করোনা ভাইরাসে আমাদের করণীয়; নিজে সুস্থ থাকুন অন্যকে সুস্থ রাখুন

প্রকাশিত: ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০ | আপডেট: ২:৪৫:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০

মকিস মনসুর ।মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না. বৃটেনের ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফ শহর আমার আবাস আর ঠিকানা. আজ থেকে পছিশ বছর আগে বাংলাদেশের আমার জন্মস্থান কচুয়া গ্রাম থেকে এই কার্ডিফে আগমন. চিরো চেনা এই প্রিয় শহর আজ অচেনা মনে হচ্ছে। সবকিছু বন্ধ এ যেনো এক মৃত্যুপূরীতে পরিণত হয়েছে। করোণার আতংকে সারা পৃথিবী. রয়েছে উদ্বেগ,ও উৎকন্ঠায়. মেডিসিনের শহর সুইজারল্যান্ড অসহায়।প্রযুক্তির শহর জার্মানি নিরুপায়, মানবতার শহর ইতালি কাঁদছে। ক্ষমতার শহর আমেরিকা দিশেহারা।  সারা দুনিয়ায় হাসপাতাল সমূহ ও রুগী ধারণ ক্ষমতার প্রায় বাহিরে চলে গেছে। দেশে দেশে প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে অগণিত মানুষ! করোনার কারণে আমরা ও হয়ে গেছি ঘরের ভিতরে কারা বন্দি ;  করোনা ভাইরাসের ধ্বংসলীলা যেন সবকিছু থমকে দিয়েছে. দেশে দেশে বন্ধ হয়ে গেছে আমাদের মসজিদ মক্তব মাদ্রাসা ও  ইসলামিক সেন্টার ;  গিরজা স্কুল কলেজ এন্ড রেষ্টুরেন্ট পাব. ক্লাব সিনেমা হল সহ সব ধরনের জনসমাঘম বন্ধ রাখার  ঘোষণা করা হয়েছে.। করোনা ভাইরাস বা কোভিড ১৯ একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর প্রায় ১৮০টি দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। যেহেতু এই ভাইরাসের কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি, তাই ভাইরাসটিকে ছড়িয়ে পড়া থেকে রোধ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আসুন আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ও প্রত্যেক দেশের সরকারের সকল নির্দেশনা মেনে চলি. জনসমাগম এড়িয়ে চলি. অসুস্থ বোধ করলে বাসায় থাকতে হবে। নিয়মিত সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে অথবা স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। নাকে, মুখে ও চোখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁচি, কাশি দেয়ার সময় মুখ ঢেকে নিতে হবে। হাত মেলানো ও আলিঙ্গন থেকে বিরত থাকতে হবে। করোনা থেকে বাঁচার প্রথম অগ্রাধিকার হলো নিজস্ব সচেতনতা ও দায়িত্ববোাধ। এই দায়িত্ববোাধের জায়গা থেকে ব্যক্তিগতভাবে ভূমিকা রাখার সবচেয়ে কার্যকর দুটি উপায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিকভাবে দূরত্ব বজায় চলা। ফেইসবুকের মাধ্যমে সংগৃহীত একটি লেখা পুরাপুরি এখানে তুলে ধরতে চাই যাহা আমদের সবার উপকারে আসতে পারে
অন্তহীন আতঙ্কের ভেতরও মাঝে মাঝে দেখা দেয় আশার আলো। করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে সুস্থ হয়ে ওঠা এক মার্কিন তরুণীর কিছু বার্তা আমাদের জন্য হতে পারে শিক্ষণীয় ও অনুকরণীয়।

সিয়াটেলের বাসিন্দা ৩৭ বছরের এলিজাবেথ স্নেইডার বায়োইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পিএইচডি করছেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অফিসে সামান্য অসুস্থ বোধ করেছিলেন। এর তিন দিন আগে তিনি একটি পার্টিতে গিয়েছিলেন। অসুস্থ বোধ করার পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। বিশ্রাম নেন। ভেবেছিলেন গত সপ্তাহে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে এমনটা হয়েছে। খানিকক্ষণ ঘুমানোর পর তিনি তার দেহে তীব্র জ্বরের উপস্থিতি টের পান। ওই রাতেই তার দেহের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটে উঠে যায়।

জ্বর আর মাথাব্যথা হলেও কাশি কিংবা শ্বাসজনিত সমস্যার মতো সাধারণ উপসর্গ না থাকায় নিজেকে কভিড-১৯ এ আক্রান্ত বলে মনে করেননি তিনি। স্নেইডার  বলেন, আমি ভেবেছি, যেহেতু কাশি বা নিঃশ্বাসে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না, সুতরাং আমারটা করোনাভাইরাস নয়। ঠাণ্ডা লাগলেও তিনি ব্যাপারটাকে সাধারণ হাঁচি-কাশি বলেই মনে করেছিলেন। ভেবেছিলেন, চিকিৎসকের কাছে গেলেওতো তাকে বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিতে এবং বেশি করে তরল খাবার খেতেই বলা হবে। ততক্ষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। আরও অনেকের তারই মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানতে পারেন এলিজাবেথ। যুক্তরাষ্ট্রের এই রাজ্যটিতেই ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। এখন পর্যন্ত শুধু এ রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬০ জন এবং মারা গেছেন অন্তত ২৪ জন।

এরপর সতর্ক হয়ে ওঠেন তিনি। হঠাৎ এলিজাবেথ জানতে পারেন, তিনি যে পার্টিতে গিয়েছিলেন সেই পার্টিতে যাওয়া কয়েকজন ব্যক্তি ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। তবে কয়েকজনের পরীক্ষার পর ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটে ডায়গোনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেন ওই সেন্টারের কর্মীরা। কিছুদিন পর পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়, তিনি কভিড-১৯ পজিটিভ। ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য এলিজাবেথ জানতে পারলেন ৭ মার্চ। এরপর এলিজাবেথ যা করলেন তা শিক্ষণীয়।

কোনো রকম আতঙ্ক নয়, মন ও মস্তিষ্ক স্থির করে সোজা নিজের বাড়িতে একটি ‘ইমারজেন্সি’ ঘরে চলে যান। সেখানেই কোয়ারেন্টাইনে নিজেকে বন্দি করে ফেলেন। কোনো রকম জমায়েত নয়, বাইরে কোথাও বেরুনো নয়, ঘর থেকেই কাজ করতে থাকেন। চিকিৎসকদের পরামর্শমতো প্রচুর পানীয় খান, শরীর যাতে এতটুকুও শুকিয়ে না যায়। এভাবেই চলে অন্তত ১০ দিন। সুফলও পেয়েছেন এলিজাবেথ। গত সপ্তাহ থেকে তার শরীর সুস্থ হয়ে উঠতে থাকে। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি সংক্রমণ মুক্ত।

এরপর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সেরে ওঠার কাহিনি শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, ‘আমার এই গল্প শুনে মনে হয় মানুষ একটু ভরসা পাবেন। যেভাবে করোনা নিয়ে চারপাশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে বারবারই বলতে চাই যে, ভয় পাবেন না, আতঙ্কিত হবেন না। কিন্তু সাবধানে থাকুন। শরীর খারাপ লাগলে, বাড়িতেই থাকুন। যদি আপনার সন্দেহ হয়, তাহলে অবশ্যই পরীক্ষা করান। ওষুধ খান, প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন, বিশ্রাম নিন।
এখানে উল্লেখ্য যে সমগ্র বিশ্বব্যাপী সামাজিক অবক্ষয় ও অবিচার, দুর্নীতি লুঠপাঠ , নির্লজ্জপনা ,দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহার, মানুষ মানুষকে নিধন, অখাদ্যকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে মানব শরীরে দূষিত জীবাণু সৃষ্টি, মিথ্যাচারিতা ইত্যাদি পাপের বুঝা’য় পৃথিবীর ভারসাম্য হেরে যাওয়ার কারনে  সমগ্র পৃথিবীতে মহামারী দেখা দিয়েছে | এই মহামারী মহাণ আল্লাহ্‌র তরফ থেকে মানুষের প্রতি সতর্ক বার্তা স্বরূপ; আসুন আমরা আমাদের গুনাহের জন্য তওবা করি অস্তাখফিরুল্লাহ ইন্নাল লাহা গাফুরুর রাহিম এবং সব সময় সবাই এই দোয়া পড়ি আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বারসি ওয়াল জুনু-নি ওয়াল জুযা-মি ওয়ামিন সায়্যিল আসক্বাম.আমিন!!মানব সেবাই প্রাকৃতিক ধর্ম। মহাণ আল্লাহকে কাছে পাওয়ার আরেকটি অন্যতম মাধ্যম হলো মানবসেবা। মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না. আসুন একে অন্যকে সহযোগিতা করি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলি .আসুন সবাই ঘরে বসে ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে দোয়া করি মহাণ আল্লাহু রাব্বুল আলামিন সবাইকে হেফাজত রাখা সহ এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করেন ; আসুন মনোবল দৃঢ় রাখুন. সাহস হারাবেন না  আমরা সবাই নিজেরা সচেতন হই। নিজে ভালো থাকি, পরিবারকে ভালো রাখি, সমাজকে ভালো রাখি, মানবজাতিকে ভালো রাখি. আজকের এই বিপদের দিনে আসুন আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ও  বাংলাদেশ বৃটেন সহ প্রত্যেক দেশের সরকারের সকল নির্দেশনা মেনে চলি. এই হোক আমাদের সবার আজকের অঙ্গীকার.।

(মকিস মনসুর । সাংবাদিক, রাজনীতিক, ওয়েল প্রবাসী

মতামত বানানরীতি লেখকের নিজস্ব) ।