখ লাখ বাংলাদেশির প্রতি তাদের  বাংলাদেশ সফর পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বলছি, আপনাদের দেশে আসার কোন পরিকল্পনা থাকলে তা পিছিয়ে দিন। কারণ, সারা দুনিয়ায় এখন করোনা সংকট চলছে  অনেক দেশেই লকডাউন করে ফেলেছে।

মন্ত্রী বলেন, মিশনগুলোকেও আমরা আমাদের অবস্থা এবং সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে অবহিত করেছি। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে, যদি কোনো দেশে থাকা বাংলাদেশির ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, কিংবা অন্য সমস্যা হয়, ওই দেশ করোনা পরিস্থিতির কারণে তাদের অবশ্যই ভিসার মেয়াদ বাড়াবে। তাই ভিসা কোন সমস্যা নয়।