“মুজিব জন্ম শত বার্ষিকীর জন্য বরাদ্ধ টাকার ভাগিদারগণ এগিয়ে আসুন “

প্রকাশিত: ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০ | আপডেট: ২:৪১:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০
মাকসুদা সুলতানা ঐক্য । হাজার বছরের সেরা বাঙালী, বাংলার প্রাণের স্পন্দন জাতির পিতার জন্ম শত বার্ষিকী উপলক্ষে বরাদ্ধ কৃত টাকা কোন খাতে, কতো ব্যায় হচ্ছে? আর কে কোথা থেকে নিজের পকেটে কতো ঢুকেচ্ছে? এটা জানতে চাওয়ার অধিকার আমার আছে।
দেশে করোনা নামক নালতের কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শত বার্ষিকীর শুরু থেকেই সকল কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যার নির্দেশনা অনুযায়ী।
এখন সারা বিশ্বের দূর্যোগকালীন সময়ে পৌছেছে। সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে যে, বৈশ্বিক এই মহামারির ক্ষত আগামী কতো বছর বহন করতে হবে! সারা বিশ্বের উন্নত,অনুন্নত প্রতিটি দেশের হত দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে মারা যেতে হবে অনাহারে অর্ধাহারে।
বিত্তবান বা দূর্নীতিবাজদের সঞ্চিত টাকার গরমে তারা এই মহামারির আঁচ কাটিয়ে উঠলেও যারা দিন আনে দিন খায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা ওসব দূর্নীতিবাজদের নেই বা থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। এটা সকলকে মেনে নিতেই হবে একমাত্র আল্লাহ ই আছেন সে সব দূর্নীতিবাজ মানুষের আদলে জন্মানো জানোয়ারদের বিচারের জন্য।
ভেবে দেখুন যে সব জানোয়ার কূল সামান্য হাঁচি-কাশী হলে বিদেশে দৌড়ে যায় চিকিৎসার জন্য। প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে প্রমোদভ্রমণ অথবা বেহায়া নাইট পার্টি তে গিয়ে মদ আর নারী সঙ্গে, সে সব কুলাঙ্গারদের সাহায্য পাবেন বাংলাদেশের এই দূর্যোগের সময় এবং সে আশা করাও বৃথা।
যদি তাই না হতো তবে কোটি কোটি কোটি টাকার মালিক ড. ইউনুস টাইপ লোকদেরকে সবার আগে পাশে পাওয়া যেতো। পাশে পাওয়া যেতো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সেই দুই ধনবান কে।
ওদের ছেলে মেয়েরাও তো ওদের ই বীর্জের তাই এখন ওরা ডিজে পার্টি, ফ্রেন্ডস গেট টুগেদার আর প্রতি বেলায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন দামী দামী ফাস্ট ফুড খেয়ে মাসে যে পরিমান টাকা খরচ করতো ভুল করেও ভাববেন না যে,ওরা এই সময়ে বা এরপরেও কোন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে! জন্ম তো পাপের বীর্জে তাই ওদের কাছেও আশা করা বৃথা।
আমরা যারা উচ্চ মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত রয়েছি এই দূর্যোগে হত দরিদ্র মানুষের জন্য মন তাদেরই কাঁদে। আমাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও চেষ্টা করি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং তার প্রমাণ দেশের প্রতিটি দূর্যোগ কালীন সময়ে আমরাই দাঁড়াই পীড়িতর পাশে।
এই উচ্চ মধ্যবিত্তের মধ্যে আবার কিছু গুপ্ত কুলাঙ্গার আছে, যারা উপড়ে দেশ দরদী ভান ধরলেও এরা থাকে ভাগের আগে এবং ত্যাগের পেছনে। এরাই এখন পাল্লা দিয়ে দূর্যোগের আভাস পেলে সবার আগে দৌড়ে যায় বাজার থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনে ঘর বন্দী করার কাজে। এদের এই প্রতিযোগিতার কারণে বাজারে নামে পণ্যের সংকট, মূলতঃ দু টাকার পণ্য বিশ টাকায় ওঠার কারণ ও এরাই।
একটি বার এরা উচ্চ বিত্তের মতো ভাবেনা হতদরিদ্র দিন আনা দিন খাওয়া কোটি কোটি মানুষের কথা। ভাবেনা যারা রিক্সা চালায়, ঠালা গাড়ি টানে অথবা রাস্তায় রাস্তায় হকারি করে সংসার চালায় তাদের পরিবার বা তাদের সন্তানেরা কি খাবে কিভাবে চলবে! এরাও অনেকে বিশাল ফ্লাট বাড়ির মালিক পরিবারের জনপ্রতি গাড়ির মালিক কিন্তু তাই বলে দরিদ্রদের নিয়ে ভাবার সময় তাদের কোন কালেই ছিলোনা আর আগামীতেও থাকবেনা।
বাংলাদেশের আরেক দল ধর্ম ব্যবসায়ী পশু রয়েছে,যারা সত্যিকার অর্থে কোন ভাবেই ধর্ম ভীরু নয়। এরা নিজেদের স্বার্থে পবিত্র কুরআন এর অর্থ পর্যন্ত বদলে নিজেদের সুবিধামতো ওয়াজের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ লোক গুলোকে বিপথগামী করে। এদের ওয়াজ বা বাণীতে এমন সব বানানো কথা বার্তা থাকে যে, মানুষ দূর্যোগ মহামারীর সময়ে সচেতন না হয়ে উল্টো নিজেদের ধর্ম নিয়ে অতি আবেগের বলি হয়ে নিজেরা শুধু নয় সারা দেশকেই চরম সংকটে ফেলে দেয়। নিত্য নতুন ফতোয়া দিয়ে সাথে ধর্মপ্রাণ কিছু অতি আবেগী দলবল নিয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে পরে। বিশেষ করে যারা ওয়াজের নামে বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় আবেগ কে পূজি করে প্রতি বছর শীত কালে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেয়, তাদের কাউকে কি কখনো দেশের জন্য বা দেশের অসহায় মানুষের অভাবের সময় পাশে দাঁড়াতে কেউ কি দেখেছেন ?
উত্তরটা হচ্ছে – না দেখেননি কারণ ওরা প্রকৃত ধর্ম ভীরু কখনোই নয়। বরং এরাই বড় জাহেল এবং ঐ সব ধর্ম ব্যবসায়ীরাও একেক জন বিশাল অংকের টাকার মালিক। ধর্ম ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত টাকা, হাদিয়ার নামে হাতিয়ে নিয়ে এরাও বিলাশবহুল ভাবে চলে জীবন পার করে। এদের ও নিজের ছাড়া কারো জন্যই ভাবনা নেই।
যেমন ভাবনা নেই দেশের বেশ কিছু কোটিপতি মন্ত্রী, এমপি বড় বড় নেতা, নেতার চ্যালা চামুন্ডা সর্বপরি কালো বাজারী, লুটেরা, জুয়ারী, ঘুষখোর সরকারি বেসরকারি বড় বড় কর্মকর্তাদের। সে কারণে ওদের আজ মুখে লাগাম নেই, এমন বৈশ্বিক মহামারীতেও তাদের একেক জনের মুখের ভাষা শুনলে ঘৃণায় থু থু ছিটাতে ইচ্ছে করে।
এরা অনেকেই আবার সরকারি দলের বিশাল নেতা হওয়ার সুবাদে নির্লজ্জের মতো সকাল বিকেল বাণী ঝাড়লেও দেশের মানুষের মন এরা বোঝেনা। বোঝেনা কখন কোথায় কি কথা বলা উচিৎ অনুচিত। লেখার শুরুতে যে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শত বার্ষিকীর নামে বরাদ্ধকৃত টাকার কথা বলেছিলাম সেই টাকা গুলো ও কিন্তু এদের ই মাধ্যমে বন্টন হয়েছে।
এবং এদের ছত্রছায়ায় থেকেই দেশের কুলাঙ্গার মজুতদারি দল,শেয়ারবাজার লুটেরা, টেন্ডারবাজরা ৬০০ টাকার এক বালিশের দাম ২৭,৭২০ টাকা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্ধের হাতল আলা এক চেয়ারের দাম ৪৫ হাজার টাকা  আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্ধের ১০ টি সাধারণ মানের মাধ্যমিক স্কুল নির্মান ব্যায় ৬৭৩ কোটি টাকা দেখানোর সুযোগ বা সাহস পাচ্ছে। অথচ ইদানীং এই করোনা আতঙ্কের সময় নাকি ডাক্তারদের জন্য নিরাপদ পোষাক সর্বরাহের বাজেট দিতে পারবেনা!
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যেখানে এই মহামারি থেকে দেশকে রক্ষা করা সহ জনগণের সুচিকিৎসার জন্য করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে আরও ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকারের অর্থ বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে এ টাকা বরাদ্দ দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ সংক্রান্ত বিভাগ।
এর আগে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাইলেও ১১ মার্চ ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এ নিয়ে অর্থ বিভাগের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলো।
অর্থ বিভাগের বরাদ্দপত্রে বলা হয়,স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অনুকূলে সচিবালয় অংশে সাধারণ থোক বরাদ্দ খাতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলো। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুকূলে এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়।
এ অর্থ চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ, জনসচেতনতায় প্রকাশনা এবং কেমিক্যাল রি-এজেন্ট খাতে ব্যয় করতে হবে। এর আগের ৫০ কোটি টাকাও একইভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়।
এখন কথা হচ্ছে, সরকার প্রধান জনগণের জন্য এই যে এতো কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছেন তার মধ্যে ঠিক কতো টাকা সত্যিকার অর্থে জনগণের কাজে ব্যবহার হবে? আর কতো কোটি টাকা লোপাট হবে আমরা কিন্তু কেউ ই নিশ্চিত নয়। এবং এটা এমনই এক দেশ যার সমস্ত ঠ্যাকা যেন একা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উপর বর্তানো।
অথচ এর আগে কতো সরকার প্রধান এলো গেলো কারোই কিন্তু এমন দায় দেখিনি, বরং নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের দিয়ে দেশের কোটি কোটি টাকা উল্টো বিদেশে পাচার করতেই দেখেছি। শেখ হাসিনা তার বাবার মতো দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত জানি বলেই হয়তো তাঁর কাছ থেকে ভালো কাজ পাওয়ার লোভটাও আমাদের মাত্রাতিরিক্ত রকমের বেশী।
এর পরেও দেশের বেশীর ভাগ সাধারণ জনগণ, সুশীল নামের কিছু দুষ্ট চক্র আর দেশ বিরোধী চক্র সারাক্ষণ লেগেই থাকে শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনার দোষ খুঁজতে! অথচ এই এতো গুলো মানুষ মিলে দেশের চোর বাটপারদের ধরে উচিৎ শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারেনা।
আগামী বুধবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিবেন, আমি নিশ্চিত সেখানেও বঙ্গবন্ধু কন্যা তার হৃদয় নীংড়ানো সব টুকু ভালোবাসা এবং সর্বোচ্চ সামর্থ্য মতো দেশের মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দিবেন। কিন্তু তার পক্ষে তো আর ডোর টু ডোর গিয়ে হাতে হাতে সাহায্য পৌছে দেয়া সম্ভব নয়!
তবে সেটা একমাত্র প্রতিটি এলাকার জনপ্রতিনিধির পক্ষে করা সম্ভব তাই এইবার অন্ততঃ দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে একটু কাজ দেখায়েন। এলাকার হত দরিদ্র মানুষের দুবেলা দু মুঠো খাবার যেন পাতে পায় সেটা একটু নিশ্চিত  করিয়েন। আল্লাহ এবং আপনাদের নিজের সন্তানের কসম রইলো মুজিব জন্ম শত বার্ষিকীর নামে যে যতো টাকা পকেটে ভরেছেন আমরা সেটা ভুলে যাবো! তবু আপনারা আগামী বরাদ্ধের টাকা গুলো যেন নিজেরা হাতিয়েন না এবং চ্যালা চামুন্ডারাও যাতে মেরে খেতে না পারে সেটা নিশ্চিত করবেন।
দেখুন সারা বিশ্বের আজ স্থবির অবস্থা এবং এই স্থবিরতার রেশ কতো দিনে কাটবে সেটা একনাত্র আল্লাহ ই ভালো জানেন। তাই এই সময়ে অন্যের ভরসায় নয়, নিজের দেশের ভরসায়ই প্রস্তুত হোন এই দূর্যোগ মোকাবিলা করার। এবং বকধার্মিক কাঠ মোল্লাদের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে নিজের ঘরে বসে ই বেশী বেশী আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ নাজাত চেয়ে নিন। যাতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের এই নালত থেকে মুক্তি দেন।
নিজে সতর্ক থেকেই অন্যের সাহায্য করুন। অসহায়ের পাশে খাবার পৌছে দিন। আবারো বলছি অসৎ পথে টাকা কামিয়ে ইবাদত শুধু মসজিদে গিয়ে ৫ ওয়াক্ত কপাল ঠুকলেই হবেনা। দুনিয়ার বড় ইবাদত হলো আল্লাহর রাস্তায় দান করা। গরীব অসহায়ের মুখে খাবার তুলে দেয়া। সারা জীবন তো লুটের ভাগের আগে ছিলেন এবার এই সময়ে এই ইবাদতের ভাগের আগে এসে দখলে নিন। আর হ্যা ফেসবুকে মাগনা ভিডিও বক্তব্য শেয়ারের সুযোগ পেয়ে মিছেমিছি নিজেদের মহন প্রনাণ করতে চাওয়া বাণী প্রদায়ক না সেজে সত্যি সত্যি মানুষের পাশে দাঁড়ান। এখন ওসব ভুয়া বক্তাদের আদিখ্যেতাও জনগণ খুব ভালো বোঝে।নিশ্চয়ই আল্লাহ সকলকে এবং আমায় ক্ষমা এবং নেককাজ কবুল করবেন।।
২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০।