যমদূত করোনার মহামারীতে ইটালিতে আরো এক বাংলাদেশী সহ ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ৭৬০ জন

প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২০ | আপডেট: ৭:৩৮:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২০

তুহিন মাহমুদ । ইটালি বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন টাইমস ।করোনাভাইরাসে ইতালিতে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত আছে।বৃহস্পতিবার একজন বাংলাদেশী সহ মোট প্রানহারিয়েছে ৭৬০জন।গতকাল বুধবার প্রাণহানির সংখ্যা ছিলো মোট ৭২৭জন। মঙ্গলবার এ সংখ্যা ছিল ৮৩৭ জন। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৯১৫ জন। একদিনে নতুন আক্রান্ত চার হাজার ৬৬৮ জন। দেশটিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা চার হাজার ৫৩জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ৪৩১জন। চিকিৎসাধীন ৮৩হাজার ৪৯ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ১৫হাজার ২৪২জন। নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকার করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৮হাজার ২৭৮জন।

আজ মিলান সানপাওলো হাসপাতালে মজিবুর রহমান নামে এক বাংলাদেশীর মৃত্যুর খবর জানা গেছে।তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়।তিনি দীর্ঘদিন যাবত মিলান শহরে বসবাসরত ছিলেন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৪৬ বছর।

ইতালির ২১ অঞ্চলের মধ্যে লোম্বারদিয়ায় করোনার সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত (মিলান, বেরগামো, ব্রেসিয়া, ক্রেমনাসহ) ১১টি প্রদেশ। আজ এ অঞ্চলে মারা গেছে ৩৬৮ জন। শুধু এ অঞ্চলেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে সাত হাজার ৯৬০জনে দাঁড়িয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬হাজার ৬৫জন। আজ মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ২৯২ জন।
এদিকে গতকাল প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তে গতকাল বুধবার টেলিকনফারেন্সে সাংবাদিকদের ভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন,লকডাউন আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া পূর্বঘোষিত পদক্ষেপে ‘জরুরি’ সরবরাহ ব্যবস্থা ছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল, সড়ক ও রেলপথ বাদে সব ধরনের নির্মাণ কাজও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বাড়ির বাইরে সব ধরনের খেলাধুলা ও ব্যায়াম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দেশের এই দূর্যোগময় সময়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং দেশের জনগণের পাশেই আছেন তিনি বলে জানান। করোনা মহামারিতে যারপরনাই ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির ৬০ মিলিয়ন জনতার অর্থনৈতিক জীবন চাকা সচল রাখতে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্যও পৃথক সুসংবাদ দিয়েছেন।
দেশের সকল মিউনিসিপালিটির স্যোশাল (সলিডারিটি) ফান্ডের জন্য মোট ৪.৩ বিলিয়ন ইউরো আগাম বরাদ্দ দেয়ার ঘোষণা দেন।দীর্ঘদিন যাদের কাজ নেই,খাবার কেনার অর্থ নেই এমন হতদরিদ্র লোকদের জন্য সিভিল প্রটেকশন ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে আলাদা করে আরও ৪০০ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।যাদের কাজ নেই কিংবা কাজের স্থানে পর্যাপ্ত কাজ না থাকায় দীর্ঘদিন বাসায় বসে আছেন তারা নিজ নিজ পৌরসভার মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারবেন।
এদিকে গত সপ্তাহে ঘোষিত ৫০ বিলিয়ন ইউরোর মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ইতোমধ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে দেশের সকল ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও চাকরিজীবীদের জন্য যারা মহামারির কারণে এখন বাধ্যতামূলক ঘরে বসে আছেন। প্রাথমিকভাবে বরাদ্দকৃত এই ২৫ বিলিয়ন ইউরো এপ্রিলের শুরু থেকেই পৌঁছতে শুরু করবে যার যার একাউন্টে। করোনা মহামারিতে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য ইতালিয়ান সরকার পেশাভিত্তিক বিভিন্ন বোনাসও ঘোষণা করেছেন বলে তিনি জানান।
লোম্বারদিয়ার প্রেসিডেন্ট আত্তিলিয়ো ফোনতানা বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বেরগামো ফেয়ারাকে নতুন হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে হাসপাতাল উদ্বোধন করা হবে। বাণিজ্যিক রাজধানী মিলানের বিখ্যাত ফিয়েরা মিলানো সিটি পরিণত হয়েছে ইতালির সবচাইতে বড় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে।২০০ আইসিইউ বেড সম্বলিত অত্যাধুনিক এই হাসপাতালটি পলি ক্লিনিকের তত্বাবধানে ২০০ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৫০০ অভিজ্ঞ নার্স এবং ২০০ স্বাস্থ্যকর্মী চব্বিশ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবেন ভয়ংকর জীবাণু কোভিড-১৯ আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের বাঁচাতে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশের এই দুর্দিনে ৭ হাজার ২২০ জন অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মী স্বাস্থ্যসেবা দিতে করোনা আক্রান্তদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।এছাড়াও করোনায় আক্রান্তদের সহযোগিতায় আলবেনিয়া, চীন ,কিউবা এবং রাশিয়া থেকে আগত মেডিকেল টিম ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘন্টায় ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রাণ হারানোর সংখ্যা( মোট) ফ্রান্স -( ৪০৩২) স্পেন ৬১৬ (১০০০৩)জন, জার্মান ৬৬( ৯৯৭)জন, ইংল্যান্ড ৫৬৯(২৯২১)জন, সুইজারল্যান্ড ৩৪(৫২২)জন, বেলজিয়াম ১৮৩(১০১১)জন, হল্যান্ড ১৬৬(১৩৩৯)জন, অস্ট্রিয়া ১২(১৫৮)জন, পর্তুগাল ২২(২০৯)জন, নরওয়ে চার(৪৮)জন, সুইডেন ৪৩(২৮২)জন, ডেনমার্ক ১৯(১২৩)জন, পোল্যান্ড ৮(৫১), রোমানিয়া ২(৯৪), গ্রিস ২(৫৩),ফিনল্যান্ড ২(১৯) জন,স্লোভেনিয়া ২(১৭)জন।