স্টেপনির হওথ্রনগ্রিন কেয়ার হোমে করোনা ভাইরাসে জমশেদ আলী সহ ৭ জনের মৃত্যুঃআরও ২১ জন অসুস্থ্য

প্রকাশিত: ৬:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০ | আপডেট: ১১:২১:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০

লন্ডন টাইমস। লন্ডন অফিস। সূত্র ইভনিং ষ্ট্যান্ডার্ড, বিবিসি ।  করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ব্রিটেনের ইষ্ট লন্ডনের স্টেপনি গ্রিনে অবস্থিত হওথ্রনগ্রিন কেয়ার হোমে পূর্বলন্ডনের বাংলদেশী প্রবাসী জমশেদ আলী সহ ৭জন মারা গেছেন। এই কেয়ার হোমে আরও ২১জনের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমের সন্দেহ করা হচ্ছে, তারা অসুস্থ্য অবস্থায় আছেন।

এই কেয়ার হোমে ৫০ জন রেসিডেন্ট থাকেন। বাংলাদেশী ছাড়াও বিভিন্ন এথনিক মাইনরোটি এই হোমের এর বাসিন্দা। তবে এই কেয়ার হোমের ১২ জন কর্মী করোনা সন্দেহে হয় আইসোলেশনে অথবা করোনা শিল্ডিং এ আছেন বলে জানিয়েছে ইভনিং ষ্ট্যান্ডার্ড।

কেয়ারহোমের একজন মুখপাত্র ইভনিং ষ্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, সারা বিশ্বের ন্যায় ব্রিটেনও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এই হওথ্রনগ্রিন কেয়ার হোম এখন করোনার সিম্পটমে আক্রান্তদের দেখাশুনা করছে।

দুঃখজনকভাবে এই রেসিডেন্টের ৭ জন মৃত্যুবরন করছেন এই ভাইরাসে, এখন আরও ২১জন এই সিম্পটমে আক্রান্ত, যাদের সেবা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, যাদের সিম্পটম কফ ও উচ্চ তাপমাত্রা লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, তাদের সাথে সাথেই আইসোলেশনে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান দেয়া হয়, যাতে অন্যদের সংক্রমিত থেকে রক্ষা করা যায়।

এই  কেয়ার হোমের বাসিন্দা ৮০ বছরের জমশেদ আলী দুঃখজনকভাবে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জমশেদ আলী ১৯৬২ সালে বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে পাড়ি দিয়েছিলেন। তিনি এই কেয়ার হোমে গত ৩ বছর ধরে বসবাস করছিলেন।

চ্যানেল এইট করোনা ভাইরাস #হটলাইন নিউজ-৯ এপ্রিল ২০২০

গত ২৪শে মার্চ চেস্ট ইনফেকশন নিয়ে তিনি রয়াল লন্ডন হাসপাতালে ভর্তি হলে ডায়াগনোস্টিকের পর ধরা পরে তিনি কোভিড-নাইন্টিনে আক্রান্ত।

জামসেদ আলীর ৫১ বছর বয়সী কন্যা লুতফা হুড ইভনিং ষ্ট্যান্ডার্ডকে বলেছেন, আমরা জানতাম এই ভাইরাস বাবাকে ধরলে তিনি আর বাঁচবেন না। কেয়ার হোম নিরাপদ না জানলে হাসপাতাল থেকে যখন তিনি ছাড়া পেয়েছিলেন উনারে সেখানে ফিরে যেতে দিতাম না।এনএইচএস- ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের এইসব ওল্ড কেয়ার হোমে থাকা বাসিন্দাদের জন্য আরও বেশি করে টেষ্ট ফ্যাসিলিট নিশ্চিত করা উচিত বলে মনে করেন জমসেদ আলীর শোকাহত কন্যা লুতফা।

Luthfa Hood

জমশেদ আলী স্ত্রী, চার সন্তান, ১২ জন নাতি নাতনী রেখে গেছেন। তার গ্র্যান্ড ডটার শাহারা ইসলাম ২০০৫ সালে সেভেন সেভেন সন্ত্রাসি বোমা হামলায় টেভিস্টোক বাসস্টপে ৩০ নম্বর বাসে নিহত হয়েছিলেন।

বার্কিং-ডেগেনহাম এমপি মার্গারেট হজ সরকারের কাছে তার আসনের কেয়ার হোম ও কেয়ার সেন্টারে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের স্বল্পতার সমাধান চেয়ে চিঠি লিখেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, একই অ্যাপ্রন  ও ফেইস মাস্ক বারবার ধুয়ে পড়ার এবং কিছু কিছু কেয়ার হোম ও সেন্টারে কোনো মাস্ক বা হ্যান্ডস গ্লাভস না থাকা।

ডিপার্টম্যান্ট অব হেলথ এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ব্রিটেনের ২৬ হাজার কেয়ার হোমে ব্যক্তিগত-(পিপিই) সুরক্ষা সরঞ্জাম পাঠিয়েছেন।

https://www.bbc.co.uk/news/uk-england-london-52216646