কিভাবে কোথায় কেমন করে ক্লেইম করবেন সরকার ঘোষিত ৮০% ওয়েজ, গ্র্যান্ট, আপনি কত পেতে পারেন

প্রকাশিত: ১:০৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০ | আপডেট: ১:৫৭:অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ। সূত্র গভ ডট কম । ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস, বিবিসি, এক্সপ্রেস, গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফ, এইচএমআরসি, ব্রিটিশ ব্যাংকার্স, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ।  করোনা ভাইরাসের মহামারীতে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। লক্ষ লক্ষ লোক ঘরের মধ্যে আটকে আছেন। কেউবা সেলফ আইসোলেশনে, আবার  কেউবা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে কাজ থেকে অফ নিয়ে আছেন। অনেককেই ঘর থেকে কাজ, আবার অনেককেই কাজে না আসার জন্য বারণ অথবা রেস্টুরেন্ট, পাব, ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকার কারণে ঘরেই আছেন।

এই কঠিণ সময়ে চ্যান্সেলর ওয়ার্কার, চাকুরীদাতা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রণোদনা ও সাপোর্ট প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।

চ্যান্সেলরের ঘোষিত স্কিম ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেজে সংজ্ঞায়িত।

এমপ্লয়ি, এমপ্লয়ার প্যাকেজঃ

যারা কাজ করেন অথচ এখন ব্যবসা বন্ধ থাকার কারণে অর্থাৎ ভাইরাসের প্রকোপে কাজ থেকে বিরত তাদের সাপোর্টের জন্য সরকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন এমপ্লয়ির বেতনের ৮০% পর্যন্ত মাসে ২,৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত সাপোর্ট ঘোষণা করেছেন।

এক্ষেত্রে মালিক বা এমপ্লয়ারকে এই প্যাকেজের বা স্কিমের বেনিফিটের জন্য এইচএমআরসিতে আবেদন করতে হবে, নোটিফাই করতে হবে।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক বা ওএনএস এর দেয়া তথ্য মতে, একজন টিপিক্যাল ওয়ার্কার বা এমপ্লয়ি সপ্তাহে ফুলটাইম ৫৮৫ পাউন্ড – মিডিয়ান এভারেজ (মিডিল পয়েন্ট অব অল ওয়ার্কার) হিসেবে ২,৩৪০ পাউন্ড মাসে আয় করে থাকেন।

এক্ষেত্রে সরকার গ্র্যান্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন ২,৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত কাভারের যা সকলের কাছে আশার এবং সেজন্যে সকলেই সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।

এখন মালিক বা এমপ্লয়ারকে এইচএমআরসিকে নোটিফাই করতে হবে-যারা তার কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন বা করছেন, এখন অসুস্থ্য অথবা ভাইরাসের কারণে কাজ থেকে বিরত (যদিও সে ভাইরাসে আক্রান্ত নয়, তথাপি সেলফ আইসোলেশন বা ভাইরাস সংক্রমন থেকে নিরাপদ দূরত্বে) তাদের জন্য এইচএমআরসি এই গ্র্যান্ট প্রদান করবে। এইচএমআরসি ১লা মার্চ (ব্যাক ডেট) থেকে ৩১ মার্চ ( পে ডে ৩১ মার্চ),১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল (পে ডে ৩০ এপ্রিল), ৩০ এপ্রিল থেকে ১ মে(পে ডে ১ মে) এই হিসেবে সেলারি আপটু ২,৫০০ করে প্রদান করবে।

চ্যান্সেলর ঘোষণা করেছেন তিন মাসের জন্য কিন্তু এটাও বলেছেন এই স্কিম রিভিউ এবং অবস্থার প্রেক্ষিতে আরো সাপোর্ট অব্যাহত রাখা হবে।

ব্রিটেন এখন ভাইরাসের প্রকোপ তিন এবং ছয়মাস মাথায় রেখেই এই স্কিম সমূহ ঘোষণা করলেও এক বছরের হিসেব মাথায় রেখেই ঘোষণা করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

সেলফ এমপ্লয়িডঃ

সেলফ এমপ্লয়িডদের জন্য এই স্কিম নয় এবং তাদের জন্য এখন পর্যন্ত কোন স্কীম ঘোষণা করা হয়নি।

ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, ওয়ার্কিং ট্যাক্স ক্রেডিটঃ

উভয় বেনিফিটেই সপ্তাহে ২০ পাউন্ড করে অতিরিক্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ৬ এপ্রিল থেকে চালু হবে, যা ৫ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত পাবেন।

সেলফ এমপ্লয়িড, অল্প আয়ের কর্মচারী  যারা তারা ইউনিভার্সাল ক্রেডিট এ লগ ইন অথবা রেজিস্ট্রেশন করে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট ক্লেইম করতে পারবেন এবং যারা যোগ্য তারা সকলেই ক্লেইম করতে পারবেন কাজ না থাকায়। ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের ওয়েব সাইটে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরি প্লেইন ইংলিশে সবিস্তারে উল্লেখিত আছে। যেকেউ সহজেই লগ ইন করে স্টেপ বাই স্টেপ আবেদন করতে পারবেন। কঠিণ এই সময়ে সকল ফেস টু ফেস ইন্টারভিউ বাতিল করা হয়েছে। ইউনিভার্সাল ক্রেডিটে আবেদনের সময় সকল ডকুম্যান্টস আপলোড করতে হবে।

ওয়ার্কিং ট্যাক্স ক্রেডিট যারা পাচ্ছেন, তাদের কিছুই করতে হবেনা। ৬ এপ্রিল তারিখ থেকে এক্সিস্টিং ওয়ার্কিং ট্যাক্স ক্রেডিটের সাথে অতিরিক্ত ২০ পাউন্ড পাবেন।

বিজনেস স্কীমঃ  

বিজনেস স্কীম এক নাগারে ১০ হাজার, ২৫ হাজার, ৫ মিলিয়ন পাউন্ড ৬ মাস ইন্টারেস্ট ফ্রি (এবং ১২ মাস ফ্রি) স্কীমের ক্ষেত্রে শুরুতে বিজনেসের নিজ নিজ ব্যাংকের কাছে সরকার ঘোষিত সাপোর্ট স্কীমের আবেদন(যদি তারা এই স্কীমের আওতায় থাকে) করাটাই যুক্তিসঙ্গত। তাতে সময় এবং পেপার ওয়ার্ক একেবারে নগন্য। যদি সেই ব্যাংক স্কীমের বাইরে থাকে, তাহলে বার্কলেস, এইচএসবিসি, নাটওয়েস্ট সহ ৪০টি লেন্ডারের সমন্বয়ে চ্যান্সেলর এই স্কীমের আওতায় নিয়ে এসেছেন। এই ৪০টি লেন্ডার এই সপ্তাহ থেকে ( ২৩ মার্চ ২০২০) থেকে এই প্যাকেজের মানি ফ্লো আসার কথা।

গ্রুপ অব কোম্পানিজ বা বড় ব্যবসাঃ

ব্যবসায়িক বড় কোম্পানি বা গ্রুপ অব কোম্পানি কিংবা বড়  ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যারা ১মিলিয়ন বা ততোর্ধ সাপোর্ট চান এবং ১২ মাস সময় ইন্টারেস্ট ফ্রি প্যাকেজের আওতায় সহায়তা চান তাদের জন্যও একই টার্মস। তাদের জন্য বিস্তারিত জানতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের এই পেইজে- এখানে ক্লিক করুন ।

টার্ন টু আসঃ

টার্ন টু আস চ্যারিটি এব্যাপারে আপনার বেনিফিট ক্যাল্কুলেট সঠিকভাবে করে দিয়ে আপনার জন্য গ্র্যান্ট, বেনিফিটের ব্যবস্থায় সহায়তা করতে পারে যথাযথ প্রক্রিয়া এবং সহজভাবে। তবে বর্তমানে এই চ্যারিটি কোভিট-১৯ এর কারণে আবেদন অতিরিক্তহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় খুব বিজি। সেক্ষেত্রে তাদের ওয়েবসাইটে ক্লিক করলেই  আপনাকে একটা রেফারেন্স নাম্বার দিবে। সেই নাম্বার আপনি লিখে রেখে যথাযথভাবে স্টেপ বাই স্টেপ তথ্য ক্লিক করে দিলে আপনার আবেদনের কাজ তারা শুরু করে দিবে আপনা আপনি। সাবমিট বাটনে যখন ক্লিক করবেন তখন আপনার লিখে রাখা রেফারেন্স নাম্বার দিয়ে পরবর্তীতে আপনি যোগাযোগ করতে পারবেন বা জানতে পারবেন।