খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্তঃযেকোন সময় মুক্তির সিদ্ধান্তে সরকারকে বোনের ধন্যবাদ

‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন খালেদা জিয়ার ভাই-বোন’

প্রকাশিত: ৩:০২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০ | আপডেট: ৩:০৫:অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০

ঢাকা, লন্ডন টাইমস । দুই বছরের বেশি সময় কারান্তরীন খালেদা জিয়া এখন মুক্তির অপেক্ষায়। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ফিরবেন তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি দণ্ড পেয়ে কারাগারে যান তিনি। শুরুতে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছিল তাকে। পরে অসুস্থ হয়ে নেয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় হাসপাতালে। দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিরাজমান পরিস্থিতির মধ্যেই আজ তাকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত জানায় সরকার। বয়স ও মানবিক বিবেচনায় তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তার মুক্তি সংক্রান্ত নথি বিকালে আইন মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নথি পাঠানো হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। এরপর এ নথি যাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।  তিনি অনুমোদন দিলেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুক্তি সংক্রান্ত নির্দেশনা কারাগারে পাঠাবে। পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করা হচ্ছিল দীর্ঘ দিন থেকে। তবে সরকারের তরফে বলা হচ্ছিল এটি আদালতের বিষয়। আইনী প্রক্রিয়াই তিনি মুক্ত হবেন।

দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল হক বলেন, তার (খালেদা জিয়া) সাজা ৬ মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করার শর্তে এবং ওই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না- এই শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমি মতামত দিয়েছি। সেই মতামত এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে গেছে। তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, আগে ৬ মাস যাক, তারপর দেখা যাবে। তিনি বলেন, এখানে কিন্তু বলা হচ্ছে না তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন না। সেটা তার অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। তবে শর্ত হচ্ছে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

আইনমন্ত্রী আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়ায় দুই শর্তে দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। সরকার মানবিক কারণে সদয় হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা (উপধারা-১) অনুযায়ী এটা আইনি প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে।

সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন খালেদা জিয়ার বোন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্তে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বোন সেলিমা ইসলাম।

আজ দুপুরে খালেদা জিয়ার মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা জানান।

তিনি  জানান, এখনও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। আর কারাগার থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যোগাযোগ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান বোন সেলিমা ইসলাম।

‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন খালেদা জিয়ার ভাই-বোন’

পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে সরকার তাকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় গুলশানের নিজ বাসায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমার কাছে একটা দরখাস্ত করেছিলেন, খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেয়ার জন্য। সেখানে অবশ্য উনি বলেছিলেন লন্ডনে উন্নতর চিকিৎসার জন্য আবেদনটি করা হয়েছে। এরপরে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দর, তার বোন সেলিমা ইসলাম এবং তার বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই বিষয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এবং সেখানেও এই আবেদনের বিষয়ে কথা বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেছিলেন যে, নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় উপধারা(১) খালেদা জিয়া যে সাজা সেটা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করার শর্তে এবং ওই সময়ে তিনি দেশের বাইরে না যাওয়ার শর্তে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি মতামত দিয়েছি। সেই মতামত এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণানয়ে পৌঁছে গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, কিছুক্ষণ আগে আমার মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি এবং আমি আপনাদের এখানে উল্লেখ করেছি যে, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হচ্ছে- আইনি প্রক্রিয়ায় এই দুই শর্তসাপেক্ষে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্তি দেয়ার জন্য।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এখানে বলা হচ্ছে না যে, তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন না। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির ব্যাপারে তার কন্ডিশনের ওপরে দেখা যাবে, সেই জন্যই কথাটা উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাসায় থেকে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে সরকার সদয় হয়ে দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।